আলিপুরদুয়ার: জ্যৈষ্ঠের তাপপ্রবাহে পুড়ছে আলিপুরদুয়ার (Alipurduar)। টানা কয়েক সপ্তাহের গরম ও আর্দ্রতাজনিত অস্বস্তির সবচেয়ে বড় কোপ পড়েছে শিশুদের ওপর। ঘরে ঘরে থাবা বসিয়েছে ‘সামার ইনফেকশন’। প্রবল জ্বর, সর্দিকাশি, ডিহাইড্রেশন এবং পেটের সংক্রমণে আক্রান্ত হয়ে আলিপুরদুয়ার জেলা হাসপাতালে (Alipurduar hospital) রোজই ভিড় বাড়ছে। শিশু বিভাগে রোগীর নজিরবিহীন চাপ সামলাতে একটি বেডেই দুজনকে রাখতে বাধ্য হচ্ছে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ।
হাসপাতাল সূত্রে খবর, স্বাভাবিক সময়ের তুলনায় শিশু রোগীর সংখ্যা এখন প্রায় দ্বিগুণ। প্রতিদিন আউটডোরে আসা শয়ে-শয়ে শিশুর অধিকাংশেরই উপসর্গ তীব্র জ্বর ও পেটের গণ্ডগোল। অনেককে ওষুধ দিয়ে ছাড়া হলেও কাউকে এক বা দু’রাত কাটাতে হচ্ছে ওয়ার্ডে। শয্যার তুলনায় বেশি শিশু ভর্তি হওয়ায় এক বেডে দুজন বা দুটি লোহার বেডজুড়ে তিন-চারজন শিশুকে শুইয়ে স্যালাইন দেওয়া হচ্ছে।
জেলা হাসপাতালের সুপার ডাঃ পরিতোষ মণ্ডল বলেন, ‘গত ১৫-২০ দিনে শিশু রোগী অনেক বেড়েছে। পরিকাঠামোর তুলনায় রোগীর চাপ অনেকটাই বেশি। তবে এই সংকটের মধ্যেও কোনও রোগীকে ফেরানো হচ্ছে না। ওয়ার্ডে অতিরিক্ত ব্যবস্থা করে ও বেড বিন্যাস করে সকলকেই চিকিৎসা দেওয়ার চেষ্টা চলছে। হাসপাতালে এই মুহূর্তে ওষুধ ও স্যালাইনের পর্যাপ্ত জোগানও রয়েছে।’
ভ্যাপসা গরমে বেডে গাদাগাদিভাবে থাকায় খুদেদের কষ্ট বাড়ছে বলে দাবি পরিজনদের। জটেশ্বর থেকে আসা অভিভাবক পিংকি রায় বলেন, ‘চারদিন ধরে বাচ্চার জ্বর আর বমি। শরীর একেবারে নেতিয়ে পড়েছে। হাসপাতালে ভর্তি করালেও আলাদা বেড জোটেনি। অন্য একজনের সঙ্গে বেড ভাগ করে আমার বাচ্চাকে রাখতে হয়েছে।’
হাসপাতাল চত্বরে চারদিকে শুধু অসুস্থ শিশুর কান্না আর মায়েদের ভিড়। কালচিনির এক অভিভাবক রত্না রায় বলেন, ‘ডাক্তার দেখানোর লম্বা লাইনে দীর্ঘক্ষণ দাঁড়িয়ে থাকতে হয়েছে। গরমের চোটে আমরাই টিকতে পারছি না, সেখানে এতটুকু বাচ্চারা কী করবে।’ কুমারগ্রাম থেকে আসা অভিভাবক রত্না দাস জানান, অতিরিক্ত গরমে তাঁর সন্তান মারাত্মক ডিহাইড্রেশনে ভুগছিল। স্যালাইন দেওয়ার পর এখন অনেকটাই স্থিতিশীল। দু’-একদিনে ছুটি হয়ে যাবে।
শিশুবিশেষজ্ঞদের মতে, গরমে বাতাসে ব্যাকটিরিয়া ও ভাইরাসের দ্রুত বৃদ্ধি ঘটে। খাবার তাড়াতাড়ি নষ্ট হওয়ায় পেটের সংক্রমণ ও গ্যাস্ট্রোএন্টেরাইটিসের প্রকোপ বাড়ে। পাশাপাশি ঘাম বসে সর্দি ও ভাইরাল জ্বরের সমস্যা হচ্ছে। শিশুবিশেষজ্ঞ ডাঃ রণদীপ রায় বলেন, ‘গরমে শিশুদের শরীর জলশূন্য হয়ে পড়ে। তাই বারবার পরিস্রুত জল, ওআরএস ও ডাবের জল খাওয়াতে হবে। তীব্র রোদে বাচ্চাদের বের করা বন্ধ রাখতে হবে। সুতির হালকা পোশাক পরাতে হবে। রাস্তার কাটা ফল বা খোলা পানীয় এই সময়ে অত্যন্ত বিপজ্জনক। সর্বদা বাড়িতে তৈরি টাটকা ও হালকা খাবার দিতে হবে।’ আবহাওয়ার এই দাপট অব্যাহত থাকলে আগামী কয়েকদিনে পরিস্থিতি আরও জটিল হওয়ার আশঙ্কা চিকিৎসক মহলে। তাই সামান্য উপসর্গ দেখা দিলেই বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছে জেলা স্বাস্থ্য দপ্তর।
