বর্ধমান: প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির প্রতিকৃতি পোড়ানোকে কেন্দ্র করে তৈরি হওয়া রাজনৈতিক দ্বন্দ্বের জেরে তুলকালাম কাণ্ড বাধল পূর্ব বর্ধমানের ভাতাড় বাজারে (Bhatar CPM workplace vandalism)। রবিবার বিকেলে বিজেপির একটি প্রতিবাদ মিছিলকে কেন্দ্র করে ভাতাড়ের সিপিএমের এরিয়া কমিটির কার্যালয়ে ভাঙচুর চালানোর গুরুতর অভিযোগ উঠল। এই ঘটনার জেরে এলাকায় চরম উত্তেজনা ছড়ালে সিপিএমের পক্ষ থেকে ভাতাড় থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়। যদিও বিজেপির তরফ থেকে সমস্ত অভিযোগ সম্পূর্ণ অস্বীকার করা হয়েছে।
প্রশাসন ও স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, প্রায় সপ্তাহখানেক আগে ভাতাড়ে সিপিএমের একটি রাজনৈতিক কর্মসূচি চলাকালীন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির প্রতিকৃতি পোড়ানো হয় বলে অভিযোগ ওঠে। সেই ঘটনার তীব্র প্রতিবাদ জানান স্থানীয় বিজেপি কর্মীরা। অভিযোগ ছিল, প্রতিবাদ করতে গেলে সেই সময় বিজেপি কর্মীদের মারধর করা হয়।
এই ঘটনার পরেই বিজেপির পক্ষ থেকে ভাতাড় থানায় একটি নির্দিষ্ট অভিযোগ দায়ের করা হয়। সেই অভিযোগের ভিত্তিতে পুলিশ শনিবারই সিপিএমের ভাতাড় ১ নম্বর এরিয়া কমিটির সম্পাদক নজরুল হককে গ্রেপ্তার করে।
সিপিএম নেতা গ্রেপ্তারের প্রতিবাদে এবং ওই ঘটনার বিরুদ্ধে রবিবার বিকেলে ভাতাড় বাজারে একটি প্রতিবাদ মিছিলের ডাক দেয় বিজেপি। মিছিলে উপস্থিত ছিলেন ভাতারের বিধায়ক সৌমেন কার্ফা, বিজেপির সাংগঠনিক বর্ধমান জেলা কমিটির সভাপতি অভিজিৎ তা সহ দলের অন্যান্য শীর্ষ নেতৃত্ব।
সিপিএমের যুবনেতা সাদ্দাম শেখের অভিযোগ, বিজেপির এই মিছিল চলাকালীন তাদের দলীয় কার্যালয়টি বন্ধ ছিল এবং সেই সময় দলের সমস্ত সদস্য অন্য একটি কর্মসূচিতে ব্যস্ত ছিলেন। এই সুযোগকেই কাজে লাগিয়ে বিজেপির মিছিল থেকে কয়েকজন এসে তাদের দলীয় কার্যালয়ে ব্যাপক ভাঙচুর চালায় এবং কার্যালয়ের ভেতরে কেরোসিন তেল ছড়িয়ে দিয়ে যায়। সিপিএম নেতৃত্বের দাবি, কার্যালয়ে আগুন লাগানোর সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনা নিয়েই এই হামলা চালানো হয়েছে। ঘটনার পর অবিলম্বে নিরপেক্ষ তদন্ত ও দোষীদের শাস্তির দাবি জানিয়ে ভাতাড় থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছে সিপিএম।
অন্যদিকে, সিপিএমের সমস্ত অভিযোগ উড়িয়ে দিয়েছে বিজেপি নেতৃত্ব। বিজেপির তপসিলি মোর্চার রাজ্য কমিটির সদস্য রাজকুমার হাজরা স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন যে, তাঁদের দলের কোনো কর্মী বা সমর্থক এই ভাঙচুরের ঘটনার সঙ্গে বিন্দুমাত্র যুক্ত নন। বিজেপি সবসময় হিংসার রাজনীতি থেকে দূরে থাকে বলে দাবি করে তিনি এই ঘটনার একটি নিরপেক্ষ পুলিশি তদন্তের দাবি জানিয়েছেন, যাতে আসল সত্য সামনে আসে।

