পরিষদীয় দলের থেকে রাজনৈতিক দলের গুরুত্ব বেশি, সুপ্রিম পর্যবেক্ষণে ভেস্তে যাবে ঋতব্রতদের অঙ্ক?

পরিষদীয় দলের থেকে রাজনৈতিক দলের গুরুত্ব বেশি, সুপ্রিম পর্যবেক্ষণে ভেস্তে যাবে ঋতব্রতদের অঙ্ক?

ইন্ডিয়া খবর/INDIA
Spread the love


শিব সেনার নেতৃত্ব সংক্রান্ত মামলার শুনানিতে রাজনৈতিক গণতন্ত্র গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন নিয়ে তুলল সুপ্রিম কোর্ট। প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্তের নেতৃত্বাধীন বেঞ্চ এদিন গুরুত্বপূর্ণ পর্যবেক্ষণে জানায়, শিবসেনার সাংগঠনিক কাঠামো তৈরি হয়েছিল মূলত গণতান্ত্রিক নীতির উপর দাঁড়িয়ে। পরে সংবিধান সংশোধনের মাধ্যমে দলটি কার্যত ‘এক ব্যক্তিকেন্দ্রিক’ কাঠামোয় পরিণত হয়।

প্রধান বিচারপতির প্রশ্ন, সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানগুলিকে যদি গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ মেনে চলতে হয়, রাজনৈতিক দলগুলিও কি সেই নীতি মেনে চলবে না? অন্যদিকে বিচারপতি জয়মাল্য বাগচীর মন্তব্য, একসময় দলবদলকে ‘সাংবিধানিক পাপ’ বলা হলেও এখন তা যেন গর্বের অলঙ্কার হয়ে উঠেছে। এই প্রবণতা নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করে বেঞ্চ। বিচারপতিরা বলেন, শুধুমাত্র সংখ্যাগরিষ্ঠতা আছে এই যুক্তিতে মূল রাজনৈতিক দলের নির্দেশকে অবমাননা করে কিছু বিধায়ক বা সাংসদ নিজেদের মতো সিদ্ধান্ত নিতে পারে না।

আরও পড়ুন:

রাজনৈতিক কারবারিদের বক্তব্য, তৃণমূল কংগ্রেসের কালীঘাট বনাম ঋতব্রত, এনসিপিআই এই অচলাবস্থাতেও এই পর্যবেক্ষণ বেশ ইঙ্গিতপূর্ণ। বাংলায় তৃণমূলে ভাঙনের শুরুটা হয়েছিল পরিষদীয় দল দিয়েই। ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বে তৃণমূল পরিষদীয় দলের একটা বড় অংশ মূল রাজনৈতিক দল অর্থাৎ তৃণমূলের শীর্ষ নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের উপর আস্থা হারিয়ে আলাদা গোষ্ঠী গঠন করে। সেই গোষ্ঠীর নেতা ঋতব্রতকে বিরোধী দলনেতার মর্যাদাও দিয়ে দেন স্পিকার রথীন্দ্র বোস। একই রকমভাবে লোকসভাতেও আলাদা গোষ্ঠী তৈরি হয়েছে তৃণমূলের। যারা নিজেদের এনসিপিআই হিসাবে ঘোষণা করেছে।

এখন প্রশ্ন হল, শিব সেনার ক্ষেত্রে সুপ্রিম কোর্ট যে পর্যবেক্ষণ করেছে, সেই একই রকম পর্যবেক্ষণ যদি বাংলার তৃণমূলের ক্ষেত্রেও করা হয়, তাহলে কি ঋতব্রত-কাকলিদের সব অঙ্ক ভেস্তে যেতে পারে? অবশ্য পালটা যুক্তিও আছে ঋত শিবিরের। তাঁদের দাবি, শুধু পরিষদীয় দল নয়, মূল রাজনৈতিক দলও তাঁদেরই সঙ্গে। ইতিমধ্যেই নিজেদের মতো করে দলের জাতীয় কর্মসমিতির বৈঠকও করেছেন তাঁরা। নিজেদের মতো করে কমিটিও গড়েছেন। এখন দেখার নির্বাচন কমিশন কী সিদ্ধান্ত নেয়। একটা জিনিস পরিষ্কার কমিশন যে সিদ্ধান্তই নিক, বিষয়টি শীর্ষ আদালত পর্যন্ত গড়াবে।

আরও পড়ুন:

সর্বশেষ খবর

নিয়মিত খবরে থাকতে ফলো করুন





Source link

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *