সানি সরকার, শিলিগুড়ি: শরতের আগমনী বার্তায় ঢাকে কাঠি পড়া এখন কেবল কয়েকদিনের ব্যবধান। কিন্তু শরতের নীল আকাশের আনন্দের বদলে প্রকৃতির বুকে শঙ্কার ঘনঘটা। পেঁজা তুলোর মতো সাদা মেঘের ভেলা ভেসে বেড়ানোর কথা যেখানে, সেখানে প্রতিদিনের সূর্য ঢাকা পড়ছে কালো মেঘের আড়ালে। আকাশ ভেঙে নামছে অঝোর ধারার বৃষ্টি, যা মুহূর্তে ম্লান করে দিচ্ছে শারদোৎসবের চিরচেনা রোদ্দুরের মেজাজকে। আর তাতেই ক্রমশ ভয়াবহ হয়ে উঠছে সিকিমের (Sikkim) পরিস্থিতি। প্রকৃতির তাণ্ডবে ক্ষতবিক্ষত পাহাড়ের বুক। ধসের জেরে উত্তর সিকিমের একাধিক রাস্তায় বন্ধ হয়ে গিয়েছে চলাচল, বিচ্ছিন্ন একের পর এক গ্রাম। সিকিমের মতো না হলেও বৃষ্টির ঝাপটা লাগছে কালিম্পং ও দার্জিলিংয়েও (Darjeeling)। যা দেখে পুজো পর্যটন নিয়ে আশঙ্কার মেঘ জমছে পাহাড়ি আকাশে।
বিদায়ের আগে বর্ষার নতুন খেল। তাই পাহাড়ের গায়ে বিরামহীন বৃষ্টি। বিক্ষিপ্ত অঝোর ধারার বৃষ্টি সমতলের মাটিতেও। বৃহস্পতিবার শিলিগুড়ি (Siliguri) সহ বেশ কয়েকটি এলাকায় বিশ্বকর্মাপুজোর বাজার পণ্ড করেছে বৃষ্টি। পুজো পর্যটনে অশনিসংকেত দিয়ে ধস নামল ১০ নম্বর জাতীয় সড়কে। ২০ মাইল বরদংয়ে ভূমিধস ঘটায় সিংতাম ও রংপোর মধ্যে জাতীয় সড়কে বন্ধ থাকল যান চলাচল। প্রাকৃতিক বিপর্যয়ে বুধবার রাতে বরদংয়ে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে একটি গাড়ি দুর্ঘটনার মুখে পড়েছিল। বৃহস্পতিবার কাদামাটি থেকে গাড়িটিকে উদ্ধার করা হয়। এরই মধ্যে পাকিয়াং বিমানবন্দরের একটি অংশে ধস নামে। যে কারণে ৭১৭এ জাতীয় সড়কে যান চলাচল নিয়ন্ত্রণ করেছে সিকিম প্রশাসন। বৃষ্টির সময় কেউ যাতে চলাচল না করেন, সেই পরামর্শ দেওয়া হয়েছে প্রশাসনের তরফে। দ্রুত যদি বৃষ্টি না কমে, তবে ১০ নম্বর জাতীয় সড়ক আরও বেশি বিপর্যস্ত হয়ে পড়বে এবং তার প্রভাব পর্যটনে পড়বে বলে আশঙ্কিত পর্যটন মহল। গ্যাংটকের হোটেল ব্যবসায়ী বিবেক গুপ্ত বলছেন, ‘ট্যুরিস্টরা বুকিং করার সময় ১০ নম্বর জাতীয় সড়কের অবস্থা জানতে চাইছেন। ফলে জাতীয় সড়কটি খারাপ থাকলে তার বড় প্রভাব পড়বে পুজোর পর্যটনে।’
পুজো মানেই মূলত বাঙালি পর্যটকদের গন্তব্য হয়ে ওঠে পাহাড়। তার মধ্যে লাচুং ও লাচেন অন্যতম আকর্ষণের কেন্দ্রে থাকে। কিন্তু প্রবল বৃষ্টির প্রভাবে উত্তর সিকিমের বিস্তীর্ণ অংশ বিচ্ছিন্ন। গতি হারিয়েছে পাহাড়ি পথ, থমকে গিয়েছে জনজীবন। ধসের কারণে রাকডাং-টিনটার দিয়ে গ্যাংটক-মংগন চলাচল বন্ধ। টুংনাগাতে ধস নামায় বন্ধ চংথাং-মংগন রাস্তা। একই পরিস্থিতি ফিডং পথেও। যান চলাচল বন্ধ চুংথাং-লাচেন, মংগন-ডিকচু সহ উত্তর সিকিমের একাধিক গুরুত্বপূর্ণ রাস্তায়। এমন বিপর্যস্ত সড়ক যোগাযোগের জেরে হোটেল, হোমস্টে ও স্থানীয় পর্যটন ব্যবসায়ীরা চিন্তিত। বুকিং বাতিলের আশঙ্কাও করছেন তাঁরা। লাচেনের পর্যটন ব্যবসায়ী কল্পক দে বলেন, ‘যোগাযোগ ব্যবস্থা পর্যটনের লাইফলাইন। ফলে তা বিপর্যস্ত হলে তার প্রভাব তো পর্যটন ব্যবসায় পড়বেই। এখনও বুকিং বাতিল হয়নি। তবে দ্রুত আবহাওয়া পরিস্থিতির পরিবর্তন না ঘটলে নির্ঘাত বুকিং বাতিল হবে।’
উৎসবের আবহে সকলের নজর আকাশের দিকে। সকলেই চাইছেন, শরৎ তার আপন মহিমায় ফিরুক পাহাড়ের কোলে। কিন্তু আবহাওয়া দপ্তরের পূর্বাভাসে নেই কোনও আশার আলো। উলটে হাওয়া অফিস জানিয়েছে, আপাতত বৃষ্টি থেকে মিলবে না নিস্তার। বরং আরও কিছুদিন প্রবল বর্ষণের আশঙ্কা রয়েছে, অন্তত সিকিম পাহাড়ে।

