আহমেদাবাদ: শুরুটা হয়েছিল ১৪ নভেম্বর ইডেন গার্ডেন্সে। সেই শুরু যে ক্রমশ ক্রিকেট ইতিহাসের অন্যতম স্মরণীয় সিরিজে পরিণত হবে, কে আর জানত। প্রথমে টেস্ট সিরিজ, পরে একদিনের ক্রিকেট ও সবশেষে চলতি টি২০ সিরিজের এখন শেষবেলা। অপেক্ষা আর একটা ম্যাচের। শুক্রবার আহমেদাবাদের নরেন্দ্র মোদি স্টেডিয়ামে কুড়ির ক্রিকেটে ভারত বনাম দক্ষিণ আফ্রিকার চলতি সিরিজের ফয়সালা। জিতলেই সূর্যকুমার যাদবের হাতে উঠবে ফ্রিডম ট্রফি। আর শেষ টি২০ ম্যাচে ভারতের হার মানেই দক্ষিণ আফ্রিকা আরও মাথা উঁচু করে, বুকের ছাতি ফুলিয়ে ভারত থেকে বিদায় নেবে। আগামী ফেব্রুয়ারি-মার্চে নির্ধারিত থাকা টি২০ বিশ্বকাপের লক্ষ্যে আইডেন মার্করামদের আত্মবিশ্বাস এভারেস্টের উচ্চতাকে ছাপিয়ে যাবে।
লখনউ বিতর্ক এখনও চলছে, চলবেও। ক্রমশ বড় আকার নিচ্ছে কুয়াশা ও বায়ু দূষণের কারণে একানা স্টেডিয়ামে ভেস্তে যাওয়া ভারত বনাম দক্ষিণ আফ্রিকার চার নম্বর টি২০ ম্যাচ। শীতের সময় ডিসেম্বর-জানুয়ারি মাসে উত্তর ভারতে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট আয়োজন করাই উচিত নয়, এমন দাবিও উঠে গিয়েছে। গতরাতের একানা স্টেডিয়ামে আড়াই ঘণ্টা অপেক্ষা, মোট ছয়বার মাঠ পর্যবেক্ষণের পর আম্পায়াররা ম্যাচ বাতিলের সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন। বাইশ গজের দৃশ্যমান্যতা ছিল খুব খারাপ। কয়েক হাত দূরের কিছু দেখা যাচ্ছিল না। অথচ, দেশের উত্তর প্রান্তে প্রতিবারই শীতের সময় এমন হয়। ভারতীয় ক্রিকেট কন্ট্রোল বোর্ডের রোটেশন পদ্ধতিতে লখনউ ম্যাচ পেলেও আগামীদিনে যেন ফের এমন ঘটনা না হয়, তা নিয়ে বোর্ডের অন্দরেও আলোচনা শুরু হয়েছে বলে খবর।
লখনউ অস্বস্তির মধ্যে টিম ইন্ডিয়ার জন্য খারাপ-ভালো, দুই খবরই সামনে আসছে। ভালো খবর, ব্যক্তিগত কারণে মুম্বই ফিরে যাওয়া জোরে বোলার জসপ্রীত বুমরাহ আহমেদাবাদে দলের সঙ্গে যোগ দিয়েছেন। আজ সিরিজের শেষ টি২০ ম্যাচে বুমরাহ খেলবেন বলেই খবর। খারাপ খবরের কেন্দ্রে সেই শুভমান গিল। ইডেন টেস্টে ব্যাটিংয়ের সময় ঘাড়ে চোট পেয়ে ক্রিকেট থেকে ছিটকে গিয়েছিলেন। পরে ক্রিকেটের মূল স্রোতে ফিরলেও একেবারেই ছন্দে দেখা যায়নি তাঁকে। এহেন শুভমানের পায়ে চোট রয়েছে বলে খবর। ভারতীয় দলের তরফে গিলের নয়া চোট নিয়ে কোনও মন্তব্য করা হয়নি। কিন্তু লখনউয়ে গতরাতে খেলা হলে শুভমানকে প্রথম একাদশের বাইরে থাকতে হত বলেই খবর। শুধু তাই নয়, সিরিজের শেষ টি২০ ম্যাচেও প্রবলভাবে অনিশ্চিত গিল। তাঁর পরিবর্তে সঞ্জু স্যামসনকে দেখতে পাওয়ার সম্ভাবনা প্রবল। শেষ টি২০ ম্যাচে আচমকা সুযোগ পেয়ে সঞ্জু রান করে দিলে ফের অস্বস্তিতে পড়তে হবে গিলকে, ভারতীয় টিম ম্যানেজমেন্টকেও।
শেষ ম্যাচ জিতলেই সিরিজ ড্র, এমন আবহে আগামীকাল নরেন্দ্র মোদি স্টেডিয়ামে খেলতে নামার আগে প্রোটিয়ারা তাদের প্রথম একাদশে কোনও পরিবর্তন করবে কিনা, স্পষ্ট নয়। তবে প্রায় শেষ পর্বে পৌঁছে যাওয়া ভারত সফরে মার্কো জানসেন, কুইন্টন ডি কক, কেশব মহারাজরা যে ক্রিকেট উপহার দিয়েছেন, টিম ইন্ডিয়াকে বারবার চাপে ফেলেছেন-মনে রাখবে ক্রিকেট দুনিয়া। বিরাট কোহলি, রোহিত শর্মার সৌজন্যে একদিনের সিরিজে হারতে হলেও দক্ষিণ আফ্রিকার টেস্ট সিরিজ জয়ের পাশে কাল টি২০ সিরিজ ড্র করতে পারলে নিশ্চিতভাবেই গৌতম গম্ভীরদের গালে থাপ্পড় খেতে হবে।
টিম ইন্ডিয়ার অধিনায়ক সূর্যকুমারের জন্যও ফের পরীক্ষার মঞ্চ। ধরমশালায় তিন নম্বর ম্যাচে জয়ের পর ভারত অধিনায়ক নিজেই স্বীকার করে নিয়েছিলেন তাঁর ব্যাটে রান না থাকার কথা। ছবিটা বদলানোর আপাতত শেষ সুযোগ স্কাইয়ের জন্য। শেষ ২১ ইনিংসে ১১৯.৫ স্ট্রাইকরেটে ২৩৯ রান সূর্যের জন্য মোটেও ভালো বিজ্ঞাপন নয়। ফ্রিডম ট্রফি জয়ের পাশে স্কাই নিজের ভাগ্যের চাকা ঘোরাতে পারেন কিনা, মোদি স্টেডিয়ামে তারও পরীক্ষা হতে চলেছে আজ।
