Balurghat | বালুরঘাটের লাইফলাইন মোটরকালী সেতু এখন মরণফাঁদ, উদ্বিগ্ন এলাকাবাসী 

Balurghat | বালুরঘাটের লাইফলাইন মোটরকালী সেতু এখন মরণফাঁদ, উদ্বিগ্ন এলাকাবাসী 

আন্তর্জাতিক INTERNATIONAL
Spread the love


বালুরঘাট: বিভিন্ন অংশে রেলিংয়ের চাঙর খসে পড়েছে। এক জায়গায় ভাঙা রেলিংয়ের একাংশ তৈরি করেছে শূন্যস্থান। বিভিন্ন অংশে দেখা দিচ্ছে ফাটলও। বালুরঘাটের (Balurghat) প্রাণকেন্দ্রে মোটরকালী সেতুর (Motor Kali Bridge) দৃশ্য এমনই বিপর্যস্ত হয়ে উঠছে দিন-দিন। আত্রেয়ী খাঁড়ির উপর দাঁড়িয়ে শহরের দুই প্রান্তকে যুক্ত রাখা এই সেতু এখন আতঙ্কের কারণ নাগরিক থেকে জেলার নানা প্রান্তের যাত্রীদের কাছে। এমনকি সেতুর লোহার রড বেরিয়ে এসেছে। বেশ কয়েক বছর আগে বিপজ্জনকের তকমা লাগিয়ে এই সেতুর মেরামত হলেও সুরাহা হয়নি কিছুই। এরই মধ্যে বিপদের ভ্রূকুটি উড়িয়ে সেতুর ওপর দিয়েই প্রতিনিয়ত জারি রয়েছে সাধারণ মানুষ থেকে ভারী যানবাহন চলাচল। স্থানীয়দের দাবি, দ্রুত সেতুটি পরীক্ষার পর ফের বিপজ্জনক ঘোষণা করে মেরামতের কাজ শুরু করা হোক। বালুরঘাট পুরসভার তরফেও শীঘ্রই বিষয়টি নিয়ে এগোনোর আশ্বাস মিলেছে।

স্থানীয় সূত্রে উঠে এসেছে, প্রায় ৬০ বছর আগে নির্মিত এই সেতুর একপাশে সরকারি ও বেসরকারি বাসস্ট্যান্ড। অন্যপাশে জেলা প্রশাসনিক ভবন, আদালত, থানা, স্কুল-কলেজ সহ সরকারি ও বেসরকারি একাধিক প্রতিষ্ঠান। ফলে নিত্যযাত্রীর সঙ্গে প্রতিদিন অসংখ্য মানুষের ভরসা এই সেতু।

বহু বছর আগে কয়েক দফায় এই সেতুর মেরামত করা হয়েছে ঠিকই। কিন্তু এখন সেতুর অবস্থা যেই কে সেই। বছর সাতেক আগে মাঝেরহাট সেতু দুর্ঘটনার পর নড়েচড়ে বসেছিল প্রশাসন। পূর্ত ও সেচ দপ্তরের উদ্যোগে জেলার সেতুগুলির দিকে বিশেষ নজর দেওয়া হয়েছিল। জেলা প্রশাসনের তরফে সেতুগুলির স্বাস্থ্য পরীক্ষার কাজ শুরুর পর মেরামতি হলেও সময়ের সঙ্গে সঙ্গে তা বদলেছে জরাজীর্ণ চেহারায়। ক্রমশ সেতুর ফাটল আকারে বাড়ছে। রেলিংয়ের অংশ খসে পড়ে লোহার রড বেরিয়ে পড়ছে। মাঝেমধ্যে মেরামত হলেও বড়সড়ো সংস্কার হয়নি বলে দাবি স্থানীয়দের।

স্থানীয় অঞ্জনা সরকার বলেন, ‘এই সেতুর উপর দিয়ে অনবরত প্রশাসনের একাধিক গাড়ি যাতায়াত করে। কিন্তু বিষয়টি তাঁদের নজরে পড়ে না। দীর্ঘদিন ধরে সেতুটি বেহাল অবস্থায় পড়ে রয়েছে। কিন্তু প্রশাসনের হেলদোল নেই। এই সেতুটি নিয়ে আমরা আতঙ্কে।’ দ্রুত সেতুটি মেরামতের দাবিতে সরব বাসিন্দারা। তিন বছর আগে তৎকালীন পুরসভার চেয়ারম্যান অশোক মিত্র বিষয়টি নিয়ে পূর্ত দপ্তরের সঙ্গে কথা বলার আশ্বাস দিলেও এখনও কোনও কাজের দেখা নেই বলে অভিযোগ।

স্থানীয় এক দোকানদার দুলাল সাহার কথায়, ‘ভগ্নপ্রায় এই সেতুর উপর দিয়ে অনবরত বড় গাড়ির যাতায়াত বন্ধ করা উচিত। এই সেতুর বড় ক্ষতি হলে পাশের দোকানগুলি ক্ষতিগ্রস্ত হবে।’

পুরসভার চেয়ারম্যান সুরজিৎ সাহার বক্তব্য, ‘আমার কাছে ওই সেতু নিয়ে লিখিত অভিযোগ জমা পড়েছে। কিন্তু বিভিন্ন সরকারি কাজে পুরকর্মীরা ব্যস্ত হয়ে আছেন। সাতদিনের মধ্যেই ইঞ্জিনিয়ারকে সেখানে পাঠিয়ে রিপোর্ট তৈরি করা হবে। সেখানে যা যা প্রয়োজন ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’



Source link

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *