Balurghat | বিয়ে পাকা, কার্ড বিলি থেকে প্যান্ডেলের বায়নাও সম্পূর্ণ, ঠিক দু’সপ্তাহ আগে প্রেমিকের হাত ধরে পলায়ন! তারপর থানাতেই যা হল…

শিক্ষা
Spread the love


সুবীর মহন্ত, বালুরঘাট: থানা থেকে বেরোচ্ছেন নববধূ। পাশে নতুন স্বামী। আচমকাই কয়েকজন মহিলা তাঁকে ঘিরে ধরলেন। মুহূর্তের মধ্যে শুরু হল মারধর। প্রেমিকের সামনেই তরুণীকে চড়-থাপ্পড় মারতে শুরু করলেন এক মহিলা! হইচই, চ্যাঁচামেচিতে থমকে গেলেন পথচলতি মানুষ। কী হয়েছে, তা জানতে মুহূর্তে থানার সামনে ভিড় জমে গেল। পরে অবশ্য পুলিশের হস্তক্ষেপে পরিস্থিতি সামাল দেওয়া হয়। আর তখনই সামনে আসে ঘটনার নেপথ্যকাহিনী।

কী সেই কাহিনী? বিয়ের কার্ড ছাপা ও বিলি, প্যান্ডেল-রান্নার বায়না, আত্মীয়দের নিমন্ত্রণ- সবই সারা। আগামী ২৭ সেপ্টেম্বর বিয়ের দিনও ঠিক করা হয়ে গিয়েছে। ঠিক তার সপ্তাহ দুয়েক আগে অন্য তরুণের হাত ধরে পালিয়ে গেলেন তরুণী। মন্দিরে গিয়ে চুপিসারে প্রেমিকের সঙ্গে বিয়েও সেরে ফেললেন হবু পাত্রী। সেই ঘটনায় ব্যাপক চটেছে পাত্রপক্ষ। শুক্রবার সেই তরুণী থানায় হাজিরা দিয়ে বেরোনোর সময় তাই তাঁর ওপর চড়াও হন তাঁরা। সবার আগে চড়-থাপ্পড় মারতে শুরু করেন পাত্রের দিদি।

স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, বালুরঘাট (Balurghat) শহর লাগোয়া একটি গ্রামের এক তরুণের সঙ্গে অন্য গ্রামের ওই তরুণীর বিয়ে ঠিক হয়েছিল। ওই তরুণীর পিসির বাড়ি পাত্রের গ্রামেই। সেই সুবাদেই গত শ্রাবণ মাসে দুজনের দেখাশোনা হয়। দুই পরিবারের সম্মতিতে বিয়ের কথাবার্তা পাকা হয়। পাত্রপক্ষের দাবি, ছেলের বাবা বিয়ের খরচ জোগাতে জমি বন্ধক রেখে টাকা তুলেছিলেন। কিন্তু বিয়ের কয়েক দিন আগে থেকেই আচমকা বদলে যায় পাত্রীর আচরণ। হবু পাত্রের দাবি, প্রায় তিন-চারদিন ধরে তাঁর সঙ্গে ঠিকমতো ফোনে কথা বলছিলেন না তরুণী। বৃহস্পতিবার রাতে আচমকা ফাঁস হয়ে যায় পাত্রীর চুপচাপ থাকার সেই ‘রহস্য’। বালুরঘাটেরই অন্য একটি গ্রামের এক তরুণের সঙ্গে পালিয়ে যান ওই তরুণী। পরে একটি মন্দিরে গিয়ে ওই তরুণকে বিয়েও করেন।

ঘটনা জানাজানি হতেই দুই পরিবারের মধ্যে উত্তেজনা তৈরি হয়। শুক্রবার সকালে সেই তরুণী স্বামীকে নিয়ে বালুরঘাট থানায় আসেন। নতুন দম্পতি পুলিশকে জানান, তাঁরা সাবালক। স্বেচ্ছায় তাঁরা একে অপরকে বিয়ে করেছেন। কিন্তু থানা থেকে বেরোনোর পরই পরিস্থিতি আচমকা বদলে যায়। অভিযোগ, কয়েকজন মহিলা ওই তরুণীকে ঘিরে ধরেন। পাত্রের দিদি তরুণীকে মারধর শুরু করেন। পাশে দাঁড়িয়েছিলেন তাঁর হলেও হতে পারত স্বামীও। চিৎকার-চ্যাঁচামেচি শুনে থমকে যান পথচারীরা। পুলিশের হস্তক্ষেপে পরিস্থিতি শান্ত হলে নতুন স্বামীর সঙ্গেই চলে যান সেই তরুণী।

পথচারী অনুপ রঞ্জন পাল বলেন, ‘আচমকা দেখলাম এক তরুণীকে কয়েকজন মহিলা ঘিরে ধরে মারছেন। পরে শুনি, ওঁদের বিয়ে ভেঙে গিয়েছে এবং ওই তরুণী অন্যত্র বিয়ে করেছেন।’

মারধরের ঘটনায় পাত্রের দিদির দাবি, ‘এমন বিশ্বাসভঙ্গ করার জন্য আমি আর নিজের মেজাজ ঠিক রাখতে পারিনি। আমাদের মানসম্মান চলে গেল। টাকাপয়সারও অনেক ক্ষতি হয়ে গেল।’ অন্যদিকে, পাত্রীর পরিবারও অসহায়। সেই পরিবারের এক সদস্যের কথায়, ‘আমরা তো আত্মীয়স্বজনকে নিমন্ত্রণ করে বেড়াচ্ছি। মেয়ে যে এমন কাণ্ড করবে, তা আমরা নিজেরাও বুঝতে পারিনি।’



Source link

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *