বালুরঘাট: রবিবার ছুটির দিনে সমবায় সমিতির নির্বাচনকে (Balurghat Cooperative Election) কেন্দ্র করে নজিরবিহীন অশান্তি দেখল দক্ষিণ দিনাজপুরের (South Dinajpur) বালুরঘাট। শহরের অভিযাত্রী ক্লাব সংলগ্ন এলাকায় আয়োজিত এই নির্বাচন ঘিরে দুপুর গড়াতেই ব্যাপক উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। অভিযোগ, তৃণমূল কংগ্রেস সমর্থিত পশ্চিমবঙ্গ রাজ্য সরকারি কর্মচারী ফেডারেশনের সদস্যরা জোর করে বুথে ঢুকে ব্যালট পেপার ছিনতাই করে এবং দেদার ছাপ্পা ভোট দেয়। বাধা দিতে গেলে বাম সমর্থিত প্রার্থীদের এবং ভোটারদের বেধড়ক মারধর করে কেন্দ্র থেকে বের করে দেওয়া হয় বলে গুরুতর অভিযোগ উঠেছে (TMC vs Left)।
স্থানীয় সূত্রে খবর, এদিন সকালের দিকে ভোটগ্রহণ প্রক্রিয়া কিছুটা শান্তিপূর্ণভাবে শুরু হলেও, বেলা বাড়তেই পরিস্থিতি উত্তপ্ত হতে শুরু করে। বাম সমর্থিত কো-অর্ডিনেশন কমিটির অভিযোগ, শাসকদলের বহিরাগত দুষ্কৃতীরা আচমকাই ভোটকেন্দ্রে তান্ডব (Ballot Violence) শুরু করে। সাধারণ ভোটারদের ভয় দেখানো হয় এবং লাইন থেকে জোর করে বের করে দেওয়া হয়। অভিযোগ, চোখের সামনে এমন ঘটনা ঘটলেও পুলিশ ও প্রশাসন ছিল নির্বাক দর্শকের ভূমিকায়। পরিস্থিতি হাতের বাইরে চলে যাচ্ছে দেখে এবং কর্মীদের নিরাপত্তার কথা ভেবে শেষমেশ ভোট বয়কটের ডাক দেয় বামেরা।
বাম সংগঠনের এক নেতা ক্ষোভ উগরে দিয়ে বলেন, “এটা নির্বাচন নয়, প্রহসন। আমাদের এজেন্টদের মারধর করে বের করে দেওয়া হয়েছে। সাধারণ ভোটাররা আতঙ্কে ভোট না দিয়েই ফিরে গেছেন। গণতন্ত্রকে হত্যা করা হলো আজ। আমরা এই নির্বাচনের ফলাফল মানব না এবং প্রশাসনের কাছে লিখিত অভিযোগ দায়ের করছি।” ঘটনার প্রতিবাদে বাম কর্মী-সমর্থকরা এলাকা ছেড়ে বেরিয়ে যান।
অন্যদিকে, বিরোধীদের তোলা সমস্ত অভিযোগ ফুৎকারে উড়িয়ে দিয়েছে শাসকদল। তৃণমূল সমর্থিত ফেডারেশনের নেতৃত্বের দাবি, ভোট সম্পূর্ণ শান্তিপূর্ণ হয়েছে। হারের ভয় পেয়েই বিরোধীরা মিথ্যা অপপ্রচার চালাচ্ছে। এক তৃণমূল নেতার কথায়, “বামেরা জানে তাদের পায়ের তলায় মাটি নেই। তাই ভোটের দিন অশান্তি পাকিয়ে সংবাদমাধ্যমের শিরোনামে আসার চেষ্টা করছে। সাধারণ মানুষ স্বতঃস্ফূর্তভাবেই ভোট দিয়েছেন।”
এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে রবিবার বিকেল পর্যন্ত বালুরঘাট শহরের ওই এলাকায় থমথমে পরিবেশ বজায় ছিল। খবর পেয়ে বিশাল পুলিশ বাহিনী ঘটনাস্থলে পৌঁছায়। তবে সমবায় ভোটের মতো ছোট নির্বাচনেও এমন হিংসাত্মক ঘটনা সাধারণ মানুষের মনে প্রশ্নের উদ্রেক করেছে।
