বালুরঘাট: মোবাইলের গ্লাস কভারের একটি ছোট কাচের টুকরো চোখে ঢুকেছিল। কিন্তু চিকিৎসকদের চরম গাফিলতি ও উদাসীনতায় সেই সামান্য আঘাতই কেড়ে নিল দক্ষিণ দিনাজপুরের (South Dinajpur) ১০ বছরের এক শিশুর একটি চোখ! বালুরঘাট (Balurghat) জেলা হাসপাতালের বিরুদ্ধে এমনই চাঞ্চল্যকর ও মর্মান্তিক অভিযোগ তুলেছে ভুক্তভোগী পরিবার। এই ঘটনায় তীব্র অসন্তোষ ছড়িয়েছে এলাকায়।
জানা গেছে, দক্ষিণ পতিরামের বাসিন্দা দশ বছরের মানব বর্মনের চোখে হঠাৎ করেই মোবাইলের গ্লাস কভারের একটি ক্ষুদ্র কাচের টুকরো ঢুকে যায়। সঙ্গে সঙ্গে তাকে চিকিৎসার জন্য বালুরঘাট জেলা হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। পরিবারের অভিযোগ, সেসময় হাসপাতালের চিকিৎসকরা চোখ থেকে কাচের টুকরোটি বের করলেও কোনো রকম প্রয়োজনীয় ও উন্নত চিকিৎসা না করেই তাকে তড়িঘড়ি বাড়ি পাঠিয়ে দেন।
বাড়ি ফেরার কয়েক দিনের মধ্যেই শিশুটির চোখে মারাত্মক সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়ে এবং তীব্র যন্ত্রণা শুরু হয়। এরপর উন্নত চিকিৎসার জন্য কলকাতায় নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করা হলেও যথাসময়ে সুব্যবস্থা না মেলায় বাধ্য হয়ে তাকে নেপালে নিয়ে যান পরিবারের লোকজন। সেখানে চিকিৎসকরা পরীক্ষা করে জানান যে, শিশুটির চোখটি আর বাঁচানো সম্ভব নয়। এমনকি দ্রুত অন্য চোখেও সংক্রমণ (Eye An infection) ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা থাকায় শেষপর্যন্ত অস্ত্রোপচার করে ক্ষতিগ্রস্ত চোখটি চিরতরে বাদ দিতে বাধ্য হন চিকিৎসকরা।
বৃহস্পতিবার ১০ বছরের সন্তানের এই দুরবস্থার জন্য দায়ী অভিযুক্ত চিকিৎসকদের কঠোর শাস্তি এবং উপযুক্ত ক্ষতিপূরণের দাবি জানিয়ে জেলা হাসপাতালের সুপারের দ্বারস্থ হয়েছে শোকার্ত পরিবার।
অন্যদিকে, সমস্ত অভিযোগ উড়িয়ে দিয়ে অভিযুক্ত চিকিৎসকের দাবি, তাঁদের তরফ থেকে কোনো ধরনের গাফিলতি করা হয়নি। প্রয়োজনীয় প্রাথমিক চিকিৎসার পরেই রোগীকে বাইরে রেফার করা হয়েছিল বলে সাফাই দিয়েছেন তিনি। এদিকে সাধারণ মানুষের ক্ষোভ ও ঘটনার গুরুত্ব বুঝে পুরো বিষয়টি খতিয়ে দেখতে একটি তদন্ত কমিটি গঠন করেছে জেলা স্বাস্থ্য দপ্তর।

