উত্তরবঙ্গ সংবাদ অনলাইন ডেস্কঃ রাস্তার মাঝে বাজছে ঢোল ও নাকাড়া। তার তালে তালে উচ্ছ্বাসে নাচছেন পরিবারের সদস্যরা। ঠিক তার পিছনেই রয়েছে সাতটি নকল ঘোড়ায় টানা একটি বিশাল রথ। আর সেই রথের ওপর সদ্যোজাত কন্যাকে কোলে নিয়ে হাসিমুখে বসে রয়েছেন এক তরুণী, গলায় ফুলের মালা। মহারাষ্ট্রের বীড়ে জেলার দহিফলে পরিবারে ঠিক এভাবেই কন্যাসন্তানের জন্মকে স্মরণীয় করে রাখা হয়েছে। প্রায় দুশো বছর পর পরিবারে (200 Years Child Lady Start) মেয়ে আসার আনন্দে রীতিমতো উৎসবের মেজাজ তৈরি হয়েছে সেখানে।
WATCH: A woman baby born into Beed’s Dahiphale household has introduced extraordinary pleasure after family stated no woman had been born within the household for almost 200 years. The new child was taken dwelling from hospital in a adorned chariot amid drums, fireworks and sweets. pic.twitter.com/aBDNlYA9Df
— Varad Bhatkhande | Journalist (@VaradBhatkhande) September 2, 2026
বৈদিক যুগের বিখ্যাত দার্শনিকের নামানুসারে ওই নবজাতিকার নাম রাখা হয়েছে ‘গার্গী’। গত ২৪ অগাস্ট গার্গীর জন্ম হয়। জন্মের তিন দিন পর ঢোল-নাকাড়া বাজিয়ে রথে চাপিয়ে মা ও নবজাতিকাকে মহাসমারোহে বাড়ি ফিরিয়ে আনা হয়। সোশ্যাল মিডিয়ায় সেই ভিডিও ইতিমধ্যে ভাইরাল হয়েছে। নাতনির জন্ম নিয়ে আবেগপ্রবণ দাদু লিম্বাজি দাহিফালে জানিয়েছেন, তাঁদের পরিবারে প্রায় ২০০ বছর ধরে কোনো কন্যাসন্তানের জন্ম হয়নি। চার প্রজন্ম পরে এই খুশিতে পরিবারের আক্ষেপ ঘুচেছে। তাঁর দুই পুত্রবধূকে মেয়ের মতোই স্নেহ করেন বলে জানিয়েছেন তিনি। গার্গীর ঠাকুমা সুরেখা দহিফলে জানিয়েছেন, হাসপাতালেই তাঁরা সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন নবজাতিকাকে রাজকীয় কায়দায় বাড়ি নিয়ে আসবেন। পেশায় ফার্মাসিস্ট গার্গীর বাবা হৃষিকেশ দহিফলের প্রতিক্রিয়া, সবাই যেখানে পুত্রসন্তান চান, সেখানে তিনি প্রথম থেকেই মেয়ে চেয়েছিলেন, কারণ বাবা ও মেয়ের সম্পর্ক সবসময়ই অন্যরকম হয়।
দহিফলে পরিবারের এই অভিনব উদ্যোগের ভূয়সী প্রশংসা করেছেন সমাজকর্মী অনন্ত ইংলে। তাঁর মতে, সমাজে এখনও কন্যাভ্রূণ হত্যা কিংবা কন্যাসন্তানের জন্ম নিয়ে নানা সংকীর্ণতা ও কুসংস্কার কাজ করে। এই ধরনের মানসিকতার বিরুদ্ধে দাঁড়িয়ে গার্গীর জন্মকে যেভাবে ধুমধাম করে উদযাপন করা হয়েছে, তা গোটা সমাজের কাছে এক অত্যন্ত ইতিবাচক ও পরিবর্তনের বার্তা পৌঁছে দিয়েছে।

