উত্তরবঙ্গ সংবাদ অনলাইন ডেস্কঃ দিল্লির একটি রাজনৈতিক আন্দোলনে যোগ দেওয়া এবং পরবর্তীতে স্থানীয় স্কুলের বেহাল দশা নিয়ে সোচ্চার হওয়ার জেরে বাঁকুড়ার ইন্দাসে বর্বরোচিত হামলার ঘটনা ঘটল (Bankura Indas homicide case)। ককরোচ জনতা পার্টির (CJP) সঙ্গে যুক্ত থাকা আন্দোলনকারী শেখ আবদুল হাফিজের বাড়িতে হামলা চালিয়ে তাঁর বাবাকে পিটিয়ে খুনের অভিযোগ উঠেছে। এই ঘটনায় ইতিমধ্যেই রাজ্য রাজনীতিতে তীব্র রাজনৈতিক তরজা শুরু হয়েছে। রবিবার নবান্নে এক সাংবাদিক বৈঠকে মুখ্যমন্ত্রী এই বিষয়ে স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন যে, ধৃত বা অভিযুক্তরা কোনো নির্দিষ্ট দলের নয়, প্রত্যেকেই দুষ্কৃতী এবং তাদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।
পরিবার ও স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, গত ১৯ জুলাই দিল্লির একটি কর্মসূচিতে যোগ দিতে গিয়েছিলেন বাঁকুড়ার ইন্দাস থানার করিশুণ্ডা গ্রামের বাসিন্দা শেখ আবদুল হাফিজ। সেখানে গত ২০ জুলাই রাজীব চকে তাঁকে আটক করা হয় এবং পুলিশের লাঠিচার্জ ও টিয়ার গ্যাসের মুখোমুখি হতে হয় তাঁকে। পরবর্তীতে গত ২৭ জুলাই তিনি বাড়ি ফিরে আসেন।
অভিযোগ, বাড়ি ফেরার পর থেকেই তাঁকে লাগাতার হুমকি দেওয়া হচ্ছিল। সম্প্রতি গত বৃহস্পতিবার করিশুণ্ডা প্রাথমিক বিদ্যালয়ের অব্যবস্থা নিয়ে প্রধান শিক্ষকের সঙ্গে কথা বলেন হাফিজ এবং স্কুলের বেহাল দশার ভিডিয়োও তুলে রাখেন। এরপরই গত বৃহস্পতিবার রাতে তাঁর বাড়িতে হামলা চালানো হয়। হাফিজকে মারধর করা ছাড়াও তাঁর ফোন কেড়ে নিয়ে ছবি ডিলিট করে দেওয়া হয় বলে অভিযোগ। ছেলেকে বাঁচাতে গিয়ে তাঁর বাবা শেখ মহম্মদ মাফিকও আক্রান্ত হন। এরপর গত ১৪ আগস্ট রাতে মারধরের জেরে মাফিকের শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে তাঁকে প্রথমে ইন্দাস হাসপাতাল ও পরে বর্ধমান মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তরিত করা হয়। সেখানেই চিকিৎসাধীন অবস্থায় তাঁর মৃত্যু হয়।
এই মর্মান্তিক ঘটনার খবর পেয়ে রবিবার বর্ধমান মেডিক্যালে গিয়ে জখম হাফিজের সঙ্গে দেখা করেন সিজেপি নেতৃত্ব দেদীপ্য গঙ্গোপাধ্যায়। তিনি ঘটনার তীব্র নিন্দা করে দোষীদের উপযুক্ত শাস্তির দাবি জানান।
অন্যদিকে, এই ঘটনায় বিজেপির যোগ থাকার অভিযোগ উঠলেও রবিবার নবান্নের সাংবাদিক বৈঠকে মুখ্যমন্ত্রী তা এককথায় খারিজ করে দেন। তিনি সাফ জানান, ‘‘পরিবার যাদের বিরুদ্ধে এফআইআর করেছে, তাদের মধ্যে তিনজন ইতিমধ্যেই গ্রেপ্তার হয়েছে। বাকিদেরও ধরা হবে। এরা কেউ কোনো রাজনৈতিক দলের নয়, সবাই দুষ্কৃতী। রাজ্যে আইনের শাসন চলছে, আইন অনুযায়ী কড়া ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’’ পাশাপাশি, এই ঘটনায় বিজেপির ভূমিকা নিয়ে দলের নেত্রী অগ্নিমিত্রা পাল জানিয়েছেন, কোনো কর্মী এই ধরনের অপরাধের সঙ্গে যুক্ত থাকলে পুলিশ তাদের রাজনৈতিক পরিচয়ের খাতিরে ছাড়বে না এবং নিশ্চিতভাবে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

