আলিপুরদুয়ার: আলিপুরদুয়ারবাসীর (Alipurduar) দীর্ঘদিনের পুঞ্জীভূত ক্ষোভ ও দাবির মুখে অবশেষে টনক নড়ল প্রশাসনের। প্রশাসনিক সূত্রে খবর, প্যারেড গ্রাউন্ডের (Parade Floor) ঐতিহ্য পুনরুদ্ধার ও সার্বিক সৌন্দর্যায়নের লক্ষ্যে প্রায় দুই কোটি টাকার এক বিশাল মেগা প্রকল্পের এস্টিমেট ইতিমধ্যেই পাঠানো হয়েছে উত্তরবঙ্গ উন্নয়ন দপ্তরে (North Bengal Growth Division)। অর্থ বরাদ্দ হলেই মাঠের মূল সংস্কারের কাজ শুরু হয়ে যাবে।
প্রশাসন সূত্রে খবর, এই পরিকল্পনার মূল লক্ষ্য শুধু বাহ্যিক সাজসজ্জা নয়, বরং মাঠের নষ্ট হয়ে যাওয়া প্রাকৃতিক ভারসাম্য পুনরুদ্ধার করা। গত মে মাসে মহকুমা শাসকের দরবারে আয়োজিত এক উচ্চপর্যায়ের বৈঠকে প্যারেড গ্রাউন্ডের ভবিষ্যৎ নিয়ে চুলচেরা বিশ্লেষণ হয়। জনপ্রতিনিধি, স্বেচ্ছাসেবী সংস্থা ও তাবড় আধিকারিকদের উপস্থিতিতে মাঠের বেহাল দশা, নিরাপত্তা এবং দীর্ঘমেয়াদি রক্ষণাবেক্ষণ নিয়ে কড়া আলোচনা হয়। সেই বৈঠকের সর্বসম্মত সিদ্ধান্তের ওপর ভিত্তি করেই এই রূপরেখা তৈরি করা হয়েছে।
নতুন এই খসড়ায় স্পষ্ট নির্দেশ রয়েছে, প্যারেড গ্রাউন্ডের অভ্যন্তরে কোনওরকম স্থায়ী কংক্রিটের চাদর আর বিছাতে দেওয়া হবে না। এমনকি মাঠের সবুজ ও সৌন্দর্য বিনষ্টকারী একাধিক পুরোনো কংক্রিটের কাঠামোকেও এবার সরিয়ে ফেলা হবে। প্রাকৃতিক মাটির আলগা গঠন ফিরিয়ে আনা, জরাজীর্ণ হাঁটার পথ পুনর্নির্মাণ, উন্নত আলো দিয়ে পুরো এলাকা মুড়ে ফেলা, আধুনিক বায়োটয়লেট স্থাপন এবং নিবিড় সবুজায়নে সর্বাধিক গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।
শুধু সৌন্দর্যায়ন নয়, নিরাপত্তার বিষয়েও কড়া অবস্থান নিচ্ছে প্রশাসন। দীর্ঘদিন ধরেই সন্ধ্যার পর প্যারেড গ্রাউন্ডে অসামাজিক কার্যকলাপের অভিযোগ উঠছিল। সেই কারণেই মাঠ ব্যবহারের জন্য নির্দিষ্ট সময়সীমা বেঁধে দেওয়া হবে। পাশাপাশি প্রবেশপথে ঝুলিয়ে দেওয়া হবে কড়া সতর্কতামূলক বোর্ড। নিয়ম ভাঙলেই নামবে আইনি কোপ।
আলিপুরদুয়ারের মহকুমা শাসক রিচার্ড লেপচা সাফ বলেন, ‘মাঠের একাংশে আগে যে পেভার্স ব্লক বসানো হয়েছিল, তা পুরোপুরি খুলে ফেলা হবে। এগুলি অপচয় না করে বীরপাড়া রাজ্য সাধারণ হাসপাতালের পার্কিং জোনে পুনর্ব্যবহার করা হবে। টাকা মিললেই যুদ্ধকালীন তৎপরতায় কাজ শুরু হবে।’
স্থানীয় বিধায়ক পরিতোষ দাসের কথায়, ‘প্যারেড গ্রাউন্ড আমাদের শহরের ঐতিহ্য ও অহংকার। একে তার পুরোনো মহিমায় ফিরিয়ে আনতে আমরা বদ্ধপরিকর। উত্তরবঙ্গ উন্নয়ন দপ্তর থেকে সবুজ সংকেত ও তহবিল এলেই তড়িঘড়ি ময়দানে নামা হবে।’
উল্লেখ্য, প্রতিদিন ভোর ও সন্ধ্যায় এই মাঠে ভিড় জমান হাজারো শহরবাসী। দীর্ঘদিনের অবহেলা, ভাঙাচোরা হাঁটার পথ ও অন্ধকারাচ্ছন্ন পরিবেশ নিয়ে ক্ষোভের শেষ ছিল না। শহরের প্রবীণ নাগরিক অরূপ গঙ্গোপাধ্যায় বলেন, ‘প্যারেড গ্রাউন্ড আলিপুরদুয়ারের ফুসফুস। এতদিন ধরে এর সৌন্দর্য নষ্ট হচ্ছিল। সত্যি যদি পরিকল্পনা রূপ পায়, তবে শহরের স্বস্তি ফিরবে।’ অন্যদিকে বাসিন্দা নন্দিতা দত্তের হুঁশিয়ারি, ‘শুধু সৌন্দর্যায়ন নয়, পরবর্তীকালে অসামাজিক কাজ ও নোংরা রুখতে নজরদারিও সমান কড়া রাখতে হবে।’

