আলিপুরদুয়ার: চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে হওয়া অডিটে একাধিক আর্থিক অনিয়মের অভিযোগ উঠে আসার পর যে বিতর্কের সূত্রপাত হয়েছিল, তারই যেন দ্বিতীয় পর্বের ইঙ্গিত মিলল এবার। শীঘ্রই রাজ্যের একটি বিশেষ অডিট টিম আলিপুরদুয়ার পুরসভায় (Alipurduar Municipality) আসতে চলেছে এবং প্রয়োজনে টানা ১৫ দিন পর্যন্ত থেকে পুরসভার বিভিন্ন আর্থিক নথি ও প্রকল্পের হিসেব খতিয়ে দেখতে পারে বলে দাবি করেছেন আলিপুরদুয়ারের বিধায়ক পরিতোষ দাস। রবিবার রাতে সোশ্যাল মিডিয়ায় প্রকাশিত একটি ভিডিও বার্তায় তিনি এই দাবি করেছেন (যদিও উত্তরবঙ্গ সংবাদ ভিডিওটির সত্যতা যাচাই করেনি)। তাঁর বক্তব্য প্রকাশ্যে আসতেই রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক মহলে নতুন করে জোর জল্পনা শুরু হয়েছে।
২০২৫-’২৬ অর্থবর্ষের ফেব্রুয়ারি মাসে রাজ্যের অডিট টিম আলিপুরদুয়ার পুরসভায় দীর্ঘ সময় ধরে বিভিন্ন দপ্তরের আর্থিক নথি, প্রকল্পভিত্তিক ব্যয়, বিল, ভাউচার এবং হিসাবপত্র পরীক্ষা করে। পরবর্তীতে সেই সমস্ত তথ্য বিশ্লেষণ করে একটি বিস্তৃত অডিট রিপোর্ট (Audit Report) রাজ্য সরকারের কাছে জমা দেওয়া হয়। ওই রিপোর্টে কয়েক কোটি টাকার আর্থিক নিয়ম লঙ্ঘন, হিসাবরক্ষণে অসংগতি এবং একাধিক প্রকল্পে গুরুতর অনিয়মের উল্লেখ ছিল। সেই রিপোর্টের ভিত্তিতেই পুরসভাকে শোকজ করা হয় এবং পরবর্তী সময়ে বিষয়টি প্রশাসনিক স্তরেও বিশেষ গুরুত্ব পায়।
এবার সেই অডিটের ধারাবাহিকতায় আরও গভীর তদন্ত হতে পারে বলে দাবি বিধায়কের। এ বিষয়ে তিনি বলেন, ‘শুধুমাত্র কাগজে-কলমে হিসেব মিলিয়ে নয়, প্রয়োজন হলে একাধিক প্রকল্পের নথি, অর্থবরাদ্দ, ব্যয়ের খতিয়ান এবং প্রশাসনিক সিদ্ধান্তের পূর্ণাঙ্গ যাচাই করা হবে।’ এজন্য বিশেষ অডিট টিম প্রয়োজনে টানা ১৫ দিন আলিপুরদুয়ারে থেকে কাজ করতে পারে বলেও তিনি দাবি করেন। যদিও এই বিষয়ে এখনও পর্যন্ত রাজ্য সরকারের তরফে কোনও আনুষ্ঠানিক নির্দেশ বা বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হয়নি।
চলতি বছরের শুরু থেকেই আলিপুরদুয়ার পুরসভাকে ঘিরে একের পর এক বিতর্ক সামনে এসেছে। অডিট রিপোর্টে আর্থিক অনিয়মের অভিযোগ সামনে আসার পর রাজনৈতিক চাপ বাড়তে থাকে। এরপর চেয়ারম্যান ও ভাইস চেয়ারম্যানের পদত্যাগ, পুর বোর্ড ভেঙে প্রশাসক নিয়োগ, সেই সিদ্ধান্তকে ঘিরে আইনি লড়াই এবং আদালতের নির্দেশে প্রশাসক নিয়োগ বাতিল হওয়ায় রাজ্য রাজনীতির আলোচনায় রয়েছে আলিপুরদুয়ার পুরসভা। বর্তমানে বোর্ড পুনর্গঠনের প্রক্রিয়া নিয়ে অনিশ্চয়তার মধ্যেই বিশেষ অডিটের সম্ভাবনার দাবি নতুন মাত্রা যোগ করেছে।
রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের একাংশের মতে, যদি বিশেষ অডিট টিম (Audit Crew) সত্যিই আসে, তাহলে ফেব্রুয়ারির রিপোর্টে চিহ্নিত বিষয়গুলির পাশাপাশি আরও নতুন তথ্য সামনে আসতে পারে। বিশেষ করে বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্পে সরকারি অর্থের ব্যবহার, আর্থিক নিয়ম মেনে ব্যয় হয়েছে কি না, নথিপত্রে কোনও অসংগতি রয়েছে কি না, এই সমস্ত বিষয়ই খতিয়ে দেখা হতে পারে বলে প্রশাসনিক মহলের একাংশের ধারণা। বিধায়ক বলেন, ‘সাধারণ মানুষের টাকার হিসাব স্বচ্ছভাবে তুলে ধরা এবং পুরসভার আর্থিক কার্যকলাপের পূর্ণাঙ্গ নিরীক্ষাই এই উদ্যোগের মূল লক্ষ্য।’

