উত্তরবঙ্গ সংবাদ অনলাইন ডেস্কঃ নিটের (NEET) প্রশ্নফাঁস বিরোধী আন্দোলন এবং শিক্ষা ক্ষেত্রে দুর্নীতির প্রতিবাদে উত্তাল হয়েছিল রাজধানী। সেই আন্দোলন বর্তমানে থিতিয়ে এলেও, সমাজমাধ্যমে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিকে নিশানা করে কুরুচিকর পোস্ট বা শালীনতার মাত্রা ছাড়ানো মন্তব্যের বিরুদ্ধে এবার কঠোর পদক্ষেপ শুরু করল দিল্লি পুলিশ (Delhi Police motion social media posts)। ইতিমধ্যেই একাধিক সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্মকে নোটিস পাঠিয়ে সেই সমস্ত ভিডিয়ো, ছবি ও কমেন্ট চিহ্নিত করে তা দ্রুত সরিয়ে ফেলার ব্যবস্থা করা হচ্ছে। দিল্লি পুলিশের একটি বিশেষ দল এই কাজের জন্য সর্বক্ষণ নজরদারি চালিয়ে যাচ্ছে।
শিক্ষায় দুর্নীতির প্রতিবাদ এবং কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের ইস্তফার দাবিতে ‘ককরোচ জনতা পার্টি’ (CJP)-র ব্যানারে যন্তর মন্তরের সামনে দীর্ঘক্ষণ অবস্থান বিক্ষোভ চলে। সারা দেশের তরুণ প্রজন্ম ও ছাত্রছাত্রীরা এই আন্দোলনে স্বতঃস্ফূর্তভাবে শামিল হন। গত ২০ জুলাই সিজেপি-র ডাকে সংসদ ভবন অভিযানকে কেন্দ্র করে রণক্ষেত্রের রূপ নেয় দিল্লি। প্রায় ১০ হাজার মানুষের সেই মিছিলে পুলিশের লাঠিচার্জ ও ‘অতিরিক্ত বলপ্রয়োগ’ নিয়ে ব্যাপক রাজনৈতিক বিতর্ক ও হাইকোর্টে মামলা গড়ায়।
অবশেষে আন্দোলনের তীব্র চাপের মুখে গত শনিবার পিছু হটে কেন্দ্র। পদ থেকে ইস্তফা দেন শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধান এবং আন্দোলন প্রত্যাহার করে নেয় সিজেপি।
সিজেপি-র আন্দোলন প্রত্যাহারের অন্যতম প্রধান শর্ত ছিল আন্দোলনকারীদের বিরুদ্ধে দায়ের হওয়া সমস্ত এফআইআর ও আইনি পদক্ষেপ প্রত্যাহার করা। কেন্দ্রের তরফে মন্ত্রী জেপি নাড্ডা এবং জিতেন্দ্র সিং প্রাথমিক ভাবে এই বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলেও, এখনও তার আনুষ্ঠানিক নির্দেশ হাতে পায়নি দিল্লি পুলিশ। ফলে এফআইআরগুলি আনুষ্ঠানিকভাবে প্রত্যাহার করা হয়নি।
তারই মধ্যে সমাজমাধ্যমের নজরদারি ও কড়া পদক্ষেপ জারি রেখেছে প্রশাসন। সিজেপি-র প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দীপকে আগেই সাফ জানিয়ে দিয়েছিলেন যে, সংসদ ভবন অভিযানে বলপ্রয়োগের জন্য পুলিশ ও র্যাফকে প্রকাশ্যে ক্ষমা চাইতে হবে এবং নিটের কারণে আত্মঘাতী পড়ুয়াদের পরিবারকে এক কোটি টাকা ক্ষতিপূরণ দিতে হবে। কেন্দ্র মৌখিক আশ্বাস দিলেও লিখিত নির্দেশ না আসায় এবং অন্যদিকে পুলিশ সমাজমাধ্যমের পোস্ট ধরে কড়া ব্যবস্থা নেওয়ায় পরিস্থিতি এখনও পুরোপুরি শান্ত হয়নি বলেই মনে করা হচ্ছে।

