80s AI development | আটের দশকের ট্রেন্ডে মজে সোশ্যাল মিডিয়া

শিক্ষা
Spread the love


প্রিয়দর্শিনী বিশ্বাস, শিলিগুড়ি : ‘আই অ্যাম এ ডিস্কো ডান্সার…’, ১৯৮২-তে মুক্তিপ্রাপ্ত ডিস্কো ডান্সার ছবির এই গান মাতিয়ে দিয়েছিল আটের দশক। ছবিতে মিঠুন চক্রবর্তীর আইকনিক নাচ আজও সিনেপ্রেমীদের মনে গেঁথে। আজ যাঁদের বয়স ৬৫-৭০-এর কোঠায়, তাঁদের তখন ভরা যৌবন। দু’চোখে রঙিন স্বপ্ন। আকাশ ছোঁয়ার আকাঙ্ক্ষা। সেসব তাঁদের কাছে আজ শুধুই সোনালি অতীত। নিশ্চয়ই সেই সময়ের টুকরো টুকরো সুখস্মৃতি আজও তাঁদের চোখে ভাসে। সেই রঙিন সময়ে কি একছুট্টে ফিরে যাওয়া সম্ভব? সম্ভব কি ব্যাগি ট্রাউজার্স, লেদার জ্যাকেট পরে অ্যাম্বাসাডরের সামনে দাঁড়িয়ে বলিউড নায়কের মতো কিংবা চওড়া কাঁধের ব্লেজার, হাই-ওয়েস্টেড জিনস বা অ্যাসিড ওয়াশ ডেনিম পরে বলিউড নায়িকার মতো পোজ দেওয়া? কল্পনার জগত থেকে বেরিয়ে যদি বাস্তবের মাটিতে পা রাখি, তবে উত্তর অবশ্যই ‘না’।

কিন্তু সোশ্যাল মিডিয়ায় নয়া ট্রেন্ডে গা ভাসিয়ে আটের দশকের স্বাদ নিচ্ছেন অনেকেই। না কোনও টাইমমেশিন নয়, সৌজন্যে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই। নির্দিষ্ট প্রম্পট দিয়ে এআই প্ল্যাটফর্মে ফেললেই কেল্লাফতে। মিলেনিয়াল হোক কিংবা জেন জেড– সকলে বুঁদ নয়া ট্রেন্ডে। অন্যদিকে, এ ধরনের ট্রেন্ডে গা ভাসানোর ক্ষেত্রে সাবধান করে দিয়েছেন সাইবার বিশেষজ্ঞরা।

ফেসবুক বা ইনস্টাগ্রামজুড়ে এখন কার্যত চলছে ভার্চুয়াল টাইম ট্রাভেল! শিলিগুড়ির আমজনতা থেকে বিধায়ক – অনেকেই এআই দিয়ে আটের দশকের সাজসজ্জা ও ব্যাকগ্রাউন্ড সহ নিজের ছবি তৈরি করে পোস্ট করেছেন। শহরের বাসিন্দা অনিন্দ্য দে বেসরকারি ব্যাংকে কর্মরত। তাঁর কথায়, ‘বুধবার মাঝরাতে অনেক বন্ধুকে এমন ছবি পোস্ট করতে দেখি। বৃহস্পতিবার সকালে নিজেও একটা ছবি পোস্ট করি। সত্যি বলতে ছোটবেলার দিনগুলো মনে পড়ে গিয়েছিল। বাবার সেই ক্যাসেট প্লেয়ার, দূরদর্শন আর ডেনিম জ্যাকেটের ফ্যাশন – সবকিছু এক লহমায় চোখের সামনে ভেসে উঠেছিল।’

শহরের ক্যাফে থেকে পাড়ার চায়ের আড্ডা- বৃহস্পতিবার সর্বত্র চর্চার কেন্দ্রবিন্দুতে ছিল নয়া ট্রেন্ড। হাকিমপাড়ার কলেজ পড়ুয়া অনীক মুখোপাধ্যায় বললেন, ‘এআই দিয়ে কলার তোলা শার্ট পরা নিজের ছবি বানিয়ে পোস্ট করেছিলাম। কমেন্ট সেকশনে পুরো ঝড় উঠে গিয়েছে।’ সুভাষপল্লির অবসরপ্রাপ্ত ব্যাংককর্মী সুধীর সরকারও ট্রেন্ডে মজে। এআই-এর সৌজন্য তিনিও যেন পৌঁছে গিয়েছেন নিজের যৌবনে। বললেন, ‘ছবি দেখে মনে হচ্ছে, আবার যেন পৌঁছে গিয়ে চব্বিশ-পঁচিশ বছরে। এটাও কম আনন্দের নয়।’

নরম আলো আর একটু ঝাপসা ফিল্মি ক্যানভাসে বেলবটম প্যান্ট, ঢোলা ডেনিম জ্যাকেট, বড় কলারের শার্ট আর ভলিউমিনাস চুলে চেনা মুখগুলো সব ধরা দিচ্ছে একদম আটের দশকের নায়ক-নায়িকাদের আদলে। কলেজ পড়ুয়া আর্য বাগচীর কথায়, ‘নিজের হেয়ারস্টাইল, রেট্রো চশমা দেখে নিজেই অবাক হয়ে গিয়েছি। তবে বিষয়টা বেশ ভালো লেগেছে। ভীষণ কুল।’ তবে জেন জেডের কাছে যা ‘কুল’ ট্রেন্ড তা অনেকের কাছেই স্মৃতির সরণি ধরে হেঁটে যাওয়া। হায়দরপাড়ার প্রবীণ নাগরিক সুজিত দে’র কথা, ‘সোশ্যাল মিডিয়া খুব একটা ঘাঁটা হয় না। তবে মেয়ে আমার একটা ‘অ্যাংরি ইয়াং ম্যান’ ধাঁচের ছবি বানিয়ে দিয়েছে। একছুটে ছোটবেলায় পৌঁছে গিয়েছিলাম। অনেক স্মৃতি মনে পড়ছিল।’

আমজনতার পাশাপাশি রাজ্যের মন্ত্রী তথা শিলিগুড়ির বিধায়ক শংকর ঘোষ, দার্জিলিংয়ের সাংসদ রাজু বিস্টও নিজেদের প্রোফাইলে ছবি আপলোড করেছেন। শংকর হেসে বললেন, ‘আমি ছবি তৈরি করিনি। অনেকেই তা তৈরি করে পাঠিয়েছিলেন। তার মধ্যে কিছু আপলোড করেছি।’

অন্যদিকে, সবাই যখন ট্রেন্ডে মজে, তখন সাবধানবাণী শুনিয়েছেন শহরের সাইবার সিকিউরিটি এক্সপার্ট সন্দীপ সেনগুপ্ত। তিনি বলেছেন, ‘মানুষের মুখমণ্ডল (ফেস) এখন খুব বড় অথেন্টিকেশন ফিচার। তা দেখেই ফোন, ল্যাপটপ এমনকি বাড়ির দরজাও খুলে যাচ্ছে। পাসওয়ার্ড খুব তাড়াতাড়ি ফেস রিকগনেশনে বদলে যাওয়ার দিন আসছে। মুখই আগামীদিনে পাসওয়ার্ড হতে চলেছে। তাই মুখমণ্ডলের ছবি এভাবে আপলোড করে কার্যত সর্বনাশ ডেকে আনা হচ্ছে।’



Source link

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *