উত্তরবঙ্গ সংবাদ ডিজিটাল ডেস্ক : সমাজমাধ্যমে বিয়ের ছবি দিয়ে নতুন জীবন শুরুর ঘোষণা করেছিলেন বিজেপি বিধায়ক তথা অভিনেতা হিরণ চট্টোপাধ্যায় (Hiran Chatterjee)। কিন্তু সেই আনন্দের রেশ কাটতে না কাটতেই আইনি বৈধতার প্রশ্নে বড়সড় ধাক্কা খেল এই ‘হাই-প্রোফাইল’ বিয়ে। হিরণের প্রথম স্ত্রী অনিন্দিতা চট্টোপাধ্যায়ের দাবি ছিল, ডিভোর্স হয়নি। আর বুধবার অদ্ভুতভাবে সেই দাবিতেই পরোক্ষ সিলমোহর দিলেন হিরণের বর্তমান সঙ্গিনী হৃতিকা গিরি (Ritika Giri)।
হিরণের দ্বিতীয় বিয়ে নিয়ে সমাজমাধ্যমে যখন তোলপাড় চলছে, তখন হিরণের হয়ে ব্যাট ধরতে নেমেছিলেন হৃতিকা। কিন্তু তাঁর বক্তব্য পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার বদলে আইনি জটিলতাকে আরও প্রকট করে তুলেছে। সমাজমাধ্যমে হৃতিকা স্পষ্ট লিখেছেন, “অনিন্দিতাকে বিবাহবিচ্ছেদের আইনি নোটিস আগেই পাঠানো হয়েছে।” আইনজ্ঞদের মতে, ‘নোটিস পাঠানো’ এবং ‘আইনি বিচ্ছেদ সম্পন্ন হওয়া’—দুটি সম্পূর্ণ ভিন্ন মেরুর বিষয়। হৃতিকার এই স্বীকারোক্তি কার্যত অনিন্দিতার অভিযোগকেই সত্য প্রমাণ করে যে, কাগজে-কলমে এখনও হিরণ বিবাহিত। তবে ঘটনার নাটকীয়তা এখানেই শেষ নয়। দুই স্ত্রীর বয়ানে উঠে এসেছে সম্পূর্ণ ভিন্ন দুটি চিত্রনাট্য। অনিন্দিতার দাবি, হিরণ নিয়মিত বাড়িতে আসতেন। ২০২৫-এর নববর্ষও তাঁরা একসঙ্গে পালন করেছেন। হিরণ তাঁকে বলেছিলেন, হৃতিকা নামের মেয়েটি তাঁকে ‘ব্ল্যাকমেল’ করছে। সংসার বাঁচাতে অনিন্দিতা চুপ ছিলেন। অন্যদিকে হৃতিকার পাল্টা দাবি, গত ৫ বছর ধরে তাঁরা লিভ-ইন বা সম্পর্কে আছেন। অনিন্দিতা সব জেনেও চুপ ছিলেন। ঋতিকার প্রশ্ন, “আমার প্রোফাইল তো পাবলিক ছিল, তখন কেন প্রশ্ন তোলেননি উনি?”
বিতর্কের মাঝে নিজের বর্তমান অবস্থার কথাও জানিয়েছেন হৃতিকা। তিনি জানান, সম্প্রতি তাঁর একটি অস্ত্রোপচার হয়েছে এবং চিকিৎসকের পরামর্শে বিশ্রামে আছেন। মানসিক অস্থিরতা ও শারীরিক অসুস্থতার মধ্যেও তিনি সমাজমাধ্যমে জবাব দিতে বাধ্য হচ্ছেন কারণ তাঁর বয়স ও বিয়ে নিয়ে ভুল তথ্য ছড়ানো হচ্ছে। বারাণসীর ঘাটে সিঁদুরদান হলেও, ভারতীয় দণ্ডবিধি অনুযায়ী প্রথম স্ত্রী বর্তমান থাকা অবস্থায় এবং আইনি বিচ্ছেদ ছাড়া দ্বিতীয় বিয়ে অবৈধ। হৃতিকা ‘নোটিস’ পাঠানোর কথা বলে অজান্তেই হিরণকে আইনি প্যাঁচে ফেলে দিলেন কি না, সেটাই এখন বড় প্রশ্ন। বিধায়কের ব্যক্তিগত জীবনের এই চিত্রনাট্য কোনো সিনেমার চেয়ে কম রোমাঞ্চকর নয়।
