Alipurduar | তৃণমূলের জেলা সভাপতি হওয়ার ‘কাঁটার মুকুট’ নিতে অনাগ্রহী নেতারা! আলিপুরদুয়ারে নজিরবিহীন সংকট

Alipurduar | তৃণমূলের জেলা সভাপতি হওয়ার ‘কাঁটার মুকুট’ নিতে অনাগ্রহী নেতারা! আলিপুরদুয়ারে নজিরবিহীন সংকট

আন্তর্জাতিক INTERNATIONAL
Spread the love


আলিপুরদুয়ার: সময়ের চাকা ঘোরা যেন একেই বলে। একসময় তৃণমূলের জেলা সভাপতি হওয়ার জন্য রীতিমতো প্রতিযোগিতা চলত। গোষ্ঠীকোন্দল আর দলের মধ্যেই একে অন্যকে টক্কর দেওয়া ছবি ছিল চিরপরিচিত। আর এখন সেই জেলা সভাপতি হতেই আগ্রহ নেই নেতাদের। রাজ্যের ক্ষমতা তৃণমূলের (TMC) হাত থেকে সরে গিয়েছে। এমন পরিস্থিতিতে দায়িত্ব এলে এড়ানোর কথাও ভাবছেন অনেকে। অন্তত আলিপুরদুয়ার (Alipurduar) জেলায় তৃণমূলের অবস্থা এমনই।

ক্ষমতা বদলের পর নানা আঘাতে তৃণমূলের কোণঠাসা অবস্থা। দলের সব কমিটি ভেঙে দেওয়া হয়েছিল। সম্প্রতি নতুন করে জেলা সভাপতি বাছাই প্রক্রিয়া চলছে। তবে আলিপুরদুয়ার জেলায় দলের দায়িত্ব কার কাঁধে দেওয়া হবে তাই এখন লাখ টাকার প্রশ্ন। বহু বড় নেতা দলের সঙ্গে দূরত্ব বাড়িয়েছেন। স্বয়ং প্রাক্তন জেলা সভাপতি প্রকাশ চিকবড়াইক দল ছাড়ার কথা ঘোষণা করেছেন। প্রকাশের সঙ্গে তৃণমূলের একটা বড় অংশ রয়েছে বলে খবর। অন্যদিকে, আবার ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়য়ের গোষ্ঠীতেও দলের অনেক নেতা রয়েছেন বলে চর্চা। বাকি থাকা কয়েকটি নামের মধ্যে প্রথমেই রয়েছেন দলের প্রাক্তন চেয়ারম্যান গঙ্গাপ্রসাদ শর্মা। তাঁকে জেলা সভাপতি করা হয় কি না সেই চর্চা চলছে। তবে বিজেপি থেকে আসা গঙ্গাকে দলের বড় দায়িত্ব দেওয়া হবে নাকি পুরোনো সৈনিকদের ওপর মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় আস্থা রাখবেন তা এখনও স্পষ্ট নয়।

গত কয়েকদিনে যে কয়েকটি জেলায় নেতাদের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে সেক্ষেত্রে পুরোনোদেরই দায়িত্বে ফিরিয়ে আনার নজির গড়ছে দল। আলিপুরদুয়ারে এমনটা হলে দলের প্রবীণ নেতা মৃদুল গোস্বামী কিংবা প্রসেনজিৎ করকে নতুন সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব দেওয়া হতে পারে। তবে তাঁরা দায়িত্ব নিতে ইচ্ছুক? প্রশ্ন ছুড়তেই দুজনেরই এক সুরে উত্তর, দায়িত্ব দেওয়া হলে দেখা যাবে। মৃদুল আপাতত আদালতেই বেশি থাকেন। তাঁর কথায়, ‘আপাতত কোর্ট থেকে বাড়ি আর বাড়ি থেকে কোর্ট- এই করছি। দায়িত্ব দেওয়া হবে কি না জানি না। যখন যা হবে, দেখা যাবে।’ এদিকে, আলিপুরদুয়ার পুরসভার চেয়ারম্যান পদ থেকে প্রসেনজিৎ ইস্তফা দিতে পারেন এমন গুঞ্জনও সম্প্রতি শোনা যাচ্ছে। সেক্ষেত্রে তিনি দলের দায়িত্ব নিতে চাইবেন কি না সেটাও দেখার।

জেলার বাকি তৃণমূল নেতারা কেউ বাড়িতে বসে, আবার কেউ তলে তলে দলবদলের চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন। অনেকে আবার রাজনীতি থেকে দূরে। আরেক নেতা সৌরভ চক্রবর্তী আপাতত ধর্মীয় ও সামাজিক কাজে ব্যস্ত। এদিকে, দলের এমন কঠিন সময়ে নতুন জেলা সভাপতির দায়িত্ব যে কয়েকগুণ বেড়ে যাবে তা বোঝাই যাচ্ছে। সংগঠন নতুন করে সাজাতে হবে, বিভিন্ন আন্দোলন সংগঠিত করতে হবে। উত্তরের এই জেলায় ঘাসফুলের সুদিন আবার ফেরাতে দল কোন নেতার নামে ভরসা করে সিলমোহর দেয়, সেটাই এখন দেখার।



Source link

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *