বালুরঘাট: খাকি পোশাকের আড়ালে যে এক দয়ালু হৃদয় লুকিয়ে থাকে, আবারও তার প্রমাণ দিল দক্ষিণ দিনাজপুর (South Dinajpur) জেলার বালুরঘাট থানার পুলিশ। পথ ভুলে বিহার থেকে বালুরঘাটে (Balurghat) চলে আসা এক মানসিক ভারসাম্যহীন যুবককে উদ্ধার করে পাঁচ দিনের নিরন্তর প্রচেষ্টায় তাঁর পরিবারের হাতে তুলে দিল পুলিশ প্রশাসন। সোমবার এই ঘটনা এলাকায় ব্যাপক প্রশংসিত হয়েছে।
পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, উদ্ধার হওয়া ওই যুবকের নাম রাকেশ পাণ্ডে। তাঁর বাড়ি বিহার রাজ্যের গোপালগঞ্জ জেলার বানিয়া গ্রামে। প্রায় তিন মাস আগে মানসিকভাবে অসুস্থ রাকেশ বাড়ি থেকে বেরিয়ে আর ফেরেননি। দীর্ঘ সময় ধরে পরিবারের সদস্যরা তাঁকে হন্যে হয়ে খুঁজছিলেন। সম্প্রতি বালুরঘাট শহরের রাস্তায় উদ্দেশ্যহীনভাবে ঘুরে বেড়াতে দেখা যায় তাঁকে। স্থানীয়দের কাছ থেকে খবর পেয়ে বালুরঘাট থানার পুলিশ তাঁকে উদ্ধার করে নিয়ে আসে।
থানায় নিয়ে আসার পর প্রথমদিকে যুবকটি নিজের সঠিক পরিচয় বা ঠিকানা বলতে পারছিলেন না। তবে দীর্ঘ সময় ধরে জিজ্ঞাসাবাদের পর তিনি অস্পষ্টভাবে নিজের গ্রামের নাম জানান। সেই সূত্র ধরে বালুরঘাট থানার পুলিশ বিহার পুলিশের সঙ্গে যোগাযোগ স্থাপন করে। প্রযুক্তিকে হাতিয়ার করে অবশেষে ভিডিও কলের মাধ্যমে যুবকের পরিবারের সাথে সংযোগ তৈরি হয়। পরিবারের সদস্যরা তাঁকে শনাক্ত করার পর সোমবার বালুরঘাটে এসে পৌঁছান তাঁর ভাই দুর্গেশ পাণ্ডে। আইনি প্রক্রিয়া শেষে ভাইকে ফিরে পেয়ে আবেগে আপ্লুত হয়ে পড়েন তিনি।
ভাই দুর্গেশ পাণ্ডে পুলিশের এই মানবিক উদ্যোগের ভূয়সী প্রশংসা করে বলেন, “তিন মাস ধরে দাদাকে খুঁজে পাচ্ছিলাম না। বালুরঘাট থানার ফোন পেয়ে তাঁকে ফিরে পেলাম। পুলিশের এই উদ্যোগের জন্য আমরা কৃতজ্ঞ।”
বালুরঘাট থানার পুলিশের এই উদ্যোগ সাধারণ মানুষের মধ্যে নিরাপত্তা ও আস্থার জায়গা আরও সুদৃঢ় করল। খাকি পোশাকের এই মানবিক (Humanity) মুখ সোশ্যাল মিডিয়াতেও ব্যাপকভাবে প্রশংসিত হচ্ছে।

