উত্তরবঙ্গ সংবাদ অনলাইন ডেস্ক: প্রধানমন্ত্রীর মধ্যরাতের বার্তার পর দেশজুড়ে নিট (NEET) বিতর্কের চরম জট কাটাতে এবং ভারতের পরীক্ষা ব্যবস্থায় স্বচ্ছতা ফিরিয়ে আনতে অবশেষে পদক্ষেপ নিল মোদী সরকার। প্রশ্নপত্র ফাঁস এবং পরীক্ষায় জালিয়াতি রোধে এক কঠোর প্রতিষেধক হিসেবে ১০ বছরের কারাদণ্ড ও ১০ কোটি টাকা পর্যন্ত জরিমানা করার বিধান রেখে নতুন একটি খসড়া বিলে অনুমোদন দিয়েছে কেন্দ্রীয় মন্ত্রিসভা। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর সবুজ সংকেত পাওয়ার পর শুক্রবারই ক্যাবিনেটে সিলমোহর পায় এই প্রস্তাবিত আইন।
পরীক্ষার্থীদের ভবিষ্যৎ নিয়ে ছেলেখেলা রুখতে সরকার যে কোনো আপস করবে না, তা স্পষ্ট করে দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী নিজেই। গতকাল রাতেই এক দীর্ঘ ভিডিও বার্তায় মোদী বলেন, “প্রশ্নফাঁস কোনো বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়; এটি দেশের লক্ষ লক্ষ ছাত্রছাত্রী এবং তাঁদের পরিবারের বছরের পর বছর সংগ্রামের ওপর এক নির্মম আঘাত।” তিনি আরও জানান, অপরাধীদের দ্রুত ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি সুনিশ্চিত করতে বিশেষ ‘ফাস্ট ট্র্যাক কোর্ট’ গঠন করা হচ্ছে। গত আড়াই মাসে এই দুর্নীতির জট খুলতে কেন্দ্রীয় সংস্থাগুলি যে তৎপরতা দেখিয়েছে এবং একাধিক অভিযুক্তকে গরাদের পেছনে পাঠিয়েছে—সেই পরিসংখ্যানও তুলে ধরেন তিনি।
সরকারের তথ্য অনুসারে, নতুন এই বিল আইনে পরিণত হলে তা কেবল প্রশ্নফাঁসকারীদের জন্যই নয়, বরং সম্পূর্ণ জালিয়াতি চক্রের মেরুদণ্ড ভেঙে দেবে। বিলে দোষীদের ন্যূনতম শাস্তি নিশ্চিত করার পাশাপাশি দ্রুত বিচার প্রক্রিয়া শেষ করার আইনি নিশ্চয়তা দেওয়া হয়েছে। উল্লেখ্য, কেন্দ্রের এই কড়া অবস্থান এবং প্রধানমন্ত্রীর স্পষ্ট বার্তার পরপরই দেশের বিশিষ্ট সমাজকর্মী সোনম ওয়াংচুক গুরুগ্রামের হাসপাতালে তাঁর অনশন প্রত্যাহার করে নিয়েছেন। আগামী সপ্তাহেই খসড়া বিলটি অনুমোদনের জন্য সংসদে পেশ করা হতে পারে। সরকারের আশা, প্রস্তাবিত এই সর্বোচ্চ শাস্তির খাঁড়া দেশের কোটি কোটি শিক্ষার্থীকে স্বস্তি দেবে এবং প্রশ্নফাঁস চক্রের দৌরাত্ম্য চিরতরে বন্ধ করবে।

