Argentina vs Egypt | জয় এলেও শঙ্কার মেঘ, বিপক্ষে মিশর, শেষ ষোলোয় কঠিন পরীক্ষা মেসিদের

Argentina vs Egypt | জয় এলেও শঙ্কার মেঘ, বিপক্ষে মিশর, শেষ ষোলোয় কঠিন পরীক্ষা মেসিদের

শিক্ষা
Spread the love


সুস্মিতা গঙ্গোপাধ্যায়, আটলান্টা: ফুটবলে জয়ের চেয়ে বড় প্রলেপ আর কিছু হয় না। কিন্তু মায়ামিতে কেপ ভের্দের বিরুদ্ধে আর্জেন্টিনার ঘাম দিয়ে জ্বর ছাড়া জয় অনেকগুলি অস্বস্তিকর প্রশ্নকে উসকে দিয়ে গেল (Argentina vs Egypt)। টুর্নামেন্টের শুরু থেকেই ফুটবল পণ্ডিতদের একাংশ বলছিলেন, গ্রুপ পর্বে গতবারের চ্যাম্পিয়নদের রক্ষণকে আসল পরীক্ষার মুখে পড়তেই হয়নি। নকআউট পর্বের শুরুতেই যখন একটি আনকোরা দল দুই-দুইবার পিছিয়ে পড়েও চোখে চোখ রেখে সমতা ফেরায়, তখন সেই তত্ত্বটাই যেন সিলমোহর পায়। টানা ১০০ মিনিটের বেশি সময় ধরে চলা সেই স্নায়ুযুদ্ধে জয় এলেও, লিওনেল স্কালোনির দলের খামতিগুলি এখন আতশকাঁচের তলায়।

তবে এই চরম ধাক্কাটাকে নেতিবাচকভাবে দেখতে নারাজ অনেকেই। ১৯৯৮ ও ২০০২ সালের বিশ্বকাপ দলের সদস্য এবং রিভারপ্লেটের প্রাক্তন কোচ মার্সেলো গালার্দোর মতে, এই অপ্রত্যাশিত লড়াই আসলে একটা জরুরি ঝাঁকুনি, যা দলকে আত্মতুষ্টির ঘুম থেকে জাগিয়ে তুলবে। মাঠে ঠিক কী হয়েছিল, তা নিয়ে দলের অধিনায়ক লিওনেল মেসিও অদ্ভুত রকমের সৎ। টুর্নামেন্টে নিজের ২০তম গোলটি করার পরেও তিনি অকপটে স্বীকার করেছেন, ‘ওরা বল ধরে রেখে আমাদের রীতিমতো দৌড় করাচ্ছিল। আমরা ওদের ওপর কোনও চাপই তৈরি করতে পারছিলাম না, ঠিকমতো প্রেসিং ফুটবল খেলাও সম্ভব হয়নি।’

মেসির এই অকপট স্বীকারোক্তি আসলে একটা বড় সতর্কবার্তা। আর্জেন্টিনা দলের গড় বয়স ২৯.৫ বছর। ৩৯ বছরের অধিনায়ক থেকে শুরু করে ২৫ বছরের তরুণ এনজো ফার্নান্ডেজ-সবার শরীরেই মায়ামির তীব্র গরম আর টানা খেলার ধকল স্পষ্ট। বয়সের এই ভার আর পেশির ক্লান্তিই এখন স্কালোনির সবচেয়ে বড় চিন্তার কারণ।

আক্রমণভাগের এই ক্লান্তির দিনে দলের ত্রাতা হয়ে উঠেছিলেন সদ্য চোট সারিয়ে ফেরা দুই ডিফেন্ডার-লিসান্দ্রো মার্টিনেজ এবং ক্রিশ্চিয়ান রোমেরো। লিসান্দ্রোর গোলের পর রোমেরোর হেড থেকেই আসা আত্মঘাতী গোল শেষ পর্যন্ত বাঁচিয়ে দেয় দলকে। কঠিন সময়ের স্মৃতি উসকে লিসান্দ্রোর আবেগঘন স্বীকারোক্তি, ‘চোটের যে পরিস্থিতির মধ্যে দিয়ে গিয়েছি, সেখান থেকে ফেরাটা খুব কঠিন ছিল। আজ মনে হচ্ছে যেন স্বপ্নে ভাসছি।’ রোমেরোর গলাতেও সেই একই চোয়ালচাপা জেদ, ‘চাপে পড়লেও আমরা লক্ষ্য থেকে সরে যাইনি।’ আর মিডফিল্ডার অ্যালেক্সিস ম্যাক অ্যালিস্টারের মতে, এই চাপটাই দলের ভেতর থেকে আসল চ্যাম্পিয়ন সত্তাটা বের করে আনবে।

আগামী মঙ্গলবার আটলান্টার মার্সিডিজ-বেঞ্জ স্টেডিয়ামে শেষ ষোলোর লড়াইয়ে মুখোমুখি হতে চলেছে দুই মহাদেশীয় শক্তি। ১৬ বারের কোপা আমেরিকা চ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনার সামনে এবার সাতবারের আফ্রিকান নেশনস কাপ জয়ী মিশর। গ্রুপ পর্বে নিজেদের ইতিহাসে প্রথম বিশ্বকাপ ম্যাচ জেতার পর, অস্ট্রেলিয়াকে টাইব্রেকারে হারিয়ে প্রথমবারের জন্য নকআউটে পা রেখেছে তারা। ২০০৮ সালের একটি প্রীতি ম্যাচে সের্জিও আগুয়েরো আর নিকোলাস বুরদিসোর গোলে আর্জেন্টিনা ২-০ ব্যবধানে জিতলেও, মঙ্গলবারের প্রেক্ষাপট সম্পূর্ণ ভিন্ন।

৩০০ ফুট উঁচু, অত্যাধুনিক প্রযুক্তিতে মোড়া, ছাদখোলা আটলান্টা স্টেডিয়াম অপেক্ষায় রয়েছে এক নতুন ইতিহাসের। এই ম্যাচেই প্রমাণ হবে, কেপ ভের্দের বিরুদ্ধে দেখা দেওয়া ক্লান্তি আর বয়সের ভার স্কালোনির দলের সবচেয়ে বড় বাধা হয়ে দাঁড়াবে, নাকি ম্যাক অ্যালিস্টারের কথা মতো খাদের কিনারা থেকেই নিজেদের সেরা ফুটবলটা নিংড়ে আনবেন বিশ্বচ্যাম্পিয়নরা। এই স্নায়ুযুদ্ধের বিজয়ীর জন্য কানসাস সিটিতে অপেক্ষায় থাকবে কলম্বিয়া বা সুইৎজারল্যান্ড।



Source link

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *