Abhishek Banerjee | লক্ষ্য ৪০টি আসন! ২০২৬-এর জমি শক্ত করতে উত্তরবঙ্গ সফরে অভিষেক

Abhishek Banerjee | লক্ষ্য ৪০টি আসন! ২০২৬-এর জমি শক্ত করতে উত্তরবঙ্গ সফরে অভিষেক

ব্লগ/BLOG
Spread the love


দীপ্তিমান মুখোপাধ্যায়, কলকাতা: উপনির্বাচনের জয় ধরলে উত্তরবঙ্গে তৃণমূলের আছে ২৮টি বিধানসভা আসন। সংখ্যাটিকে (West Bengal Election 2026) ৪০-এ নিয়ে যাওয়া এখন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের (Abhishek Banerjee) ‘মিশন।’ সেজন্য তাঁর পাখির চোখ চা শ্রমিক ও ইসলাম ধর্মাবলম্বীরা। নতুন বছরের প্রথম সপ্তাহে তাঁর জেলা সফর শুরু হচ্ছে আলিপুরদুয়ার ও জলপাইগুড়ি দিয়ে। চা বাগান অধ্যুষিত এই দুই জেলা। আলিপুরদুয়ারে তৃণমূল সূত্রে খবর, মূলত চা বাগানের বাসিন্দাদের সঙ্গে সরাসরি কথা বলবেন তিনি। সেভাবে চূড়ান্ত হচ্ছে তাঁর কর্মসূচি।

একই সপ্তাহে তাঁর উত্তর দিনাজপুর ও পরের সপ্তাহে মালদায় সফর নির্ধারিত হয়েছে। দুটি জেলা মুসলিম অধ্যুষিত। কোচবিহারে মুসলিম জনসংখ্যার পাশাপাশি আছে রাজবংশী জনগোষ্ঠী। সেই জেলাতেও নতুন বছরের দ্বিতীয় সপ্তাহে তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদকের সফর নির্ধারিত আছে। এতেই স্পষ্ট উত্তরবঙ্গকে কতটা গুরুত্ব দিচ্ছেন তিনি।

রবিবার ভার্চুয়াল বৈঠকে দলের বিএলএ-২’দের গুরুদায়িত্ব দিলেন অভিষেক। ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধনীতে (এসআইআর) নির্বাচন কমিশন কারসাজি করতে পারে বলে অভিযোগ তুলে তা ঠেকানোর দায়িত্ব দিলেন দলীয় বিএলএ-২’দের। অভিষেকের কথায়, ‘চতুর্থবারের জন্য তৃণমূলকে জিতিয়ে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে ফের মুখ্যমন্ত্রী করার দায়িত্ব আপনাদের নিতে হবে।’

সেজন্য ‘আগামী ছয় সপ্তাহ কোনও শিথিলতা নয়’ জানিয়ে অভিষেক বলেন, ‘ওদের (কমিশনের) ষড়যন্ত্র গভীর। অন্তত আরও ছয় সপ্তাহ আপনাদের বিএলও-দের ছায়াসঙ্গী হয়ে থাকতে হবে। মানুষ বুঝুক তৃণমূল তাদের পাশে আছে। ভোটারের নাম বাদ দিতে দেয়নি। অন্যদিকে, বিজেপি চেয়েছিল নাম বাদ দিতে। ভালোবাসার পুঁজি মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ই মানুষের পাশে আছেন।’

উত্তরবঙ্গ গত কয়েকটি নির্বাচনে তৃণমূলের পক্ষে কঠিন ঠাঁই হয়ে উঠেছে। রাজবংশী, আদিবাসী এমনকি কোথাও কোথাও মুসলিম এলাকার নির্বাচনে বিজেপি জয়ী হয়েছে। ২০২৬-এর বিধানসভা নির্বাচনে সেই খরা কাটিয়ে হারানো জমি পুনরুদ্ধারে ময়দানে নামছেন তৃণমূলের খোদ সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক। তাঁর লক্ষ্য উত্তরবঙ্গের ৫৪টি আসনের মধ্যে অন্তত ৪০টির দখল নেওয়া।

ভার্চুয়াল বৈঠকে এজন্য সুনির্দিষ্ট ‘রোডম্যাপ’ তৈরি করে দিয়েছেন তিনি। সাংগঠনিক ফাঁকফোকর ভরাট করা এবং বুথভিত্তিক পর্যালোচনায় কর্মীদের সক্রিয় করতে অভিষেক নিজেই উত্তরবঙ্গ সফর করবেন। যেখানে ভোটের রাজনীতি মূলত তিনটি স্তম্ভের ওপর দাঁড়িয়ে। ইসলাম ধর্মাবলম্বী বিশেষত নস্যশেখ, রাজবংশী এবং আদিবাসী সমর্থন। মালদা, উত্তর দিনাজপুর ও দক্ষিণ দিনাজপুরের সংখ্যালঘু অধ্যুষিত ২৩টি আসন তৃণমূলের অন্যতম প্রধান শক্তি। সেখানে নস্যশেখদের সমর্থন ধরে রাখা তৃণমূলের কাছে বড় চ্যালেঞ্জ।

আলিপুরদুয়ার, জলপাইগুড়ি এবং কোচবিহার গত কয়েক বছর ধরে বিজেপির দিকে ঝুঁকে। প্রথম দুটি জেলায় আদিবাসী সহ চা বাগানের বাসিন্দাদের বসবাস। কোচবিহারে রাজবংশী ও নস্যশেখদের সমর্থন গুরুত্বপূর্ণ। জমি ফিরে পেতে চা বলয়ের ওপর তাই বিশেষ নজর এখন দলের সেকেন্ড-ইন-কমান্ডের।

এছাড়া বিজেপির মতোই অল্প ব্যবধানে জেতা বা হারা আসনগুলিতে জোর দিচ্ছেন অভিষেক। যেমন মালদার গাজলে ১৭৯৮ ভোট এবং ইংরেজবাজারে ৪৩৫৫ ভোটে এগিয়ে ছিল বিজেপি। এই সামান্য ব্যবধান ঘুচিয়ে আসন ছিনিয়ে নেওয়া এখন অন্যতম লক্ষ্য তৃণমূলের।

ভার্চুয়াল বৈঠকে অভিষেকের পরিষ্কার বার্তা, গত ১৫ বছরে রাজ্য সরকারের ‘উন্নয়নের পাঁচালি’-কে সাধারণ মানুষের কাছে পৌঁছে দেওয়ার পাশাপাশি সাংগঠনিক শক্তিকে মজবুত করতে হবে। এতে ৪০টি আসনে সাফল্য আনার লক্ষ্যমাত্রা ধার্য করেছেন তিনি।



Source link

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *