বর্ধমান: ছটপুজোর (Chhath Puja 2025) ভোরে ভাগীরথীতে পূণ্যস্নান করতে নেমে তলিয়ে গেল দুই ভাই। মঙ্গলবার ভোরে মর্মন্তিক ঘটনাটি ঘেটেছে পূর্ব বর্ধমানের (Bardhaman) কাটোয়ার দেবরাজ ঘাটে। তলিয়ে যাওয়া দু’জনের নাম শিবম সাউ (২৫) ও সুজন সাউ (২০)। এমন ঘটনার পর ভাগীরথীর ঘাটেই কান্নায় ভেঙে পড়েন সাউ পরিবারের সদস্যরা।
পুলিশ (Police) সূত্রে জানা গেছে, ভাগীরথীতে তলিয়ে যাওয়া দুই ভাই কাটোয়া ন্যাশনালপাড়ার বাসিন্দা। ব্যবসায়ী মনোজ সাউয়ের দুই ছেলে মেয়ের মধ্যে শিবম ছিলেন বড় আর মনোজের ভাই রঞ্জিত সাউয়ের দুই ছেলের মধ্যে বড় ছেলে হলেন সুজন। ব্যবসার তাগিদে রঞ্জিত সাউ মুর্শিদাবাদ জেলার সালারে থাকেন। ছটপুজো উপলক্ষ্যে তিনি বাড়িতে এসেছিলেন। ছটপুজো দেওয়ার আগে পূণ্যস্নান সারার জন্য সাউ পরিবারের সদস্যরা এদিন ভোর পাঁচটা নাগাদ ভাগীরথীর দেবরাজ ঘাটে স্নান করতে এসেছিলেন। একে একে সবাই স্নান করে উঠে পড়লেও শিবম ও সুজন নদীর স্রোতে তলিয়ে যান।
নিখোঁজ দুই তরুনের কাকা প্রসেনজিৎ সাউ আক্ষেপ বলেন, ‘আমি ছেলে দুটোকে বাঁচানোর অনেক চেষ্টা করেছিলাম। কিন্তু নদীর স্রোত এতটাই প্রবল ছিল যে আমার হাত ফস্কে গিয়ে ওরা তলিয়ে যায়।’
এলাকার বাসিন্দাদের অভিযোগ কাটোয়ার দেবরাজঘাট অত্যন্ত বিপদজনক। প্রায়ই প্রাণহানির ঘটনা ঘটলেও পূণ্যার্থীদের নিরাপত্তার ব্যাপারে পুরসভা ও প্রশাসন স্থায়ী কোনও ব্যবস্থা নেয়নি। প্রতি বছরই ধর্মীয় স্নান বা পুজোর সময় কাটোয়ার দেবরাজ ঘাটে প্রাণহানির ঘটনা ঘটেই চলেছে।
এদিকে ঘটনার খবর পেয়ে কাটোয়া মহকুমা প্রশাসন ও বিপর্যয় মোকাবিলা দপ্তরের লোকেরা দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে যায়। ডুবুরি সাহায্যে ভাগীরথীতে নদীতে জোর কদমে চলছে তল্লাশি। তবে সকাল গড়িয়ে দুপুর হতে চললেও দুই ভাইয়ের সন্ধান এখনও মেল নি। নদীর ধারে উদ্বিগ্ন হয়ে অপেক্ষা করছেন সাউ পরিবারের সদস্য ও পরিজনরা ।
