উত্তরবঙ্গ সংবাদ অনলাইন ডেস্কঃ জয়পুরের শহীদ স্মারকে নিট (NEET) কেলেঙ্কারি এবং ক্রমবর্ধমান বেকারত্বের প্রতিবাদে আয়োজিত এক সমাবেশকে কেন্দ্র করে চরম বিশৃঙ্খলা দেখা দিল। বিক্ষোভ প্রদর্শনের সময় ‘ককরোচ জনতা পার্টি’ (CJP)-র প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দিপকের (Abhijeet Dipke) ওপর হামলার অভিযোগ উঠেছে। এই অনভিপ্রেত ঘটনায় রাজনৈতিক ও সামাজিক মহলে ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।
সোমবার নিট কেলেঙ্কারি ও বেকারত্ব—এই দুই জ্বলন্ত ইস্যুতে জয়পুরের শহীদ স্মারকে একটি প্রতিবাদ সমাবেশের ডাক দিয়েছিলেন অভিজিৎ দিপকে। অভিজিৎ ঘটনাস্থলে পৌঁছানো মাত্রই তাঁর সমর্থকরা তাঁকে কাঁধে তুলে নেন। অভিযোগ, ঠিক সেই মুহূর্তেই কিছু দুষ্কৃতী হঠাৎ তাঁকে পর্যায়ক্রমে চড় মারতে শুরু করে। উপস্থিত সমর্থকরা দ্রুত পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এনে দুষ্কৃতীদের ধরে ফেলেন এবং পুলিশের হাতে তুলে দেওয়ার আগে তাদের মারধর করা হয় বলেও জানা গেছে। পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে উঠলে পুলিশ দ্রুত হস্তক্ষেপ করে এবং ঘটনাস্থল থেকে দুইজনকে আটক করে।
বিক্ষোভকারীরা এদিন দুর্নীতির বিরুদ্ধে এবং পেপার লিক নিয়ে বিভিন্ন প্ল্যাকার্ড প্রদর্শন করেন। সমবেত সমর্থকদের একাংশ কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগের দাবিতে তীব্র স্লোগান তোলেন। সমাবেশের এই শান্তিপূর্ণ আবহ হঠাৎই দুষ্কৃতীদের আগমনে উত্তেজিত হয়।
গত কয়েক সপ্তাহ ধরে ‘ককরোচ জনতা পার্টি’ দেশের রাজনৈতিক আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে। কোনো আনুষ্ঠানিক রাজনৈতিক দলের মর্যাদা না থাকলেও, সোশ্যাল মিডিয়ায় এর জনপ্রিয়তা বড় বড় রাজনৈতিক দলকেও ছাড়িয়ে গিয়েছিল। তবে সম্প্রতি জাতীয় নিরাপত্তার কারণ দেখিয়ে কেন্দ্রীয় নির্দেশে এই পার্টির এক্স (X) অ্যাকাউন্টটি বন্ধ করে দেওয়া হয়।
এই বিষয়ে অভিজিৎ দিপকের অভিযোগ, “আমাদের অ্যাকাউন্ট থেকে কোনো অন্যায় বা উসকানিমূলক মন্তব্য করা হয়নি। কেবলমাত্র সামাজিক ইস্যু নিয়ে কথা বলা হয়েছিল। কেন এই অ্যাকাউন্ট রুখে দেওয়া হলো, তার কোনো সদুত্তর সরকার দেয়নি।”
বর্তমানে এই ঘটনার জেরে জয়পুরের রাজনৈতিক উত্তাপ ক্রমশ বাড়ছে, সেই সঙ্গে সোশ্যাল মিডিয়ায় আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে উঠে এসেছে এই সংগঠনের ওপর সরকারি বিধিনিষেধের বিষয়টিও।
