উত্তরবঙ্গ সংবাদ ডিজিটাল ডেস্ক : এক নজিরবিহীন সিদ্ধান্তের সাক্ষী থাকল রাজ্য বিধানসভা। তৃণমূলের প্রতি ক্ষুব্ধ ও বিদ্রোহী বিধায়কদেরই আনুষ্ঠানিকভাবে প্রধান বিরোধী দলের মর্যাদা দিলেন বিধানসভার স্পিকার রথীন্দ্র বসু। বুধবার তাঁর এই ঐতিহাসিক সিদ্ধান্তের পরই রাজ্য রাজনীতিতে শোরগোল পড়ে গিয়েছে। স্পিকারের সবুজ সংকেত মেলার পরপরই দ্রুত প্রশাসনিক পদক্ষেপ নেওয়া হয়। বিধানসভার সচিব সৌমেন্দ্র নাথ দাস ইতিমধ্যেই নতুন বিরোধী দলনেতা ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের (Ritabrata Banerjee) হাতে বিধানসভার বিরোধী দলনেতার ঘরের চাবি তুলে দিয়েছেন। রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞদের মতে, প্রথাগত বিরোধী দলকে সরিয়ে শাসকদলের প্রতি ক্ষুব্ধ বা বিদ্রোহী একটি গোষ্ঠীকে এই মর্যাদা দেওয়া সংসদীয় গণতন্ত্রের ইতিহাসে অত্যন্ত বিরল ঘটনা। এই সিদ্ধান্তের ফলে আগামী দিনে বিধানসভার অন্দরের সমীকরণ কোন দিকে ঘোরে, এখন সেটাই দেখার।
রাজ্যের নতুন বিরোধী দলনেতা হিসেবে দায়িত্ব পাওয়ার পরেই এক হাইভোল্টেজ সাংবাদিক বৈঠক করেন ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়। সেখানে দলের শক্তি ও আগামী দিনের রণকৌশল নিয়ে বড় দাবি করেন তিনি। ঋতব্রতবাবু জানান, এই মুহূর্তে খাতায়-কলমে ৫৮ জন বিধায়কের লিখিত সম্মতি সরাসরি তাঁদের পক্ষে রয়েছে। তবে আরও ২ জন বিধায়ক তাঁদের পূর্ণ সমর্থন জানিয়েছেন। তাই এই মুহূর্তে তাঁদের মোট বিধায়ক সংখ্যা ‘৬০’ ধরে এগোনোই শ্রেয়। একই সঙ্গে স্বভাবসিদ্ধ ভঙ্গিতে শাসক শিবিরের অস্বস্তি বাড়িয়ে তিনি ইঙ্গিত দেন, আগামী দিনে তাঁদের এই সদস্য সংখ্যা আরও বৃদ্ধি পেতে পারে। বিরোধী দলনেতার দায়িত্ব নিয়েই নিজের নতুন কোর টিম বা কোর কমিটি ঘোষণা করেন ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়। তিনি জানান, এখন থেকে বিধানসভায় তাঁর ‘ডেপুটি’ বা উপ-দলনেতা হিসেবে কাজ করবেন চারজন প্রবীণ ও প্রভাবশালী বিধায়ক। তাঁরা হলেন— জাভেদ খান, সাবিনা ইয়াসমিন, সন্দীপন সাহা এবং শিউলি সাহা।
