পঙ্কজ মহন্ত, বালুরঘাট: বিয়ের মরশুমে আয়ের দিশা সাজগোজে। পার্লার থেকে শুরু করে এখন মেকআপ স্টুডিওর পথে হাঁটছে বালুরঘাট (Balurghat)। চাহিদার চাপ এত বেশি যে বছরখানেক আগে থেকে বুক করে রাখতে হচ্ছে মেকআপ অর্টিস্টদের। নাহলে তাঁরা কাজের চাপে পরের দিকে আর নতুন বুকিং নিতে পারছেন না। সাজের জন্য স্টুডিওতে ডাকা হচ্ছে কনেকে। কারও কারও মতে, বাড়িতে গিয়ে মেকআপ করতে সময় অপচয় হয়, তাই স্টুডিওতে এসে সাজানোই ভালো। আর সঠিক আলো, সহকারী ও সরঞ্জামের সুবিধা তো আছেই। আর শুধু বিয়ের দিন, বাসি বিয়ে বা বৌভাতের অনুষ্ঠান নয়, তার আগে হলদি, মেহেন্দি বা সংগীতানুষ্ঠানেও ডাক পড়ছে সেই মেকআপ আর্টিস্টদের, নেটিজেনদের কাছে যাঁদের সংক্ষিপ্ত চালু নাম হল মুয়া।
শখের বিষয় আর নেই, মেকআপ আজ যেন বিয়েবাড়ির অবিচ্ছেদ্য অংশ। নববধূদের সাজের খরচ ১০ হাজার থেকে ৩০ হাজার টাকার মধ্যে ঘোরাফেরা করছে। গেস্ট মেকআপ, পার্টি লুকের চাহিদাও কম নয়। এইচডি, আল্ট্রা এইচডি, এয়ার ব্রাশ- নানা প্রযুক্তির মেকআপের দিকে ঝুঁকছে কনে ও তাঁর বান্ধবী, আত্মীয়পরিজনরা। ভারী মেকআপের চেয়ে এখন চাহিদা বেশি স্কিন টোন অনুযায়ী স্বাভাবিক, স্নিগ্ধ লুকের। শ্যামলা রঙিন মেয়েরাও আর ফর্সা হওয়ার দৌড়ে নেই। তবে প্রসাধনীর স্থায়িত্বের জন্য ওয়াটার রেজিস্ট্যান্ট মেকআপের চাহিদা তুঙ্গে।
মেকআপ আর্টিস্ট দেবারতি চৌধুরীর কথায়, ‘স্টুডিওতেই কাজের মান ঠিক থাকে। আলো, টিম, সরঞ্জাম সব পাওয়া যায়। বাইরে গেলে সময় যেমন বেশি লাগে, তেমন চাপেও পড়তে হয়।’ ফেব্রুয়ারিতে যেমন একটা বিয়ের দিনে ১৬ জায়গায় বুকিং রয়েছে তাঁর। এই অবস্থায় বাইরে মেকআপ করা অসম্ভব। সাফ কথা দেবারতির।
এই চাহিদার জোয়ারে ভর দিয়ে বালুরঘাটের শিল্পীদের কর্মক্ষেত্র শুধু জেলার মধ্যেই সীমাবদ্ধ নেই আর। গঙ্গারামপুর, বুনিয়াদপুর, রায়গঞ্জ পেরিয়ে মালদা, শিলিগুড়ি এমনকি কলকাতাতেও ডাক পড়ছে তাঁদের। তারপরেও অনেক ক্লায়েন্টকেই জানিয়ে দিতে হচ্ছে ‘তারিখ নেই’।
মেকআপ আর্টিস্ট পায়েল দে’র কথায়, ‘আগে শুধু কনে সাজত। এখন তার সঙ্গে মা, বোন, অন্যান্য আত্মীয়, সবাই মেকআপ করান। তিন-চার ধরনের লুক বুক করেন অনেকে। সেমি ব্রাইডাল, ওয়েডিং ড্রেস লুক খুব জনপ্রিয়।’ পায়েলের মতো শিল্পীরা জানালেন, কেবল বিয়ে নয়, আইবুড়োভাত থেকে অন্নপ্রাশন সব অনুষ্ঠানেই এখন মেকআপ দরকার।
আরেক মেকআপ আর্টিস্ট রূপার্জিতা চক্রবর্তী তাঁর কাজের হিসেব দিচ্ছিলেন। বললেন, ‘নভেম্বরে ১৬ জনকে সাজিয়েছি। ডিসেম্বরে বর্ধমান আর কলকাতায় যেতে হবে। এক বছর আগেই সবাই বুকিং করেন।’ তবে স্টুডিওয় সাজানো প্রসঙ্গে তাঁর আবার ভিন্ন মত। বললেন, ‘অনেক বাড়িতে গায়ে হলুদের পর কনেকে বাইরে বেরোতে দেয় না। তাই বাড়িতে গিয়েই সাজাতে হয়। এখন স্নিগ্ধ, হালকা লুকই সব থেকে জনপ্রিয়। কল্কার ভারী ঘনঘটা আর চলে না।’
বালুরঘাটে মেকআপ এখন যেন ইন্ডাস্ট্রি। তা এখন শুধু সৌন্দর্যচর্চা নয়, এক বিশাল প্রতিযোগিতার ক্ষেত্রও বটে। চাহিদা যেমন বাড়ছে, তেমনই আয়ের নতুন দিগন্ত খুলে যাচ্ছে।
