পঙ্কজ মহন্ত, বালুরঘাট: বিখ্যাত হিন্দি ছবি স্বদেশ-এ শাহরুখ খান অভিনীত চরিত্র মোহন ভার্গব নিজের জন্মভূমিতে ফিরে এসেছিলেন কিছু করে দেখানোর তাগিদে। ঠিক তেমনই শিকড়ের টানেই বালুরঘাটে (Balurghat) ফিরেছে মুম্বইয়ের ধীরুভাই আম্বানি ইন্টারন্যাশনাল স্কুলের দশম শ্রেণির ছাত্রী কাব্য মজুমদার। বিশ্ব রোবোটিক্সের (Robotics) মঞ্চে দেশের মুখ উজ্জ্বল করে এবার সে নিজের মাটিতে ফিরেছে ভবিষ্যতের বীজ বুনতে। কাব্য ওয়ার্ল্ড রোবোটিক্স চ্যাম্পিয়নশিপে প্রথমবার চ্যাম্পিয়ন হওয়া ভারতীয় দলের অন্যতম সদস্য। এখন সে দক্ষিণ দিনাজপুরের সরকারি ও বেসরকারি বিভিন্ন স্কুলে ঘুরে ঘুরে রোবোটিক্স নিয়ে শিক্ষাদান করছে। আগামী ১৫ দিন ধরে বালুরঘাট শহর ও শহর সংলগ্ন এলাকার নানা স্কুলে তার কর্মসূচি চলবে।
ইতিমধ্যে চিঙ্গিশপুর উচ্চবিদ্যালয়, পতিরাম উচ্চবিদ্যালয় এবং তিওড় কৃষ্ণাষ্টমী উচ্চবিদ্যালয়ে কর্মশালা হয়ে গিয়েছে। সোমবার একটি ইংরেজিমাধ্যম স্কুলের পাশাপাশি আগামীতে শতাব্দী প্রাচীন বালুরঘাট উচ্চবিদ্যালয়েও রোবোটিক্স নিয়ে বক্তৃতা দেওয়ার কথা রয়েছে কাব্যর।
রোবোটিক্সের প্রাথমিক ধারণায়, কীভাবে একটি সাধারণ রোবট কাজ করে, কীভাবে যন্ত্রপাতি তৈরি হয় সেসবই শেখানো হচ্ছে। উদ্দেশ্য একটাই, ছোট থেকেই পড়ুয়াদের মধ্যে রোবোটিক্স নিয়ে কৌতূহল ও সৃষ্টিশীল মন তৈরি করে দেওয়া, যাতে তাঁরাও ভবিষ্যতে দেশের হয়ে প্রতিনিধিত্ব করার সুযোগ পায়।
কাব্য বলল, ‘আমার রোবটিক্সের শিক্ষাকে সকলের সঙ্গে ভাগ করে নেওয়ার জন্য আমি বালুরঘাটে এসেছি। বিভিন্ন স্কুলে গিয়ে ছাত্রছাত্রীদের সঙ্গে কথা বলছি। রোবোটিক্সের বেসিক জিনিস শিখিয়ে বানানোর সুযোগ দিচ্ছি। উপকরণ ও কিট দিয়ে নিয়মিত যোগাযোগও রাখব। রোবোটিক্সের প্রতি সকলের আগ্রহ তৈরি করাই আসল উদ্দেশ্য।’ কাব্যের বাবা শুভব্রত মজুমদার একটি ব্যাংকের ম্যানেজিং ডিরেক্টর পদে কর্মরত। মা তানিয়া মজুমদার একসময় সফটওয়্যার ইঞ্জিনিয়ার হিসাবে কাজ করলেও কাব্যর ভবিষ্যৎ ও আগ্রহকে প্রাধান্য দিতে নিজের কর্মজীবন ছেড়ে বর্তমানে মেয়ের পাশে দাঁড়িয়েছেন। কাব্যর পরিবার জানাচ্ছে, মায়ের হাত ধরেই তাঁর রোবোটিক্স ও সফটওয়্যারের জগতে প্রবেশ।
যদিও জেলার স্কুলগুলিতে আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স সম্পর্কে অল্প শিক্ষা দেওয়া শুরু হলেও রোবোটিক্স নিয়ে তেমন কোনও পড়াশোনা চালু হয়নি। ইতিমধ্যেই কাশ্মীরে হাজারেরও বেশি ছাত্রছাত্রীকে সে রোবোটিক্স শিক্ষার আওতায় এনেছে। তবে মূলত কৃষি, জলবায়ু পরিবর্তন, পরিবেশ সংরক্ষণ, জল ব্যবস্থাপনা, আবহাওয়ার তথ্য সংগ্রহ থেকে শুরু করে ভবিষ্যতে জেলার ভূগর্ভস্থ জলে ফ্লুরোসিসের সমস্যার সমাধানে জেলায় এই প্রযুক্তি কাজে লাগানোর স্বপ্ন দেখছে কাব্য।
