পঙ্কজ মহন্ত, বালুরঘাট: প্রতিশ্রুতি ছিল, এবার কাজ শুরুর পালা। বালুরঘাটে মেডিকেল কলেজ (Balurghat medical faculty building) তৈরির জন্য স্বাস্থ্য ভবনকে টেন্ডার ডাকার নির্দেশ দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী (CM Suvendu Adhikari)। বুধবার বালুরঘাটে এসে শুভেন্দু যখন মেডিকেল কলেজ নিয়ে কাজ শুরুর কথা জানান, তখন তাঁর মুখে কিন্তু উঠে এসেছে ভোটেরই কথা। মুখ্যমন্ত্রীর দাবি, চলতি বছরের ডিসেম্বরের মধ্যেই মেডিকেল কলেজ তৈরির কাজ শুরু হয়ে যাবে। ২০২৯ সালের লোকসভা নির্বাচনের অনেক আগেই তৈরিও হয়ে যাবে। তাঁর বাচনভঙ্গিতেই স্পষ্ট, আগামী লোকসভা ভোটে বালুরঘাটে এই মেডিকেল কলেজই বিজেপির (BJP) প্রচারের অন্যতম ‘হাতিয়ার’ হতে চলেছে।
শুভেন্দুর সফরের আগে হাসপাতাল চত্বরের বিভিন্ন জায়গায় বড় বড় হোর্ডিং টাঙানো হয়েছিল। তাতে প্রস্তাবিত মেডিকেল কলেজের পরিকাঠামোর ছবি ও পরিকল্পনা তুলে ধরা হয়। ছাত্রাবাস, ওপিডি বিল্ডিং, নার্সিং হস্টেল, ট্রেনিং স্টাফ কোয়ার্টার, অ্যাকাডেমিক বিল্ডিং সহ বিভিন্ন পরিকাঠামোর জায়গা চিহ্নিত করে দেখানো হয়েছিল। এদিকে, মুখ্যমন্ত্রীর আসার আগেই সকাল সকাল বালুরঘাটে পৌঁছান রাজ্যের স্বাস্থ্যমন্ত্রী শারদ্বত মুখোপাধ্যায় এবং স্বাস্থ্যসচিব নারায়ণস্বরূপ নিগম। তাঁরা সরাসরি বালুরঘাট জেলা হাসপাতালে গিয়ে বিভিন্ন পরিষেবা ও পরিকাঠামো খতিয়ে দেখেন। হাসপাতালের জরুরি বিভাগে গিয়ে মুমূর্ষু রোগী আচমকা এলে কীভাবে দ্রুত চিকিৎসা শুরু হয়, কোন পরিস্থিতিতে কী ওষুধ বা ইনজেকশন দেওয়া হয়, কর্তব্যরত চিকিৎসক ও নার্সিং স্টাফদের কাছে সে সব বিষয়ে খোঁজ নেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী। রোগীদের জন্য বরাদ্দ খাবার নিজে খেয়ে তার মান যাচাই করেন। পাশাপাশি রোগীর পরিজনদের সঙ্গে কথা বলে হাসপাতালের পরিষেবা সম্পর্কে তাঁদের অভিজ্ঞতা জানতে চান। পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার বিষয়েও নজর দেন তিনি। পরিদর্শন শেষে হাসপাতালের পরিষেবা নিয়ে মোটের উপর সন্তোষ প্রকাশ করেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী।
তাঁর সফর ঘিরে এদিন সকাল থেকেই হাসপাতাল চত্বরে ছিল তৎপরতা। উপস্থিত ছিলেন জেলা মুখ্য স্বাস্থ্য আধিকারিক ডাঃ সুদীপ দাস, বালুরঘাটের বিধায়ক বিদ্যুৎকুমার রায় সহ স্বাস্থ্য দপ্তরের আধিকারিকরা। স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, ‘বাড়িতে অতিথি এলে পরিচ্ছন্নতার দিকে বিশেষ নজর দেওয়া হয়। একটু তো সে রকমটা করা হবেই। কিছু জায়গায় আমি নিজেও সন্দেহ প্রকাশ করেছি। কিন্তু সত্যি বলতে, অন্য পরিষেবাগুলিও দেখেছি যথেষ্ট ভালো রয়েছে।’
এর পর প্রশাসনিক বৈঠক সেরে সন্ধ্যায় বালুরঘাট জেলা হাসপাতালে পৌঁছান মুখ্যমন্ত্রী। সেখানে মেডিকেল কলেজের প্রস্তাবিত জায়গা ও পরিকাঠামো নিয়ে আধিকারিকদের সঙ্গে কথা বলেন তিনি। মুখ্যমন্ত্রী জানান, স্বাস্থ্যমন্ত্রী এবং স্বাস্থ্যসচিব আগেই এসে হাসপাতাল পরিদর্শন করে গোটা বিষয়টি দেখে নিয়েছেন। মেডিকেল কলেজ তৈরির জন্য ইতিমধ্যেই স্বাস্থ্য ভবনকে টেন্ডার ডাকার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। মুখ্যমন্ত্রীর কথায়, ‘২০২৯ সালে যে লোকসভা ভোট হবে, এখানে যে সাংসদ আছেন, তাঁর নেতৃত্বেই হবে। ভোটের অনেক আগেই মেডিকেল কলেজ তৈরি হয়ে যাবে।’ মুখ্যমন্ত্রীর এই ঘোষণার পরই বালুরঘাটে শুরু হয়েছে রাজনৈতিক চর্চা। কথা দিয়ে কথা রাখার বিষয়টিও ভোটের আগে তুলে ধরতে চাইবে বিজেপি, এমনটাই মনে করা হচ্ছে।

