শিলিগুড়ি: উত্তরবঙ্গের নগরোন্নয়ন ও নারী কল্যাণে বড় পদক্ষেপের ব্লু-প্রিন্ট তৈরি করল রাজ্যের নতুন সরকার। রবিবার শিলিগুড়ির উত্তরকন্যায় এক উচ্চপর্যায়ের প্রশাসনিক বৈঠক (Uttar Kanya Assembly) থেকে নারী ও শিশুকল্যাণ এবং পুর ও নগরোন্নয়নমন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পাল (Agnimitra Paul) এক গুচ্ছ মেগা প্রকল্পের ঘোষণা করলেন। যার মধ্যে সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য হলো— শিলিগুড়ি, দার্জিলিং, কার্শিয়াং, কালিম্পং এবং মিরিক, এই পাঁচটি প্রধান শহরকে এক সুতোয় বেঁধে ‘হিমালয়ান হিল সিটি’ (Himalayan Hill Metropolis) গড়ে তোলার পরিকল্পনা। এই মেগা প্রকল্পের মাধ্যমে পাহাড় ও সমতলের এই সংযোগকারী শহরগুলির পর্যটন, পানীয় জল, এবং আধুনিক নাগরিক পরিষেবাকে এক আন্তর্জাতিক মানে নিয়ে যাওয়ার লক্ষ্য নেওয়া হয়েছে।
শহরের ভোলবদল করতে মন্ত্রী কেবল পরিকল্পনাই পেশ করেননি, স্পষ্ট ভাষায় বেঁধে দিয়েছেন কড়া ডেডলাইন। আগামী ১ সেপ্টেম্বর থেকে রাজ্যজুড়ে লাগু হচ্ছে নতুন নিয়ম। জানা গেছে, আধুনিক নাগরিক পরিষেবা নিশ্চিত করতে প্রতিটি বাড়িতে বসানো হবে ইউনিক QR Code। পাশাপাশি ১ সেপ্টেম্বর থেকে শহরের রাস্তায় নোংরা ফেললে সরাসরি জরিমানা করা হবে বলেও জানিয়েছেন মন্ত্রী। ‘স্বচ্ছ অ্যাপ’ ডাউনলোড করে নাগরিকরা রাস্তার আবর্জনার ছবি তুলে আপলোড করলেই, মাত্র ২ ঘণ্টার মধ্যে পুরসভা তা পরিষ্কার করতে বাধ্য থাকবে বলে ঘোষণা করেছেন মন্ত্রী। এছাড়াও আগামী সাত দিন ‘নির্মলবন্ধুরা’ বাড়ি বাড়ি গিয়ে পচনশীল ও অপচনশীল বর্জ্য আলাদা করার পাঠ দেবেন। এরপরেও নিয়ম না মানলে সেই বাড়ি থেকে জঞ্জাল নেওয়া বন্ধ করে দেওয়া হবে।
এবার বর্ষায় শিলিগুড়ি-সহ উত্তরবঙ্গের অন্যান্য শহরে যাতে জল না জমে (Waterlogging resolution), তার জন্য জেলাশাসক, সাংসদ ও বিধায়কদের যুদ্ধকালীন তৎপরতায় নিকাশি নালা সাফাইয়ের নির্দেশ দিয়েছেন মন্ত্রী। পাশাপাশি যানজট রুখতে শহরের যত্রতত্র বেআইনি পার্কিংয়ের বিরুদ্ধেও কড়া পদক্ষেপের হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়েছে। সরকারি জমিতে আবাসন এবং আধুনিক সুলভ শৌচালয় তৈরির নির্দেশও দেন তিনি।
এদিনের বৈঠকে নারী ও শিশু কল্যাণ দপ্তরের মাধ্যমে উত্তরবঙ্গে মহিলাদের স্বনির্ভর করতে এক চমৎকার উদ্যোগের কথা জানান অগ্নিমিত্রা পাল। উত্তরবঙ্গের যে সমস্ত বড় মন্দিরে প্রচুর ভক্ত সমাগম হয়, সেখানে জমা হওয়া ফুল ও মালা পুর্নব্যবহার করে ধূপকাঠি তৈরির কারখানা গড়ে তোলা হবে। প্রতিটি কারখানায় প্রাথমিকভাবে ১৫ জন করে মহিলার কর্মসংস্থানের সুযোগ মিলবে। আগামী ২০ জুনের মধ্যে সমস্ত জেলা থেকে এই সংক্রান্ত মন্দিরের তালিকা তলব করেছেন মন্ত্রী। সোমবার মিরিক-সহ পাহাড়ের বিভিন্ন সমস্যাবহুল এলাকা পরিদর্শনে বেরোবেন মন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পাল। সেখান থেকে তাঁর জলপাইগুড়ি যাওয়ার কথা রয়েছে।
