উত্তরবঙ্গ সংবাদ ডিজিটাল ডেস্ক: ২০২৬-এর বিধানসভা নির্বাচনের দামামা বাজিয়ে পশ্চিম মেদিনীপুরের মাটি থেকে সুর চড়ালেন তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় (Abhishek Banerjee)। মেদিনীপুর কলেজিয়েট মাঠের সভা (Medinipur School Floor) থেকে তাঁর আক্রমণের মূল লক্ষ্য ছিলেন বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী (Suvendu Adhikari)। শুক্রবার সভা থেকে অভিষেক বলেন, “এই মেদিনীপুরের (Medinipur) মাটিতেই একজন গদ্দার জেলযাত্রা বাঁচাতে অমিত শা-র পদলেহন করে বিজেপিতে যোগ দিয়েছিলেন।”
অভিষেকের অভিযোগ, মেদিনীপুরে বিজেপির বর্তমান কাঠামো দাঁড়িয়ে আছে পুরোনো সিপিএমের ‘হার্মাদ’দের ওপর। তিনি একের পর এক নাম তুলে ধরে দাবি করেন, সুশান্ত ঘোষের ঘনিষ্ঠ থেকে শুরু করে বেনাচাপড়া হত্যাকাণ্ডের অভিযুক্তরা এখন বিজেপির প্রথম সারির নেতা। তাঁর কথায়, “নীচে সিপিএমের হার্মাদ আর উপরে বিজেপির গদ্দার— এই হলো মেদিনীপুরে বিজেপির মডেল।”
১৫-০ করার ডাক: গত বিধানসভা নির্বাচনে এই জেলার ১৫টি আসনের মধ্যে ১৩টিতে জিতেছিল তৃণমূল। সেই সাফল্যের কথা মনে করিয়ে দিয়ে অভিষেক কর্মী-সমর্থকদের উদ্দেশে বলেন, “এবার ১২-৩ নয়, লড়াই হবে ১৫-০ করার। একটাও হার্মাদকে মেদিনীপুরের মাটিতে অক্সিজেন দেওয়া যাবে না।” খড়্গপুর সদর ও ঘাটালে গতবার অল্প ব্যবধানে হারের আক্ষেপ মিটিয়ে নিরঙ্কুশ জয়ের অঙ্গীকার নিতে বলেন তৃণমূলের সেকেন্ড ইন কমান্ড।
উন্মুক্ত চ্যালেঞ্জ: কেন্দ্রীয় বনাম রাজ্য সরকারের উন্নয়নের খতিয়ান নিয়ে এদিন সরাসরি বিজেপি নেতৃত্বকে বিতর্কের চ্যালেঞ্জ জানান অভিষেক। তিনি বলেন, “বিজেপির কোনও নেতার ক্ষমতা থাকলে তথ্য নিয়ে সামনে আসুন। সময় এবং সংবাদমাধ্যম আপনারা বেছে নিন। একদিকে আমি থাকব, অন্যদিকে বিজেপির প্রতিনিধি। যদি তর্কে ভোকাট্টা না করতে পারি, তবে মানুষের কাছে মুখ দেখাব না।” স্বাধীনতা আন্দোলনের শহীদদের স্মৃতি রোমন্থন করে অভিষেক মনে করিয়ে দেন, এই মাটি বিপ্লবীদের মাটি, কোনোভাবেই তা সাম্প্রদায়িক শক্তির হাতে তুলে দেওয়া যাবে না। তাঁর এই সভা জেলা তৃণমূল কর্মীদের মধ্যে বাড়তি অক্সিজেন জোগাবে বলেই মনে করছে রাজনৈতিক মহল।
