অনীক চৌধুরী, জলপাইগুড়ি: বছরের শেষে শহরজুড়ে চলছে বড়দিনের তোড়জোড় (Jalpaiguri)। শহরের দোকানগুলিও হরেকরকম ক্রিসমাসের সামগ্রীতে সেজে উঠেছে। কেকের দোকানগুলিতে যেমন হরেকরকম ক্রিসমাস থিমের কেক পাওয়া যাচ্ছে তেমনি গিফট আইটেমের দোকানগুলিতেও দেখা মিলছে লাল-সাদা টুপি, ক্রিসমাস ট্রি সহ একাধিক সামগ্রীর। তবে এবছর বড়দিনের বিশেষ আকর্ষণ হল লাইটিং ক্যাপ। দোকানগুলিতে বাহারি লাইটিং ক্যাপ পাওয়া যাচ্ছে। যেমন, কিছু লালা-সাদা টুপিতে আলো জ্বলছে, আবার কিছু হেয়ার ব্যান্ডের মাথায় রয়েছে সান্তাক্লজের মুখ বা হরিণের শিং। সেগুলিতেও আলো জ্বলে। এই জিনিসগুলির এবছর বেশ চাহিদা রয়েছে। এছাড়াও দোকানগুলিতে মিলছে বিভিন্ন সাইজের ক্রিসমাস ট্রি, স্টার, বিভিন্ন আকারের ঘণ্টা, সান্তাক্লজের মুখোশ, এমনকি সান্তাক্লজের পোশাকও।
এই জিনিসগুলির দাম কেমন জিজ্ঞেস করতে ব্যবসায়ীরা জানাচ্ছেন, খুব একটা বেশি নয়। লাল-সাদা ক্রিসমাস টুপিগুলি বিক্রি হচ্ছে ২০-৬০ টাকা দরে। যদিও যে টুপিগুলিতে আলো জ্বলে সেগুলির দাম একটু বেশি। এই ধরনের টুপিগুলি ১০০-১২০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। এছাড়াও ব্যাগে ঝোলানোর যে ছোট ছোট সান্তাক্লজগুলি পাওয়া যাচ্ছে সেগুলির দাম শুরু হচ্ছে ৪০ টাকা থেকে। ক্রিসমাস ট্রি সাজানোর বিভিন্ন রংয়ের বলের প্যাকেটগুলি ৫০-১২০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। ছোট থেকে বড় বিভিন্ন সাইজের ক্রিসমাস ট্রিও পাওয়া যাচ্ছে। কিছু কিছু ক্রিসমাস ট্রিতে আবার আলোও জ্বলে। মেরি ক্রিসমাস লেখা ব্যানারও বিক্রি হচ্ছে দোকানগুলিতে। কিছু কিছু ব্যানারেও আবার আলো জ্বলে। এগুলি একেকটি একেক দামে বিক্রি হচ্ছে। সাইজ অনুযায়ী সান্তাক্লজগুলি ১০-৭০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। বিভিন্ন সাইজের স্টারগুলি ১০ টাকা থেকে শুরু করে ৬০০ টাকায় পাওয়া যাচ্ছে। এছাড়া আরও হরেকরকমের ঘর সাজানোর উপকরণ দোকানগুলিতে পাওয়া যাচ্ছে।
দিনবাজারের ব্যবসায়ী সৌরভ চক্রবর্তী জানান, এখনও পর্যন্ত এই ধরনের ঘর সাজানোর উপকরণগুলি বেশ ভালোই বিক্রি হয়েছে। সান্তাক্লজের ড্রেসগুলি ১৫০ থেকে শুরু করে ৫০০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। আরেক ব্যবসায়ী বিকাশ সেন বলেন, ‘এবছর বড়দিনের বিশেষ আকর্ষণ হল রকমারি লাইটিং ক্যাপ। এছাড়াও ক্রিসমাস ট্রি সাজানোর বিভিন্ন জিনিসের চাহিদা বেশ ভালোই রয়েছে।’
শহরের বাসিন্দা শুভাঙ্গি রায় বলেন, ‘বহুদিন ধরেই আমরা বাড়িতে বড়দিন পালন করি। এবছরও ঘর সাজানোর জন্য ক্রিসমাস ট্রি, ছোট সান্তাক্লজ সহ হরেকরকমের জিনিস কিনেছি।’
শহরের একটি কেকের দোকানের মালিক দীপক শর্মার কথায়, ‘বড়দিন উপলক্ষ্যে ইতিমধ্যেই কয়েকজন কেকের অর্ডার দিয়েছেন। আবার ছোট ছোট কেকগুলিও বিক্রি হচ্ছে। প্রতি বছর এই সময়টার জন্যই অপেক্ষা করে থাকি আমরা।’ বড়দিন উপলক্ষ্যে শহরের বিভিন্ন রাস্তাকে আলোয় মোড়ার কাজ শুরু হয়েছে।
