Alipurduar Hospital | আলিপুরদুয়ার জেলা হাসপাতালে ভয়ের প্রসূতি বিভাগ! ছাদ ভেঙে পড়ার আশঙ্কায় আতঙ্কে রোগী ও স্বজনরা

Alipurduar Hospital | আলিপুরদুয়ার জেলা হাসপাতালে ভয়ের প্রসূতি বিভাগ! ছাদ ভেঙে পড়ার আশঙ্কায় আতঙ্কে রোগী ও স্বজনরা

ব্লগ/BLOG
Spread the love


আলিপুরদুয়ার: একদিকে চর্চা চলছে আলিপুরদুয়ারে মেডিকেল কলেজ প্রতিষ্ঠার, আরেকদিকে আলিপুরদুয়ার জেলা হাসপাতালের (Alipurduar Hospital) জীর্ণ পরিকাঠামোর কোনও বদল নেই। প্রসূতি বিভাগের একাধিক জায়গায় ছাদ ভাঙাচোরা। যে কোনও মুহূর্তে মাথার ওপর চাঙড় ভেঙে পড়তে পারে, সেই আশঙ্কা বুকে নিয়েই চলাফেরা করছেন নবজাতক সহ মায়েরা ও তাঁদের পরিজনরা।

আলিপুরদুয়ার জেলা হাসপাতালের প্রসূতি বিভাগের জীর্ণ পরিকাঠামো নিয়ে ফের উঠেছে প্রশ্ন। রোগী ও তাঁদের পরিজনদের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরেই বিভাগের একাধিক অংশের ছাদ ভগ্নদশায় পড়ে থাকলেও তা মেরামতের উদ্যোগ নেওয়া হয়নি। বর্ষার মরশুমে পরিস্থিতি আরও উদ্বেগজনক হয়ে উঠেছে। হাসপাতাল সূত্রে জানা গিয়েছে, প্রসূতি বিভাগ থেকে অপারেশন থিয়েটারে যাওয়ার করিডরটির ছাদ দীর্ঘদিন ধরেই ক্ষতিগ্রস্ত। সাম্প্রতিক সময়ে বৃষ্টির কারণে সেই অংশের অবস্থা আরও খারাপ হয়েছে। অতীতে বিভিন্ন ওয়ার্ডে রোগীর শয্যার ওপর ছাদ চুইয়ে জল পড়ার মতো অভিযোগও সামনে এসেছে। ইতিমধ্যেই প্রসূতি বিভাগের একটি বড় কক্ষ দীর্ঘদিন ধরে ব্যবহার করা যাচ্ছে না। শুধু তাই নয়, সম্প্রতি হাসপাতালের অপর একটি অপারেশন থিয়েটারে ছাদ চুইয়ে জল পড়ার জন্য ১০ দিন অপারেশন বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ। ফলে হাসপাতালের পরিকাঠামো নিয়ে ফের উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।

ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, বিষয়টি হাসপাতাল কর্তৃপক্ষকে একাধিকবার জানানো হলেও এখনও পর্যন্ত কোনও কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। প্রসূতি বিভাগে ভর্তি এক রোগীর আত্মীয় তপন দাস বলেন, ‘ছাদ তো আর আজ ভাঙেনি। অনেকদিন ধরেই ওই অবস্থায় রয়েছে। ভাঙা ছাদের নীচ দিয়েই সবাইকে যাতায়াত করতে হচ্ছে। বড় কোনও দুর্ঘটনা ঘটলে তার দায় কে নেবে?’ আরেক রোগীর আত্মীয় সৌমিত্র রায়ের কথায়, ‘চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে এসেছি। কিন্তু এখানে এসে নিরাপত্তা নিয়েই দুশ্চিন্তা হচ্ছে। বৃষ্টির জল পড়ে মেঝে পিচ্ছিল হয়ে থাকে। আর ভাঙা ছাদের নীচ দিয়ে চলাফেরা করতে হচ্ছে। এমন পরিবেশে রোগীদের মানসিক চাপ আরও বেড়ে যাচ্ছে।’

রোগী ও পরিজনদের একাংশের দাবি, প্রসূতি বিভাগের ক্ষতিগ্রস্ত অংশ দ্রুত সংস্কার করে নিরাপদ পরিবেশে পরিষেবা দেওয়া হোক। মা ও নবজাতকদের নিরাপত্তার সঙ্গে কোনওরকম আপস করা উচিত নয়।

যদিও হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের দাবি, সমস্যাটি তাঁদের নজরে রয়েছে। হাসপাতালের এক আধিকারিক বলেন, ‘প্রসূতি বিভাগের জীর্ণ অংশ সংস্কারের জন্য ইতিমধ্যেই ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে প্রস্তাব পাঠানো হয়েছে। হাসপাতালের বিভিন্ন অংশে ধাপে ধাপে মেরামতির কাজ চলছে এবং আগামী দু-তিন মাসের মধ্যে ক্ষতিগ্রস্ত অংশগুলির সংস্কার সম্পূর্ণ করার চেষ্টা করা হবে।’

তবে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের এই আশ্বাসে খুব একটা আশ্বস্ত নন রোগী ও তাঁদের পরিজনরা। তাঁদের প্রশ্ন, যে করিডর দিয়ে প্রতিদিন প্রসূতি ও নবজাতকদের যাতায়াত, সেটি যদি দীর্ঘদিন ধরেই ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় থাকে, তবে স্থায়ী সংস্কার না হওয়া পর্যন্ত নিরাপদ বিকল্প ব্যবস্থা কেন করা হচ্ছে না?



Source link

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *