আলিপুরদুয়ার: ‘এখানে কি যুবশক্তির ফর্ম দেওয়া হচ্ছে?’ বুধবার আলিপুরদুয়ার (Alipurduar) ইন্ডোর স্টেডিয়ামে জনকল্যাণ শিবিরের রেজিস্ট্রেশন টেবিলে সরকারি কর্মীদের প্রশ্ন করলেন এক তরুণ। নেতিবাচক উত্তর পেয়ে অন্য টেবিলে কিছুক্ষণ উঁকিঝুঁকি দিয়ে একরাশ হতাশা নিয়েই স্টেডিয়াম থেকে বেরিয়ে গেলেন তিনি। কথা বলে জানা গেল, ওই তরুণের নাম নীলাদ্রি সাহা। তিনি দেবীনগরের বাসিন্দা। ক্ষোভের সুরে তিনি বললেন, ‘সব সরকারই ভাঁওতা দেয়। ভোটের আগে বিজেপি বলেছিল যুব শক্তি প্রকল্পে ভাতা দেবে। একমাস পার হয়ে গেলেও সেটা নিয়ে কোনও কথা নেই। কবে দেওয়া হবে ওই ভাতা?’
শুধু ওই তরুণই নয়, আলিপুরদুয়ারের বিভিন্ন জনকল্যাণ শিবিরের রাজ্য সরকারের ভাতা নিয়ে মানুষের মনে যেন ক্ষোভের অন্ত নেই। তৃণমূল আমলে ভাতা নিয়ে পদ্ম নেতারা তুমুল সমালোচনা করলেও ভোটের আগে তাঁরাও ভাতা দেওয়ার কথা ঘোষণা করেন। ১৫০০ টাকার ‘লক্ষ্মীর ভাণ্ডার’-এর বিকল্প হিসাবে ঘোষণা করা হয় ৩০০০ টাকার ‘অন্নপূর্ণা ভাণ্ডার’, আবার ‘যুবসাথী প্রকল্প’ বদলে করা হয় ‘যুবশক্তি প্রকল্প’। ভোটের আগে তৃণমূল সরকারের প্রত্যেক উপভোক্তা ভাতা পাবে বলে বিজেপি ঘোষণা করলেও, এখন ওই ভাতা নিয়েই সংশয় দেখা যাচ্ছে।
অন্নপূর্ণা ভাণ্ডারের ক্ষেত্রে একগুচ্ছ শর্ত আরোপ করেছে বিজেপি সরকার। তেরো পাতার বিশালাকার ফর্ম দেখে অনেকেরই চক্ষুচড়কগাছ। শর্ত দেখে পরিষ্কার, আগে যারা লক্ষ্মীর ভাণ্ডার পেতেন, তাঁরা সবাই এই প্রকল্পের উপভোক্তার স্বীকৃতি পাবেন না। অন্যদিকে, যুবশক্তি প্রকল্প কবে দেওয়া হবে, তা নিয়ে সরকারের তরফে স্পষ্ট করে কোনও ঘোষণা নেই। ফলে ভাতার রাজনীতি আগামী দিনে বিজেপির জন্য বুমেরাং হতে পারে বলে মনে করছে রাজনৈতিক মহলের একাংশ। ইতিমধ্যেই অনেক বিজেপির নেতারা মানুষের প্রশ্নের মুখে পড়ছেন।
বঞ্চুকামারির জনকল্যাণ শিবিরে উপস্থিত মুনমুন বর্মন, সোনেকা বর্মনরা জানালেন, তাঁরা বিগত দুই মাস লক্ষ্মীর ভাণ্ডারের টাকা পাননি। অন্নপূর্ণা ভাণ্ডারের জন্য আবেদন করেছেন তাও প্রায় ১৫ দিন আগে। অথচ সেই টাকা এখনও অ্যাকাউন্টে ঢোকেনি। কেন টাকা ঢুকছে না, সেবিষয়ে খোঁজ নিতেই তাঁরা শিবিরে এসেছিলেন।
তবে বিজেপির নেতা ও জনপ্রতিনিধিরা আশ্বস্ত করছেন, সব পরিষেবা শুরু হবে। আলিপুরদুয়ারের বিধায়ক পরিতোষ দাসের কথায়, ‘নতুন সরকার এসেছে। সব কাজ গুছিয়ে করা হচ্ছে। কারও কোনও চিন্তা করার প্রয়োজন নেই। যে প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছে, সেগুলো রাখা হবে। যোগ্যরা সমস্ত ভাতা পাবেন।’ এই দুই ভাতা ছাড়া অন্য ভাতা নিয়েও প্রশ্ন উঠছে। যেমন, জনকল্যাণ শিবিরে সব বয়স্ক মানুষ বার্ধক্য ভাতার ফর্ম পাচ্ছেন না। শুধু তপশিলি জাতি-উপজাতির মানুষকে ফর্ম দেওয়া হচ্ছে। গত দুই মাসে ভাতা অনিয়মিতভাবে ঢুকছে বলে চর্চা চলছে।
প্রতিবন্ধীদেরও মানবিক ভাতার এক মাসের টাকা ঢোকেনি। রাজ্য প্রতিবন্ধী সম্মিলনি জেলা সম্পাদক বিনয় ধর বলেন, ‘অনেক প্রতিবন্ধীর সংসার চলে এই ভাতা দিয়েই। আমরা কয়েকদিন অপেক্ষা করব। ভাতা সময়মতো না ঢুকলে আগামী পদক্ষেপ ঠিক হবে।’

