রাজা বন্দ্যোপাধ্যায়, আসানসোল: শুক্রবার রাতে আসানসোলের (Asansol) রেলপার এলাকায় আসানসোল উত্তর থানার অন্তর্গত জাহাঙ্গীর মহল্লা (ফৈজি আম বাগ) পুলিশ ফাঁড়িতে একদল দুষ্কৃতীর অতর্কিত হামলা ও তাণ্ডবকে কেন্দ্র করে রণক্ষেত্র চেহারা নিল গোটা এলাকা। ফাঁড়ি তছনছ করার পাশাপাশি পুলিশের জরুরি নথিপত্র নষ্ট এবং একাধিক গাড়ি ভাঙচুর করার অভিযোগ উঠেছে উন্মত্ত জনতার বিরুদ্ধে। এই হামলায় ফাঁড়ি ইনচার্জ উজ্জ্বল সাহা সহ একাধিক পুলিশকর্মী জখম হয়েছেন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশ (Police) ও কেন্দ্রীয় বাহিনী (Central Pressure)-কে লাঠিচার্জ এবং কাঁদানে গ্যাসের সেল ফাটাতে হয়।
ঠিক কী কারণে এই ভয়াবহ হামলা, তা নিয়ে ধোঁয়াশা থাকলেও স্থানীয় সূত্রে একটি অভিযোগ সামনে আসছে। জানা গেছে, ওই এলাকার একটি মসজিদে মাইক বন্ধ করার জন্য পুলিশের তরফ থেকে একটি বার্তা দেওয়া হয়েছিল। সেই কারণেই কি এই হামলা? পুলিশ প্রশাসন পুরো বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্ব সহকারে তদন্ত করে দেখছে।
শুক্রবার রাত ৯টা নাগাদ শুরু হওয়া এই তাণ্ডব বেশ কিছুক্ষণ চলে। পরে বিশাল পুলিশ বাহিনী ও কেন্দ্রীয় বাহিনীর জওয়ানরা এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। ইতিমধ্যেই ফাঁড়িতে হামলার একাধিক ভিডিও (ভিডিও-র সত্যতা যাচাই করেনি উত্তরবঙ্গ সংবাদ) সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল হয়েছে, যেখানে দেখা যাচ্ছে একদল মানুষ উন্মত্ত হয়ে ফাঁড়ির ভেতরে ভাঙচুর চালাচ্ছে।
শনিবার সকালেও এলাকায় চরম উত্তেজনা রয়েছে। অপ্রীতিকর পরিস্থিতি এড়াতে মোতায়েন রাখা হয়েছে বিশাল কেন্দ্রীয় বাহিনী। এলাকার সমস্ত দোকানপাট বন্ধ রয়েছে। আসানসোল দুর্গাপুর পুলিশের ডিসিপি (সেন্ট্রাল) ধ্রুব দাস জানিয়েছেন, “শুক্রবার রাত ৯টা নাগাদ একদল মানুষ ফাঁড়িতে এসে আচমকা হামলা চালায়। সিসিটিভি ফুটেজ খতিয়ে দেখে হামলাকারীদের শনাক্ত করার কাজ চলছে।”
এদিকে এই ঘটনার পর কড়া বার্তা দিয়েছেন আসানসোল উত্তরের বিজেপি (BJP) বিধায়ক কৃষ্ণেন্দু মুখোপাধ্যায়। তিনি এই ঘটনাকে অত্যন্ত নিন্দনীয় এবং পরিকল্পিত আখ্যা দিয়ে বলেন, “দুষ্কৃতীদের কাউকেই রেয়াত করা হবে না। যারা পর্দার আড়াল থেকে উস্কানি দিয়েছে, তাদের বিরুদ্ধেও কড়া ব্যবস্থা নেওয়া হবে।” সাধারণ মানুষের উদ্দেশ্যে কোনো প্ররোচনায় পা না দিয়ে শান্তি বজায় রাখার আবেদন জানিয়েছেন বিধায়ক। রাজ্যে বিশৃঙ্খলা তৈরির যেকোনো চেষ্টা কঠোর হাতে দমন করা হবে বলে আশ্বস্ত করেছে প্রশাসন।
