উত্তরবঙ্গ সংবাদ অনলাইন ডেস্ক: অঘটন শব্দটাও বোধহয় এখন ছোট শোনাচ্ছে চলতি ফরাসি ওপেনে (French Open)। জানিক সিনার, নোভাক জকোভিচের পর এবার রোলাঁ গারোঁর লাল মাটির কোর্টে মহাবিপর্যয়ের মুখে পড়লেন মহিলাদের সিঙ্গলসের শীর্ষবাছাই তথা বিশ্বের এক নম্বর তারকা আরিনা সাবালেঙ্কা (Aryna Sabalenka)। চার বারের গ্র্যান্ড স্ল্যাম চ্যাম্পিয়ন বেলারুশের এই তারকাকে কোয়ার্টার ফাইনালেই ছিটকে দিলেন রাশিয়ার ২২ বছর বয়সী উদীয়মান তারকা ডায়ানা স্নাইডার (Diana Shnaider)। ম্যাচের ফল স্নাইডারের পক্ষে ৩–৬, ৭–৫, ৬–০।
কেরিয়ারের সবকটি গ্র্যান্ড স্ল্যামই হার্ড কোর্টে জিতেছেন সাবালেঙ্কা। এবার ইগা স্বিয়নতক ও কোকো গফ আগেই ছিটকে যাওয়ায় ক্লে কোর্টে প্রথম খেতাব পাওয়ার সুবর্ণ সুযোগ ছিল তাঁর সামনে। কিন্তু সেই স্বপ্ন চুরমার করে বিশ্ব র্যাঙ্কিংয়ে ২৫ নম্বরে থাকা ডায়ানা পৌঁছে গেলেন তাঁর কেরিয়ারের প্রথম গ্র্যান্ড স্ল্যাম সেমিফাইনালে।
ম্যাচের শুরুটা কিন্তু হয়েছিল শীর্ষবাছাইয়ের চেনা দাপটেই। প্রথম সেটে ডায়নাকে দাঁড়াতেই দেননি সাবালেঙ্কা (৬-৩)। দ্বিতীয় সেটেও এক সময় ৪-১ এবং পরে ৫-২ ব্যবধানে এগিয়ে যান তিনি। ম্যাচ জিততে যখন আর মাত্র দু’টি পয়েন্ট দরকার, ঠিক তখনই অলৌকিক প্রত্যাবর্তন ঘটান রাশিয়ার তরুণী।
২টি ব্রেক পয়েন্ট বাঁচিয়ে ম্যাচ ৫-৫ করেন ডায়ানা। এরপর সাবালেঙ্কার একের পর এক ‘আনফোর্সড এরর’ বা অনিচ্ছাকৃত ভুলের সুযোগ নিয়ে দ্বিতীয় সেটটি ৭-৫ ব্যবধানে পকেটে পুরে নেন স্নাইডার। ম্যাচে সমতা ফিরতেই মানসিকভাবে ভেঙে পড়েন বেলারুশ তারকা। তৃতীয় সেটে পুরোপুরি স্নায়ুর চাপে আক্রান্ত হন তিনি। ০-৪০ ব্যবধানে পিছিয়ে থাকা অবস্থায় দু’বার ম্যাচ পয়েন্ট বাঁচালেও শেষ রক্ষা হয়নি। টানা ১০টি গেম হেরে তৃতীয় সেটে ৬-০ ব্যবধানে লজ্জাজনকভাবে পর্যুদস্ত হন সাবালেঙ্কা। পুরো ম্যাচে মোট ৫৭টি অনিচ্ছাকৃত ভুল করেন তিনি।
ম্যাচ শেষে ডায়না বলেন, “প্রথম সেটে হারলেও ম্যাচে ফিরে আসা নিয়ে আমি আত্মবিশ্বাসী ছিলাম। তবে তৃতীয় সেটে ৬–০ ব্যবধানে জিতব, এটা সত্যিই ভাবিনি।”
ম্যাচ হারের পর প্রেস কনফারেন্সে হাজির সাবালেঙ্কার গলায় কোনো অজুহাত ছিল না। বরং একরাশ হতাশা আর অবসাদ উগরে দিয়ে বিশ্বের এক নম্বর তারকা বলেন, “এই মুহূর্তে আমি টেনিস ছেড়ে দিতে চাই। কয়েকদিন পরে কী মনে হবে জানি না। আশা করি মানসিকভাবে আবার নিজেকে গুছিয়ে নিতে পারব। মানসিকভাবে আমি খুব গভীর এক অন্ধকার গর্তে পড়ে গিয়েছিলাম, আর সেখান থেকে বেরোতে পারিনি। শেষ কবে টানা ১০টি গেম হেরেছি, মনে করতে পারছি না!”
গত বছর ফরাসি ওপেনের ফাইনালে কোকো গফের বিরুদ্ধেও একইভাবে ম্যাচ পয়েন্টের কাছাকাছি গিয়ে স্নায়ুর চাপে ম্যাচ হাতছাড়া করেছিলেন সাবালেঙ্কা। সেই একই ভুলের পুনরাবৃত্তি নিয়ে তিনি বললেন, “হয়তো আমি খুব বেশি ভাবছি যে ক্লে বা ঘাসের কোর্টে এখনও গ্র্যান্ড স্ল্যাম জিততে পারিনি। এই ভাবনাই আমাকে বেশি আবেগপ্রবণ করে তুলছে। এভাবে হারতে হারতে আমি ক্লান্ত!”
মানসিক অবস্থা সামলানোর উপায় নিয়ে কিছুটা রসিকতার সুরে তিনি যোগ করেন, “আমি বুঝে গিয়েছি কী করতে হবে। এমন একটা জায়গায় যাব যেখানে সবকিছু ভাঙা যায়। হয়তো কাল পুরো দিনটাই কাটাব জিনিসপত্র ভেঙে। কাজে লাগতে পারে, নাও পারে!”
কেরিয়ারের প্রথম গ্র্যান্ড স্ল্যাম সেমিফাইনালে ডায়ানা স্নাইডারের মুখোমুখি হবেন ২৪ বছর বয়সী পোল্যান্ডের মাজা চাওয়ালিনস্কা। বিশ্ব র্যাঙ্কিংয়ে ১১৩ নম্বরে থাকা মাজা চলতি টুর্নামেন্টের অন্যতম বড় চমক। কোয়ার্টার ফাইনালে তিনি ৭-৬ (৭-৩), ৬-৩ ব্যবধানে উড়িয়ে দিয়েছেন রাশিয়ার ২২তম বাছাই আনা কালিনস্কায়াকে।
পুরুষদের বিভাগে সেমিফাইনালে উঠেছেন দশম বাছাই ফ্লাবিও কোবোলি। চার সেটের কঠিন লড়াইয়ে ৪-৬, ৬-৪, ৬-৪, ৬-৪ ব্যবধানে চতুর্থ বাছাই ফেলিক্স আউগর আলিয়াসিমকে হারিয়েছেন তিনি। অন্য সেমিফাইনালে আলেকজান্ডার জেরেভ মুখোমুখি হবেন জাকুব মেনসিকের। জকোভিচকে হারিয়ে চমকে দেওয়া জোয়াও ফনসেকাকে ৬-৪, ৬-৩, ৭-৬ (৭-৩) ব্যবধানে হারিয়ে শেষ চারে উঠেছেন মেনসিক।
পুরুষদের ডাবলসের কোয়ার্টার ফাইনালে শেষ হলো ভারতের শ্রীরাম বালাজির (Sriram Balaji) রূপকথার সফর। ব্রাজিলের মার্সেলো দেমোলিনারের সঙ্গে জুটি বেঁধে প্রথমবার কোনো গ্র্যান্ড স্ল্যামের শেষ আটে উঠেছিলেন বালাজি। কিন্তু কোয়ার্টার ফাইনালে গ্রেট ব্রিটেনের দ্বিতীয় বাছাই জুটি হেনি প্যাটেন ও হ্যারি হেলিভারোর কাছে ৩–৬, ৪–৬ সরাসরি সেটে হেরে বিদায় নিলেন তাঁরা।
