উত্তরবঙ্গ সংবাদ অনলাইন ডেস্ক: ভোটার তালিকা সংশোধন (এসআইআর) (SIR) প্রক্রিয়ায় কথিত কারচুপির অভিযোগে মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের (Gyanesh Kumar) পদত্যাগের দাবিতে যন্তর মন্তরে পূর্বঘোষিত বিক্ষোভ কর্মসূচি ঘিরে চরম উত্তেজনার সৃষ্টি হয়েছে। শনিবার দিল্লিতে পা রাখা মাত্রই দিল্লি বিমানবন্দর থেকে ককরোচ জনতা পার্টি (সিজেপি) (CJP)-র প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দীপকে (Abhijeet Dipke detained) সহ সৌরভ দাস এবং আশুতোষ রাঙ্কাকে আটক করা হয়েছে বলে দাবি করেছে দলটি। এর আগে গত ২ অক্টোবর মুম্বইতেও এই ইস্যুতে সোচ্চার হয়েছিল সিজেপি। এদিন সকাল থেকেই পুরো রাজধানী শহরকে নিরাপত্তার শক্ত চাদরে মুড়ে ফেলা হয়েছে।
প্রসঙ্গত, চলমান এই বিতর্ক আরও জোরালো হয়েছে সম্প্রতি এক সর্বভারতীয় সংবাদমাধ্যমের বিস্ফোরক প্রতিবেদনে। যেখানে দাবি করা হয় যে এসআইআর-সংক্রান্ত একাধিক সিদ্ধান্ত ও কার্যপ্রণালী নিয়ে গত ১০ মাসে অপর দুই নির্বাচন কমিশনার সুখবীর সিং সান্ধু এবং বিবেক যোশি অন্তত ১৪ বার আপত্তি প্রকাশ করেছিলেন। সিজেপি প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দীপকের অভিযোগ, ২০২৪ সালের পর থেকে প্রায় ১৩ কোটি ভোটারের নাম তালিকা থেকে বাদ দেওয়া হয়েছে। গত লোকসভা নির্বাচনে এনডিএ এবং ইন্ডি জোটের প্রাপ্ত ভোটের ব্যবধান অত্যন্ত কম থাকায়, ভোটার তালিকায় এমন বড় আকারের রদবদল নির্বাচনের ফলাফলে বড় প্রভাব ফেলতে পারে বলে দাবি তাঁর। তবে নির্বাচন কমিশন শুরু থেকেই এই সব অভিযোগ অস্বীকার করে জানিয়েছে, ভোটার তালিকা সংশোধন সহ যাবতীয় সিদ্ধান্ত সম্পূর্ণ সর্বসম্মতিক্রমে গ্রহণ করা হয়েছে।
শনিবারের এই আন্দোলন প্রতিহত করতে যন্তর মন্তর ও তার সংযোগকারী রাস্তাগুলিতে স্পাইক স্ট্রিপ ও ব্যারিকেড বসিয়ে সিল করে দেওয়া হয়েছে। স্থানটিতে ভারতীয় নাগরিক সুরক্ষা সংহিতার (বিএনএসএস) ১৬৩ ধারা জারি করে মাইকে সতর্কবার্তা দেওয়া হচ্ছে। সার্বিক আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় দিল্লি পুলিশের ১৫,০০০ এবং বিভিন্ন কেন্দ্রীয় বাহিনীর ২৬,০০০ কর্মী সহ মোট ৪০,০০০-এর বেশি নিরাপত্তারক্ষী মোতায়েন করা হয়েছে।
নিরাপত্তা ব্যবস্থা এতটাই কঠোর যে তার সরাসরি প্রভাব পড়েছে সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন চলাচলে। দিল্লি মেট্রো রেল কর্পোরেশন (ডিএমআরসি) প্রথমে ৫৭টি মেট্রো স্টেশন বন্ধের কথা ঘোষণা করলেও পরে তা সংশোধন করে ৪৫টি স্টেশনে শুক্রবার রাত ৯টা থেকে প্রবেশ ও প্রস্থান সাময়িকভাবে স্থগিত রেখেছে। সারাই কালে খাঁ এবং নিউ অশোক নগর নমো ভারত স্টেশন দুটিও ৯ অক্টোবর রাত ৯টা থেকে ১০ অক্টোবর রাত ১০টা পর্যন্ত বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। ট্রাফিক জটের আশঙ্কায় শনিবার সকাল ৪টে থেকে দুপুর ২টোর মধ্যে পৌঁছানোর কথা ছিল এমন সমস্ত মেল ও এক্সপ্রেস ট্রেন বাতিল করেছে রেল কর্তৃপক্ষ। পাশাপাশি, আবগারি দপ্তরের নির্দেশে ৯ ও ১০ অক্টোবর দিল্লির সমস্ত মদের খুচরো দোকান বন্ধ রাখা হয়েছে, যদিও লাইসেন্সপ্রাপ্ত রেস্তোরাঁ ও বারগুলি স্বাভাবিক পরিষেবা দিচ্ছে।

