Balaram Mandir Historical past | ২০০ বছরের প্রাচীন বলরাম মন্দিরে বেহাল দশা, সংস্কারের অভাবে অবহেলিত নাটাবাড়ির ঐতিহাসিক পুণ্যক্ষেত্র

Balaram Mandir Historical past | ২০০ বছরের প্রাচীন বলরাম মন্দিরে বেহাল দশা, সংস্কারের অভাবে অবহেলিত নাটাবাড়ির ঐতিহাসিক পুণ্যক্ষেত্র

শিক্ষা
Spread the love


তুফানগঞ্জ: ২০০ বছরের প্রাচীন ঐতিহ্য, মানুষের অগাধ বিশ্বাস আর অলৌকিক মাহাত্ম্য— সব যেন আজ মুখ থুবড়ে পড়েছে। দেবত্র ট্রাস্ট বোর্ডের অধীনে থেকেও কার্যত অবহেলিত তুফানগঞ্জ (Tufanganj)-১ ব্লকের নাটাবাড়ি (Natabari)-১ গ্রাম পঞ্চায়েতের ভুচুংমারি গ্রামের শতাব্দীপ্রাচীন বলরাম মন্দির (Balaram Mandir Historical past)। সংস্কারের অভাবে খসে পড়ছে চাঙড়। রয়েছে পর্যাপ্ত আলোর অভাব। ভোগ রান্নার ঘরেরও বেহাল দশা। পুণ্যার্থীদের বিশ্রামাগারের ছাদ চুইয়ে পড়ছে বৃষ্টির জল। আগে প্রণামি বাক্স ভেঙে চুরির ঘটনা ঘটলেও আজ পর্যন্ত বসেনি একটি সিসিটিভি ক্যামেরা। কর্তৃপক্ষের এই চূড়ান্ত উদাসীনতায় ঐতিহ্যের এমন করুণ পরিণতি দেখে রীতিমতো ক্ষোভে ফুঁসছেন এলাকাবাসী ও ভক্তবৃন্দ।

অথচ, এই মন্দির প্রতিষ্ঠার পরতে পরতে জড়িয়ে রয়েছে অলৌকিক ইতিহাস। স্থানীয়দের কথা অনুযায়ী, অতীতে জঙ্গলঘেরা এই গ্রামের মানুষ মূলত কৃষিজীবী ছিলেন। গ্রামে প্রায়ই বন্যপ্রাণী এবং চিতাবাঘ হানা দিয়ে বাছুর মেরে ফেলত। বন্যজন্তুর এমন লাগামছাড়া উপদ্রবে যখন গ্রামবাসীরা দিশেহারা, ঠিক তখনই গ্রামের এক মহিলা স্বপ্নাদেশ পান। ভোরে কালজানি নদীতে স্নান সেরে শুদ্ধ বস্ত্রে সদ্যোপ্রসূতা গোরুর দুধের পায়েস বানিয়ে বলরাম দেবকে অর্পণের নির্দেশ দেওয়া হয় তাঁকে। সেইমতো পুজো শুরু হতেই বিপদ কাটে, আর কালক্রমে স্থানটি পুণ্যতীর্থ বলরামধাম হিসেবে খ্যাতি লাভ করে।

প্রায় সাত বিঘা জমির ওপর গড়ে ওঠা এই মন্দিরে রথযাত্রা, দোল ও অষ্টমী স্নানে অসম সহ আলিপুরদুয়ার ও কোচবিহারের অগণিত মানুষ ভিড় জমান। কোচবিহারের পুণ্ডিবাড়ি থেকে সপরিবারে আসা ভক্ত কার্তিক দাস বলেন, ‘বলরাম দেব খুব জাগ্রত। মনস্কামনা পূর্ণ হওয়ায় পুজো দিতে এসেছি। কিন্তু এই মন্দিরের পরিকাঠামোগত উন্নয়ন ভীষণ জরুরি।’ বর্তমানে চারজন কর্মী নিয়ে চলা এই মন্দিরের পুরোহিত কামাখ্যাপ্রসাদ দেবশর্মাও দ্রুত সংস্কার করে মন্দিরটি সুদৃশ্য করে তোলার দাবি জানিয়েছেন।

স্থানীয় বাসিন্দা সঞ্জয় রায় মন্দিরের বেহাল দশা ও নিরাপত্তা নিয়ে চরম উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। তবে প্রশাসন কি আদৌ তৎপর? তুফানগঞ্জ-১ ব্লক প্রশাসনের এক আধিকারিকের আশ্বাস, মন্দিরের সমস্যা খতিয়ে দেখে প্রয়োজনে দেবত্র ট্রাস্ট বোর্ডের নজরে আনা হবে। অন্যদিকে, নাটাবাড়ির বিধায়ক গিরিজাশংকর রায় বলেন, ‘বিষয়টি আমার জানা ছিল না। খুব তাড়াতাড়ি মন্দিরটির পরিকাঠামোগত উন্নয়নের বিষয়ে সরেজমিনে খতিয়ে দেখে জেলা শাসকের সঙ্গে কথা বলব।’



Source link

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *