আলিপুরদুয়ার: বিভিন্ন সময় বিদ্যালয়ে ক্লাস চলাকালীন মোবাইল ফোনে ব্যস্ত থাকতে দেখা যায় একাংশ শিক্ষক ও শিক্ষিকাদের। পড়ুয়াদের নির্দিষ্ট পড়া দিয়ে তাঁদের অনেকেই সামাজিক মাধ্যমে ব্যস্ত হয়ে পড়েন বলে অভিযোগ নতুন নয়। কিন্তু এমন ঘটনা নজরে এলেও বা এমন প্রবণতার প্রভাব পঠনপাঠনের মানের ওপর পড়লেও, নানা কারণে কোনও পদক্ষেপ করতে পারেন না প্রধান শিক্ষক বা শিক্ষিকা। তবে, এবার কড়া পদক্ষেপের বার্তা দিয়ে প্রাথমিকের ক্ষেত্রে ১৩ দফার একটি নির্দেশিকা জারি করেছে স্কুল শিক্ষা দপ্তর। আলিপুরদুয়ার (Alipurduar) জেলা বিদ্যালয় পরিদর্শক (প্রাথমিক) লক্ষণা গোলে বলেন, ‘বিদ্যালয়ের সময়সূচি ও নির্দেশিকা মেনে চলার বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে দেখা হচ্ছে।’
এবার ক্লাস চলাকালীন শিক্ষক-শিক্ষিকাদের মোবাইল ফোন ব্যবহারে নিষেধাজ্ঞা জারি হল। শুধু তাই নয়, বিদ্যালয় পরিদর্শকের (প্রাথমিক) তরফে যে নির্দেশিকা জারি করা হয়েছে, তাতে শিক্ষক-শিক্ষিকাদের বিদ্যালয় চলাকালীন রুচিসম্মত পোশাক পরার কথাও বলা হয়েছে। স্কুল ইউনিফর্ম ছাড়া পড়ুয়াদের ঢুকতে না দেওয়ার নির্দেশও রয়েছে। নিষেধাজ্ঞা রয়েছে শিক্ষক-শিক্ষিকাদের গৃহশিক্ষকতার ক্ষেত্রেও। জানা গিয়েছে, সম্প্রতি প্রধান শিক্ষক-শিক্ষিকা এবং টিআইসিদের নিয়ে বৈঠকে বসেছিলেন অবর বিদ্যালয় পরিদর্শকরা। ওই বৈঠকে এমন নানা বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়। তারপরেই লিখিত নির্দেশিকা জারি হয়েছে। নির্দিষ্ট সময়ে যাতে শিক্ষক-শিক্ষিকারা বিদ্যালয়ে আসেন, সে বিষয়টিও দেখা হচ্ছে বলে বিদ্যালয় পরিদর্শক জানান।
শিক্ষা দপ্তরের এমন নির্দেশিকাকে অবশ্য স্বাগত জানিয়েছে শিক্ষক সংগঠনগুলো। নিখিলবঙ্গ প্রাথমিক শিক্ষক সমিতির জেলা সম্পাদক প্রসেনজিৎ কর বলেন, ‘এ ধরনের পদক্ষেপ বিদ্যালয়ের পরিবেশে বিশেষ বার্তা বহন করবে। শিক্ষক-শিক্ষিকাদের আচরণ পড়ুয়াদের প্রভাবিত করে থাকে, তাই এ ধরনের নির্দেশিকার বিশেষ গুরুত্ব রয়েছে।’ অখিল ভারতীয় রাষ্ট্রীয় শৈক্ষিক মহাসংঘের জেলা কমিটির যুগ্ম সম্পাদক সুমন্ত সিংহের কথায়, ‘এমন উদ্যোগে বিদ্যালয়ের পঠনপাঠন অন্যমাত্রা পাবে। সরকারি নির্দেশ মেনে চলার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে আমাদের সংগঠনের সদস্যদের।’
