আলিপুরদুয়ার: পুরবোর্ড গঠন নিয়ে সীমাহীন টানাপোড়েন আর রাজনৈতিক দড়িটানাটানির জেরে আলিপুরদুয়ার পুরসভার (Alipurduar Municipality) প্রশাসনিক অস্থিরতা এবার চরমে পৌঁছাল। চেয়ারম্যান ও ভাইস চেয়ারম্যানের পদত্যাগের পর দুই সপ্তাহ কেটে গেলেও নতুন বোর্ড গঠন নিয়ে তৈরি হওয়া অচলাবস্থা কাটেনি। এই পরিস্থিতিতে পুরসভার প্রশাসনিক স্তব্ধতা ঘোচাতে এবার নজিরবিহীন কড়া পদক্ষেপ গ্রহণ করল প্রশাসন। ‘পুরবোর্ড কেন ভেঙে দেওয়া হবে না’, তা নিয়ে কার্যত চরম সময়সীমা বেঁধে দেওয়া হয়েছে।
বুধবার পুরসভার এগজিকিউটিভ অফিসার সমস্ত কাউন্সলারকে চিঠি দিয়ে আগামী তিনদিনের মধ্যে বোর্ড গঠন সংক্রান্ত চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত জানানোর কড়া নির্দেশ দিয়েছেন। এর অন্যথা হলে রাজ্য যে কড়া আইনি পথে হাঁটবে, সেই ইঙ্গিতও স্পষ্ট।
গত ১৮ জুন আচমকাই আলিপুরদুয়ার পুরসভার চেয়ারম্যান প্রসেনজিৎ কর এবং ভাইস চেয়ারম্যান মাম্পি অধিকারী পদত্যাগ করেন। তারপর থেকেই পুরসভার অন্দরে প্রশাসনিক কাজকর্ম পুরোপুরি থমকে গিয়েছে। পশ্চিমবঙ্গ পুরসভা বিধি অনুযায়ী, এই পরিস্থিতিতে দ্রুত ‘বোর্ড অফ কাউন্সিলার্স’-এর বৈঠক ডেকে পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেওয়ার কথা থাকলেও, বাস্তবে তা নিয়ে কোনও সদিচ্ছা বা উদ্যোগ দেখা যায়নি। অথচ শহরের নাগরিকরা এখন চরম ভোগান্তির শিকার। বর্ষার মরশুম শুরু হতেই জল-যন্ত্রণা, নিকাশি ও আবর্জনা সাফাইয়ের মতো অতি প্রয়োজনীয় পুর পরিষেবা লাটে উঠেছে। প্রশাসনিক এই শূন্যতায় শহরবাসীর ক্ষোভ বাড়ছে।
এই পরিস্থিতিতে কাউন্সিলারদের একাংশের মধ্যেও তীব্র ক্ষোভ দানা বেঁধেছে। তাঁদের অভিযোগ, গোটা বিষয়টি নিয়ে আগে থেকে কোনও আলোচনাই করা হয়নি। হঠাৎ করে পদত্যাগের সিদ্ধান্ত চাপিয়ে দেওয়ায় এখন সাধারণ মানুষের ক্ষোভের মুখে পড়তে হচ্ছে তাঁদের। ১৮ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলার অপরূপা রায় বলেন, ‘চিঠি পেয়েছি। সব কাউন্সলারকে নিয়ে বসে পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। তবে আমি ব্যক্তিগতভাবে চাই, আমাদের মেয়াদের বাকি সময়টুকু আমরা মানুষের জন্য কাজ করে যাই। নতুন বোর্ড গঠন করে এই প্রশাসনিক স্থবিরতা দ্রুত কাটানো জরুরি।’
একই সুর শোনা গিয়েছে ৩ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলার মৌসুমি বাগচী বিশ্বাসের গলায়ও। শাসকদলের এই অভ্যন্তরীণ কোন্দল ও টালবাহানায় ক্ষোভ উগরে দিয়ে তিনি বলেন, ‘এখানে ব্যক্তিগত জেদ বা সিদ্ধান্তের কোনও জায়গা নেই। সব কাউন্সিলারের সঙ্গে আলোচনার মাধ্যমেই দ্রুত চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।’ শেষপর্যন্ত তিনদিনের ‘ডেডলাইনের’ মধ্যে কাউন্সিলাররা কোনও রফাসূত্রে পৌঁছাতে পারেন, নাকি আলিপুরদুয়ার পুরসভা ভাঙার দিকে এগোবে, সেদিকেই তাকিয়ে শহরবাসী।

