উত্তরবঙ্গ সংবাদ অনলাইন ডেস্ক : রামপুরহাটে প্রাক্তন মন্ত্রী তথা পাঁচবারের বিধায়ক আশিস বন্দ্যোপাধ্যায়ের রহস্যমৃত্যুতে বিজেপি যোগের তত্ত্ব উড়িয়ে দিলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। রবিবার রামপুরহাটে বাড়ি লাগোয়া দলীয় কার্যালয় থেকে আশিসের ঝুলন্ত দেহ উদ্ধার হয় এবং পাশেই একটি সুইসাইড নোট পাওয়া যায়। এই ঘটনায় রাজনৈতিক মহলে শোরগোল শুরু হয়েছে।
তৃণমূলের শীর্ষ নেতৃত্ব এই মৃত্যুর নেপথ্যে বিজেপির অপপ্রচার ও চাপকে দায়ী করলেও সেই অভিযোগ খারিজ করে দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। নবান্নে সাংবাদিক বৈঠকে তিনি বলেন, ‘‘খুবই দুঃখের ঘটনা। খবরটা শোনার পর মর্মাহত হয়েছি। আমরা যাঁরা তাঁর সঙ্গে কাজ করেছি, ২০০৬ সালে তৃণমূলের যে গুটিকয়েক এমএলএ ছিলেন, তার মধ্যে উনি একজন। আমিও ছিলাম। যা হয়েছে বেদনার। পুলিশ-জেলাশাসককে যা বলার বলেছি।’’ মুখ্যমন্ত্রী পরিষ্কার জানান, পুলিশ বা প্রশাসনের পক্ষ থেকে আশিসকে কোনও নোটিশ দেওয়া হয়নি এবং বিজেপির তরফ থেকেও তাঁকে কেউ হুমকি দেয়নি।
আশিস বন্দ্যোপাধ্যায়কে একজন ‘সজ্জন রাজনীতিবিদ ও শিক্ষাবিদ’ হিসেবে বর্ণনা করে মুখ্যমন্ত্রী জানান, বিধানসভা ভোটের ফলাফলের পর মমতার তৃণমূলের সঙ্গে তাঁর দূরত্ব তৈরি হয়েছিল। চিঠিতে তিনি যেমন কোনও দুর্নীতিতে জড়াননি বলে উল্লেখ করেছেন এবং পরিবারের কাউকে রাজনীতিতে আসতে বারণ করেছেন, তেমনই এই মৃত্যুর নেপথ্যে অন্য কোনও রহস্য রয়েছে কি না তা খতিয়ে দেখা দরকার।
মুখ্যমন্ত্রীর সন্দেহ, তৃণমূলের কোনও দুর্নীতিগ্রস্ত নেতার ফোন বা মেসেজ পেয়ে থাকতে পারেন আশিস বন্দ্যোপাধ্যায়। শুভেন্দুর দাবি, “দুর্নীতিগ্রস্তদের কেউ হয়তো বলেছে, ‘আপনার নাম বলে দেব আমরা’। মমতার তৃণমূলের দুর্নীতিগ্রস্ত নেতাদের সঙ্গে তো ওঁর দূরত্ব তৈরি হয়েছিল। মমতাপন্থী তৃণমূল থেকে সরে এসেছিলেন। স্বাভাবিকভাবে কেউ ব্ল্যাকমেল করেছেন কি না, দেখার বিষয়।”
পুলিশ ও প্রশাসনকে ইতিমধ্যে আশিসের মোবাইল ফোনগুলো পরীক্ষা করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি উদ্ধার হওয়া চিঠিটি আদতে তাঁরই লেখা কি না, তা নিশ্চিত করতে ফরেন্সিক পরীক্ষার জন্যও পাঠানো হচ্ছে।

