Dooars Tourism Package deal | ঘুরে দাঁড়াতে ‘বর্ষার বনবাস’: জঙ্গল বন্ধ থাকলেও ডুয়ার্সে কেন যাবেন? উত্তর দেবে নতুন প্যাকেজ!

Dooars Tourism Package deal | ঘুরে দাঁড়াতে ‘বর্ষার বনবাস’: জঙ্গল বন্ধ থাকলেও ডুয়ার্সে কেন যাবেন? উত্তর দেবে নতুন প্যাকেজ!

আন্তর্জাতিক INTERNATIONAL
Spread the love


শুভদীপ শর্মা, লাটাগুড়ি: হাড়কাঁপানো ঠান্ডার মধ্যেও শীতের পাহাড়ে কেন পর্যটকরা ছুটে আসেন? সহজ উত্তর, ‘ঘুমন্ত বুদ্ধ’ কাঞ্চনজঙ্ঘার টানে। বর্ষায় পাহাড় না ডুয়ার্স, এমন প্রশ্ন কোনও পর্যটককে করলে নিশ্চিতভাবে এগিয়ে থাকবে জঙ্গল। কিন্তু পাশাপাশি শোনা যাবে আক্ষেপের কথা। কেননা, বর্ষার সময় বন্যপ্রাণের প্রজনন ঋতুর জন্য জঙ্গলপথ বন্ধ হয়ে যায় তিন মাসের জন্য। কিন্তু বর্ষায় সময়কালকেই সম্ভাবনা হিসেবে দেখছেন ডুয়ার্সের (Dooars) পর্যটন ব্যবসায়ীরা। তাই এখানকার ব্যবসায়ীরা এবার ‘বর্ষার বনবাস’ প্যাকেজ (Dooars Tourism Package deal) তৈরি করে পর্যটকদের ডুয়ার্সে আসার আমন্ত্রণ জানাচ্ছেন।

উত্তরের বাকি জঙ্গলের সঙ্গে আগামী ১৬ জুন থেকে তিন মাস সাধারণের জন্য প্রবেশ নিষিদ্ধ হচ্ছে গরুমারা জাতীয় উদ্যান (Gorumara Nationwide Park) ও জলদাপাড়া জাতীয় উদ্যানে। প্রতি বছরই এই সময় পর্যটকরা জঙ্গলে প্রবেশ করতে পারেন না। ফলে ডুয়ার্সের পর্যটনে পুজোর মুখে ভাটা দেখা দেয়। কিন্তু এবছর এই সময়কে চ্যালেঞ্জ হিসেবে নিচ্ছেন এখানকার পর্যটন ব্যবসায়ীরা। ‘বর্ষায় বনবাস’, নতুন ট্যাগলাইনকে সামনে রেখে তৈরি করা হয়েছে বিশেষ পর্যটন প্যাকেজ। জঙ্গলে প্রবেশ বন্ধ থাকলেও জঙ্গল সংলগ্ন বিভিন্ন সড়কপথে ভ্রমণের সুযোগ রাখা হয়েছে এই প্যাকেজে। গরুমারা ও লাটাগুড়ি এলাকার জঙ্গলপথ, লাটাগুড়ি থেকে ছাওয়াফুলি যাওয়ার রাস্তা, এমনকি চাপড়ামারি যাওয়ার পথও অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে পর্যটকদের ভ্রমণসূচিতে। পর্যটকদের সাধ্যের কথা ভেবে প্যাকেজ তৈরি, দাবি করছেন পর্যটন ব্যবসায়ীরা।

পর্যটকদের কাছে বর্ষার ডুয়ার্স অন্যমাত্রায় ধরা দেয়। কখনও রিমঝিম কখনও আবার ঝমাঝম বৃষ্টি, সঙ্গে রোদ ও মেঘের লুকোচুরি। আবহাওয়ার এমন খেয়ালিপনায় জঙ্গল ঘেরা নির্জন রিসর্টের বারান্দায় বসে এক কাপ চা, যে কোনও পর্যটককেই প্রকৃতিপ্রেমী করে তোলে। পাশাপাশি, বর্ষায় সবুজে মোড়া জঙ্গল এবং পাহাড়ি খরস্রোতা মূর্তি, ডায়না ও নেওড়া নদীর উচ্ছ্বাস পর্যটকদের কাছে বাড়তি আকর্ষণ হয়ে উঠতে পারে বলে মনে করছে পর্যটন মহল। ডুয়ার্স ট্যুরিজম ডেভেলপমেন্ট ফোরামের সাধারণ সম্পাদক দিব্যেন্দু দেব বলছেন, ‘বর্ষার সময় জঙ্গলে প্রবেশ বন্ধ থাকলেও, জঙ্গল সংলগ্ন রাস্তাগুলিতে প্রায়শই বন্যপ্রাণীর দেখা মেলে। সেই অভিজ্ঞতাকে মাথায় রেখেই প্যাকেজ তৈরি করা হয়েছে।’

শুধু জঙ্গল লাগোয়া রাস্তা বা এলাকা নয়, পর্যটকদের জন্য বাড়তি আকর্ষণ হিসেবে রাখা হয়েছে চা বাগান ও চা কারখানা পরিদর্শনের সুযোগ। ফলে পাতা তোলা থেকে চা তৈরির সম্পূর্ণ প্রক্রিয়া কাছ থেকে দেখার সুযোগ মিলবে পর্যটকদের। লাটাগুড়ি রিসর্ট ওনার্স অ্যাসোসিয়েশনের যুগ্ম সম্পাদক অনুপ গোপ জানান, ভাবনাকে সার্থক করতে ইতিমধ্যেই সামাজিক মাধ্যম ও বিভিন্ন পর্যটনমেলার মাধ্যমে প্যাকেজের প্রচার শুরু হয়েছে। বুকিং নিয়েও আগ্রহ দেখাচ্ছেন পর্যটকরা। বর্ষার এই ভাবনা আগামীদিনে ডুয়ার্সের পর্যটনে নতুন দিশা দেখাবে, এই আশাতেই বর্ষা-বৃষ্টির প্রতীক্ষায় এখন পর্যটন মহল।



Source link

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *