উত্তরবঙ্গ সংবাদ অনলাইন ডেস্ক: ধর্মীয় বিভাজনের সব দেওয়াল ধূলিসাৎ করে সম্প্রীতির এক অনন্য নজির স্থাপন করল জম্মু ও কাশ্মীরের (Jammu and Kashmir) একদল তরুণী। আন্তর্জাতিক যোগ দিবসকে (২১ জুন) সামনে রেখে যোগব্যায়ামের মাদুরে পাশাপাশি বসে একাত্ম হলেন মুসলিম ও হিন্দু মেয়েরা। আধুনিক বিশ্বের অস্থিরতায় যখন অনেকেই সমাজকে সংকীর্ণ দৃষ্টিভঙ্গিতে দেখেন, তখন কাশ্মীরের এই ছবি যেন ‘এক ভারত, শ্রেষ্ঠ ভারত’-এর প্রকৃত বার্তা বহন করছে।
হিজাব পরিহিত মুসলিম তরুণী এবং তাঁদের হিন্দু সতীর্থরা একই সাথে যোগাসন অনুশীলন করে প্রমাণ করলেন যে, বিশ্বাস ও শরীরচর্চা—উভয়ই সহাবস্থান করতে পারে। এই উদ্যোগের অন্যতম অংশীদার সমাজকর্মী ড. ডেইজি পরিহার (Daisy Parihar) বলেন, “স্বাস্থ্য এবং সুস্থতা কোনো নির্দিষ্ট ধর্মের গণ্ডিতে আবদ্ধ নয়। যোগাসন শারীরিক সুস্থতা ও মানসিক প্রশান্তির এক অমোঘ পথ, যা সব ধরনের ভেদাভেদ অতিক্রম করতে শেখায়।”
অংশগ্রহণকারী তরুণীদের মতে, যোগাসন তাঁদের কাছে কেবল একটি ব্যায়াম নয়, বরং জীবনযাপনের এক নতুন পথ। পিসিওডি (PCOD)-এর মতো সমস্যায় আক্রান্ত সোভেনা জানান, “কিছু মানুষ ভুলবশত যোগাসনকে ধর্মের সাথে গুলিয়ে ফেলেন। কিন্তু আমি ব্যক্তিগতভাবে যোগব্যায়াম শুরু করার পর থেকে আমার স্বাস্থ্যের অভাবনীয় উন্নতি দেখেছি। এর সারমর্ম হল সার্বজনীন সুস্থতা।”
অন্য এক অংশগ্রহণকারী মুসকান বলেন, “আজকের এই দৌড়ঝাঁপের জীবনে মানসিক উদ্বেগ দূর করে সুস্থ জীবন ফিরে পেতে যোগাসন একটি অপরিহার্য ভূমিকা পালন করছে।”
আন্তর্জাতিক যোগ দিবসকে বিশ্বব্যাপী জনপ্রিয় করার জন্য প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর নেতৃত্বের ভূয়সী প্রশংসা করেছেন অংশগ্রহণকারীরা। ইরফানা নামের এক তরুণী বলেন, “প্রধানমন্ত্রী মোদীর উদ্যোগেই যোগাসন আজ সারা বিশ্বে ভারতের গর্ব হয়ে দাঁড়িয়েছে। এটি মানবজাতির কল্যাণের জন্য এক বিশেষ উপহার।”
কাশ্মীরের এই দৃশ্য প্রমাণ করে যে, যোগাসন কেবল শরীরকে সুস্থ রাখে না, বরং সামাজিক মেলবন্ধনের একটি শক্তিশালী মাধ্যম হিসেবেও কাজ করে। আজ এই তরুণীরা যোগাসনের মাধ্যমে যে ঐক্যের বার্তা দিলেন, তা আগামী প্রজন্মের জন্য এক উজ্জ্বল উদাহরণ হয়ে থাকবে। স্বাস্থ্য যে কোনো ধর্মের ঊর্ধ্বে—এই সত্যই পুনরায় প্রতিষ্ঠিত হল উপত্যকার এই যোগচর্চার কেন্দ্রে।

