উত্তরবঙ্গ সংবাদ অনলাইন ডেস্ক : কলকাতা হাইকোর্টের তীব্র ভর্ৎসনার পর অবশেষে কণ্ঠস্বরের নমুনা (ভয়েস স্যাম্পল) দিতে গেলেন তৃণমূল সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। বুধবার বেলা ১২টা নাগাদ তিনি বিধাননগর মহকুমা আদালতে পৌঁছোন। সেখানে ম্যাজিস্ট্রেটের সামনে সিআইডি আধিকারিকদের উপস্থিতিতে কণ্ঠস্বরের নমুনা দেবেন ডায়মন্ড হারবারের সাংসদ। আগে দু’বার কণ্ঠস্বরের নমুনা সংগ্রহের জন্য নোটিশ পাঠানো হলেও হাজিরা এড়িয়েছিলেন তিনি। অন্যদিকে, অভিষেককে লক্ষ্য করে ‘ডিম ছোড়া’র মতো অনভিপ্রেত ঘটনা রুখতে এদিন আদালত চত্বরে ঢাল হাতে নজিরবিহীন পাহারায় নামে পুলিশ।
বুধবার সকাল থেকেই অভিষেকের হাজিরাকে কেন্দ্র করে বিধাননগর মহকুমা আদালত চত্বরে নিরাপত্তা ব্যবস্থা আঁটোসাঁটো করা হয়। মোতায়েন করা হয় বিশাল পুলিশ বাহিনী ও র্যাফ (RAF)। নির্দিষ্ট কারণ ও পরিচয়পত্র ছাড়া কাউকেই আদালতের ভেতরে প্রবেশ করতে দেওয়া হয়নি। আদালত চত্বরে যাতে কোনও ধরনের জমায়েত না হয়, সেদিকে কড়া নজর রাখে পুলিশ। বিশেষ করে, অতীতে কিছু রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বকে লক্ষ্য করে ডিম ছোড়ার ঘটনা ঘটায়, এদিন অভিষেক পৌঁছানোর সময় পুলিশকর্মীরা রীতিমতো ঢাল হাতে নিরাপত্তা বলয় তৈরি করেন, যাতে কেউ কোনও অপ্রীতিকর পরিস্থিতি তৈরি করতে না পারে।
নির্বাচনী প্রচারের সময় ডিজে (DJ) বাজানো সংক্রান্ত একটি বিতর্কিত মন্তব্যের জেরে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের হয়েছিল, যার তদন্তভার রয়েছে রাজ্য পুলিশের গোয়েন্দা বিভাগ সিআইডি-র হাতে। এই তদন্তের স্বার্থেই সাংসদের কণ্ঠস্বরের নমুনা পরীক্ষা করা প্রয়োজন বলে জানায় সিআইডি। আদালত পূর্বে নির্দেশ দিয়েছিল যে, অভিষেককে তদন্তে সম্পূর্ণ সহযোগিতা করতে হবে এবং তদন্তকারী সংস্থা তাঁর বিরুদ্ধে কোনও কঠোর পদক্ষেপ করতে পারবে না।
আদালতের এই রক্ষাকবচ থাকা সত্ত্বেও প্রথমে ৩০ জুন এবং পরবর্তীতে ৮ জুলাই—পরপর দু’বার সিআইডি-র নোটিশ পাওয়ার পরেও হাজিরা এড়িয়ে যান অভিষেক। পরপর দু’বার হাজিরা এড়ানোয় গত ১০ জুলাই কলকাতা হাইকোর্টের তীব্র ভর্ৎসনার মুখে পড়েন ডায়মন্ড হারবারের সাংসদ। শুনানির সময় বিচারপতি স্পষ্ট সতর্কবার্তা দিয়ে জানান, অভিষেক যদি অবিলম্বে কণ্ঠস্বরের নমুনা দিয়ে তদন্তে সহযোগিতা না করেন, তবে আদালত তাঁর ওপর থাকা আইনি রক্ষাকবচ তুলে নেবে। রক্ষাকবচ প্রত্যাহার হলে সিআইডি-র কড়া পদক্ষেপ বা প্রয়োজনে গ্রেপ্তারিতে আর কোনও বাধা থাকবে না।
এই হুঁশিয়ারির পরেই অভিষেকের আইনজীবী আদালতকে আশ্বস্ত করেন যে, বুধবারই ম্যাজিস্ট্রেটের কাছে কণ্ঠস্বরের নমুনা দেবেন তাঁর মক্কেল। তবে সেই সঙ্গে আদালতে যাওয়ার পথে যাতে তাঁকে লক্ষ্য করে কেউ ডিম না ছোড়ে, সেই নিরাপত্তার আর্জিও জানান আইনজীবী। জবাবে আদালত মন্তব্য করে যে, ডিম ছোড়া বন্ধ হওয়া দরকার এবং রাজ্য প্রশাসনকে তা নিশ্চিত করতে হবে। যদিও বিধাননগর আদালত এই নমুনা সংগ্রহের জন্য আগামী ১৮ জুলাই দিন ধার্য করেছিল, কিন্তু হাইকোর্টের কড়া অবস্থানের জেরে নির্ধারিত সময়ের তিন দিন আগেই কণ্ঠস্বরের নমুনা দিতে সশরীরে আদালতে হাজির হলেন অভিষেক।

