প্রদীপ চট্টোপাধ্যায়,বর্ধমান: “সাপুড়েকে সাপের ছোবলেই মরতে হয়! কংগ্রেস ভাঙানোর খেলা এবার হাড়ে হাড়ে টের পাচ্ছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় (Mamata Banerjee)।” তৃণমূলের (TMC) নেতা,বিধায়ক ও সাংসদদের মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গ ত্যাগ করা নিয়ে শনিবার পূর্ব বর্ধমানের মন্তেশ্বরের কুসুমগ্রামে অনুষ্ঠিত জনসভা থেকে এমনই কটাক্ষ করলেন প্রদেশ কংগ্রেস নেতা অধীর রঞ্জন চৌধুরী (Adhir Ranjan Chowdhury)। তিনি এও বলেন, “কংগ্রেসের সহযোগিতায় সরকার গড়ে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় কংগ্রেসের সঙ্গেই বেইমানি করেছেন।প্রলোভন দেখিয়ে তিনি একের পর এক কংগ্রেসের বিধায়ক ও পঞ্চায়েত কেড়ে নিয়েছেন। ওনার দেখানো পথেই আজ ওনার দল ভেঙে চুরমার হয়ে যাচ্ছ।”
কুসুমগ্রামের সভা থেকে তৃণমূল কংগ্রেস নেত্রীকে বিঁধে অধীররঞ্জন চৌধুরী আরও বলেন, “দুধ-কলা দিয়ে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এতদিন যাঁদেরকে পুষেছেন, খাইয়েছেন-দাইয়েছেন, তারাই এখন ওনাকে ছোবল মারছে। আমরা দল ভাঙানোর খেলার প্রতিবাদ করলে আমাদেরকে বলা হত, উন্নয়নের জন্য দলবদল। আর এখন মমতার সঙ্গ ত্যাগ করে ওনার দলের নেতা, বিধায়ক ও সাংসদরা বলছেন,চোরের সঙ্গে থাকব না। তারা আবার যাঁকে নিশানা করছেন, সেই খোকাবাবুর ব্যবস্থা হচ্ছে কই?”
কিছুদিন আগে মমতা বন্দোপাধ্যায় বলেছিলেন, “আমি মুক্ত বিহঙ্গ।”এই প্রসঙ্গ টেনেও মুখ্যমন্ত্রীকে কটাক্ষ করেন অধীররঞ্জন চৌধুরী। তিনি বলেন, “তোমাকে আর উড়তে হবে না। তোমার সব ডানা কাটা হয়ে গেছে।”
তিনি অভিযোগ করেন, বাংলায় বিজেপির আসার রাস্তা প্রশস্ত করেছে তৃণমূলই। তাঁর যুক্তি, যখন তৃণমূল ক্ষমতায় এল, তখন রাজ্যে আরএসএসের শাখা সংগঠন ছিল তিন-চারশ। সেটা এখন বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৫-৬ হাজারে। রাজ্যের নতুন সরকারের হাত ধরে একের পর এক শিল্প প্রতিষ্ঠানের শুভারম্ভ নিয়ে কংগ্রেস নেতা অধীর চৌধুরী বলেন,“শিল্প হলে তো ভাল। আমরা চাই বাংলায় শিল্প হোক।”
একই সঙ্গে সোনম ওয়াংচুকের অনশন প্রসঙ্গে অধীর চৌধুরী এও দাবি করেন, সোনম ওয়াংচুক নিজে অনসন ভঙ্গ করেননি। জোর করে তাঁকে অনসন মঞ্চ থেকে তুলে নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। এটা দিল্লি পুলিশের স্বৈরাচারী মানসিকতা বলে অধীর বাবু দাবি করেছেন।

