বর্ধমানঃ ২০২৬ সালের সাধারণতন্ত্র দিবসের প্রাক্কালে বড়সড় উপহার পেল পূর্ব বর্ধমান জেলা। কেন্দ্রীয় সরকারের ঘোষিত তালিকায় এবার পদ্মশ্রী পাচ্ছেন (Padma Shri Award) বাংলার ১১ জন কৃতি, যার মধ্যে কালনারই দুই গুণীজন রয়েছেন। তাঁরা হলেন সাঁওতালি সাহিত্যের নক্ষত্র রবিলাল টুডু (Rabilal Tudu) এবং মসলিন-জামদানি শিল্পের জাদুকর জ্যোতিষ দেবনাথ (Jyotish Debnath)।
কালনা শহরের বারুইপাড়ার বাসিন্দা ৬৮ বছর বয়সী জ্যোতিষ দেবনাথ তাঁত শিল্পে এক অনন্য নাম। মসলিন এবং জামদানি শাড়ির ওপর নিখুঁত কারুকাজ ফুটিয়ে তুলতে তাঁর জুড়ি মেলা ভার। তাঁর তৈরি শাড়ির গুণগ্রাহী খোদ সোনিয়া গান্ধি, নীতা অম্বানি থেকে শুরু করে জয়া বচ্চন বা বিদ্যা বালনের মতো সেলিব্রিটিরা।
সাফল্য: ইতিপূর্বে পেয়েছেন ‘সন্ত কবীর অ্যাওয়ার্ড’ এবং জাতীয় পুরস্কার।
সামাজিক অবদান: গ্রামীণ এলাকার মহিলাদের তাঁত প্রশিক্ষণ দিয়ে তাঁদের আর্থিক স্বনির্ভরতার পথ দেখিয়েছেন তিনি।
বিদেশে খ্যাতি: তাঁর কাজ প্রদর্শিত হয়েছে লন্ডন, জাপান, সিঙ্গাপুর ও ইতালির মতো দেশে। পুরস্কার প্রাপ্তির খবরে জ্যোতিষবাবু বলেন, “এই সম্মান বাংলার তাঁতশিল্পের খ্যাতিকে আরও সুদূরপ্রসারী করবে।”
সাঁওতালি সাহিত্যের প্রাণপুরুষ: রবিলাল টুডু
কালনা ২ ব্লকের নোয়ারা গ্রামের বাসিন্দা ৭৭ বছর বয়সী রবিলাল টুডু সাহিত্য জগতে সুপরিচিত ব্যক্তিত্ব। ছাত্রজীবন থেকেই সাঁওতালি ভাষা ও সংস্কৃতি নিয়ে তাঁর সাধনা। ১৯৭৪ সালে বীরসা মুন্ডার জীবন নিয়ে লেখা তাঁর নাটক ‘বীর বীরসা’ সাহিত্য মহলে আলোড়ন তুলেছিল।
কর্মজীবন ও সম্মান: এক সময় অডিটর জেনারেল এবং পরবর্তীকালে রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকে কর্মরত থাকলেও সাহিত্যের জগৎ থেকে তিনি সরেননি।
পুরস্কার: ২০১৪ সালে সারদাপ্রসাদ কিস্কু অ্যাওয়ার্ড, ২০১৫ সালে সাহিত্য আকাদেমি এবং ২০২২ সালে তিনি ‘বঙ্গভূষণ’ সম্মানে ভূষিত হন। নিজের গ্রামেই পণ্ডিত রঘুনাথ মুর্মূ ও সিধু-কানহুর মূর্তি স্থাপন করেছেন তিনি। পদ্মশ্রী প্রাপ্তির খবরে আপ্লুত রবিলালবাবু বলেন, “এই সম্মান পাওয়া আমার কাছে অত্যন্ত গর্বের ও আনন্দের।”
