Alipurduar | এক দশকে আলিপুরদুয়ারে কোটি কোটি টাকার রাজস্ব ফাঁকি! বালি-পাথরের কারবারে ফুলেফেঁপে উঠল কারা?

Alipurduar | এক দশকে আলিপুরদুয়ারে কোটি কোটি টাকার রাজস্ব ফাঁকি! বালি-পাথরের কারবারে ফুলেফেঁপে উঠল কারা?

শিক্ষা
Spread the love


আলিপুরদুয়ার: একটা ছোট্ট হিসেব। ২০১৭-’১৮ অর্থবর্ষে বালি-পাথরের কারবার থেকে আলিপুরদুয়ার জেলা প্রশাসনের (Alipurduar District Administration) রাজস্ব আদায় ছিল প্রায় ১৩ কোটি ৮৭ লক্ষ টাকা। ২০২৫-’২৬ অর্থবর্ষে সেই আদায় হয়েছে প্রায় ৯ কোটি ৯৬ লক্ষ টাকা। বিগত এক দশকের হিসাব দেখলে নজরে আসছে কয়েক বছরে রাজ্য সরকারের তহবিলে রাজস্ব কমেছে। অথচ বাস্তবে নদী থেকে বালি-পাথর তোলার কারবার আরও ফুলেফেঁপে উঠেছে। কোনও জায়গায় বৈধভাবে, কোনও জায়গায় অবৈধভাবে। তবে, সরকার বদল হওয়ায় অবৈধ কারবার অনেকটাই নিয়ন্ত্রিত। তবে, কারবার চললেও সরকারের খাতে রাজস্ব কম জমা হয়েছে বিগত কয়েক বছরে। যার অন্যতম কারণ হল রাজস্ব ফাঁকি দেওয়া হয়েছে।

বালি-পাথরের অবাধ কারবারে টাকা গিয়েছে পাচারকারীদের পকেটে। প্রশাসনের একটা অংশও সেই টাকার ভাগ নিয়েছে বলে অভিযোগ। ওই টাকা দিয়ে বালি মাফিয়াদের রাজকীয় জীবনযাপনও নজরে এসেছে কয়েক বছরে। আবার কয়েকজনের রকেটের গতিতে উত্থান হয়েছে।

সরকার বদল হতেই এই বিষয়ে তদন্তের দাবি উঠছে। তবে আদৌ তদন্ত হবে কি না সেটা বড় প্রশ্ন। বিষয়টি কি প্রশাসনের নজরে রয়েছে? জিজ্ঞাসা করায় জেলা ভূমি ও ভূমি সংস্কার দপ্তরের এক শীর্ষ কর্তা বলেন, পুরোনো কোনও বিষয় নিয়ে অভিযোগ হলে তদন্ত হতে পারে। এখন কোনও তদন্ত হচ্ছে না। এখন যেন রাজস্ব ফাঁকি না হয় সেই দিকে বেশি নজর দেওয়া হয়েছে।

রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্ত বালি-পাথরের করবার নিয়ে প্রশাসনের তদন্ত চলছে। বীরভূমে (Birbhum) ম্যারাথন তল্লাশি চলছে। তবে আলিপুরদুয়ার জেলায় তেমন কিন্তু না দেখতে পাওয়ায় বারবার প্রশ্ন উঠছে। সেইসঙ্গে এবার জুড়ছে রাজস্ব ফাঁকি দেওয়ার বিষয়টিও। আলিপুরদুয়ার জেলায় সব থেকে বড় শিল্প হল চা। সেই শিল্পের পর অলিখিতভাবে দ্বিতীয় বড় শিল্প বালি-পাথরের করবার। তবে এই শিেল্প বদনাম বেশি। কেননা কারবারে অবৈধ পদ্ধতি এত চলেছে যে সেটা নিয়ে বারবার প্রশ্ন উঠেছে।

আলিপুরদুয়ার (Alipurduar) জেলায় বালি-পাথরের কারবার বহু পুরোনো। তবে সেটা কিছু লোকের নিয়ন্ত্রণে ছিল। ২০১৫-’১৬ সাল থেকে জেলায় এই কারবারে অনেকে বেশি লোক জড়িয়ে পড়ে। ২০১৬ সালে বিভিন্ন নদী থেকে বালি-পাথর তোলার টেন্ডার করা হয়। সেখানে একটি নদীঘাটে অনেকেই শেয়ার দিয়ে বৈধ ব্যবসা শুরু করলেও, বৈধ ব্যবসার আড়ালে অবৈধ কারবারেও হাত পাকাতে শুরু করেন অনেকেই।

ভূমি ও ভূমি সংস্কার দপ্তর যে পরিমাণ বালি-পাথর তোলার অনুমতি দিয়েছে তার থেকে অনেক বেশি বালি-পাথর তোলা, যে পরিমাণ মজুত করার অনুমতি রয়েছে তার থেকে বেশি মজুত করে বৈধ কাগজে ব্যবসা- সবই চলেছে প্রশাসন ও রাজনৈতিক নেতাদের একাংশের সঙ্গে বোঝাপড়ায়।

২০২৩ সালের ডিস্ট্রিক্ট সার্ভে রিপোর্ট বলছে, ২০১৭-’১৮ অর্থবর্ষে প্রায় ১৩ কোটি ৮৭ লক্ষ, ২০১৮-’১৯ অর্থবর্ষে প্রায় ১২ কোটি ৩৬ লক্ষ, ২০১৯-’২০ অর্থবর্ষে প্রায় ১০ কোটি ৪৫ লক্ষ, ২০২০-’২১ অর্থবর্ষে প্রায় ৮ কোটি ৩৫ লক্ষ টাকা রাজস্ব পেয়েছিল জেলা প্রশাসন। ২০২৫-’২৬ অর্থবর্ষে সেই আয় প্রায় ৯ কোটি ৯৬ লক্ষ টাকা হলেও বর্তমানে যে আয় হচ্ছে সেটার বড় অংশ আসছে এনএইচএআই-এর বালি-পাথর সরবরাহ থেকে। মহাসড়কের কাজের জন্য বেডমিশালি নিচ্ছে ওই সংস্থা। তারা মোটা টাকা দিচ্ছে। তবে কয়েক বছর আগে সাধারণ রয়্যালটি বাবদ যে আয় হত সেটা পুরোটাই ছিল বালি-পাথর সরাসরি বিক্রির। কাজেই আয় যে অনেকটা কমেছে সেটা স্পষ্ট।

জেলার বিভিন্ন জায়গায় দেখা গিয়েছে এই কারবারে যাঁরা যুক্ত তাঁদের রাজকীয় উত্থান। অনেকেই বিভিন্ন জায়গায় জমি কিনেছেন, বাড়ি করেছেন, দামি গাড়ি কিনেছেন। বিশেষ করে ২০২১ সালের পর বিভিন্ন নদী থেকে বালি-পাথর তোলার টেন্ডারের মেয়াদ শেষ হয় যায় এবং নতুন করে টেন্ডার হয়নি। এর পর থেকে যে ব্যবসা হয়েছে সেটা পুরোটাই ছিল কালো টাকা। সিন্ডিকেট করে বিভিন্ন নদীতে কারবার চলেছে। তাতে শাসকদলের প্রত্যক্ষ মদতও ছিল বলে অভিযোগ। গাড়ি প্রতি টাকা ধরা থাকত বিভিন্ন নেতার মাসিক নজরানা। এমনকি একটা ভাগ প্রশাসনের কিছু কর্মীর কাছেও যেত বলেও অভিযোগ। এসব নিয়ে আদৌ তদন্ত হয় কি না, সেটাই প্রশ্ন জেলার অনেকের।



Source link

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *