উত্তরবঙ্গ সংবাদ অনলাইন ডেস্কঃ একদিকে ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার দু’বছর পূর্তিতে প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ভার্চুয়াল বার্তা ঘিরে তীব্র অস্বস্তিতে পড়েছে ঢাকা। অন্যদিকে, সেই একই দিনে ভারতের কাছে পাইপলাইনে আরও বেশি জ্বালানি সরবরাহের আনুষ্ঠানিক অনুরোধ জানাল বাংলাদেশ (Bangladesh requests India extra gas)। বৃহস্পতিবার ঢাকায় সচিবালয়ে ভারতের রাষ্ট্রদূতের সঙ্গে বৈঠকের পর বাংলাদেশের জ্বালানিমন্ত্রীর এই আর্জি নতুন করে রাজনৈতিক ও কূটনৈতিক মহলে চর্চার কেন্দ্রবিন্দুতে চলে এসেছে।
ঢাকায় সচিবালয়ে ভারতের রাষ্ট্রদূত দীনেশ ত্রিবেদীর সঙ্গে উচ্চপর্যায়ের বৈঠক করেন বাংলাদেশের বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজসম্পদমন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ। বৈঠক শেষে বাংলাদেশি মন্ত্রী জানান, বর্তমানে ভারতের সঙ্গে বিদ্যমান পাইপলাইনের মাধ্যমেই বাংলাদেশে ডিজেল আমদানি করা হয়। তবে দেশের ক্রমবর্ধমান জ্বালানির চাহিদা বিবেচনা করে সেই সরবরাহ আরও বাড়ানোর জন্য দিল্লির কাছে অনুরোধ জানানো হয়েছে।
পাশাপাশি, সাম্প্রতিক গ্যাস সংকটের কারণে কিছু বিদ্যুৎকেন্দ্র সাময়িকভাবে বন্ধ হয়ে গেলেও পুনরায় গ্যাস সরবরাহ শুরু হওয়ায় সেগুলি চালুর প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে বলে জানান তিনি। এছাড়া, সাম্প্রতিক সময়ে ভারত থেকে আমদানি করা ১১ হাজার টন চালের মধ্যে ৩ হাজার ৫০০ টন চাল খালাস হলেও বাকি চালের মান নিয়ে প্রশ্ন তুলে তা ফেরত পাঠানোর তোড়জোড় চলছে। একদিকে ভারতীয় চালের মান নিয়ে আপত্তি এবং অন্যদিকে পাইপলাইনে অতিরিক্ত জ্বালানি আমদানির জন্য দিল্লির কাছে এহেন দৌত্যকে অনেকেই বৈপরীত্য হিসেবে দেখছেন।
গত ৫ আগস্ট, অর্থাৎ ২০২৪ সালের ছাত্র আন্দোলনের জেরে ক্ষমতাচ্যুত হয়ে দেশ ছাড়ার দু’বছর পূর্তিতে দিল্লির ফরেন করেসপন্ডেন্টস ক্লাব থেকে ভার্চুয়ালি মুখ খোলেন শেখ হাসিনা। ‘‘আমি মুজিবর কন্যা বলছি, আমি বাংলাদেশে ফিরবই…’’ তাঁর এই হুংকারের পরেই নড়েচড়ে বসে ঢাকা। হাসিনার এই মন্তব্যের পর বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী সরকারের পক্ষ থেকে ক্ষোভ প্রকাশ করে বলা হয়েছে, শেখ হাসিনাকে দেশে ফিরিয়ে এনে বিচারের মুখোমুখি করার যে অনুরোধ ঢাকাল তরফে করা হয়েছিল, নয়াদিল্লি তাতে এখনও পর্যন্ত কোনো গুরুত্ব বা পাত্তা দিচ্ছে না।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, একদিকে শেখ হাসিনার প্রত্যর্পণ নিয়ে ভারতের সঙ্গে কূটনৈতিক টানাপোড়েন এবং অন্যদিকে দেশের অর্থনৈতিক ও জ্বালানি চাহিদা মেটাতে ভারতের ওপর নির্ভরতা—দুই মিলিয়ে ঢাকা ও দিল্লির পারস্পরিক সম্পর্কের এই ‘টক-ঝাল’ রসায়ন আগামী দিনে কোন দিকে মোড় নেয়, সেটাই এখন দেখার বিষয়।

