আয়নার সামনে দাঁড়িয়ে মনে প্রশ্ন আসে। ইন্টারনেটে খোঁজও করেন। বান্ধবীর সঙ্গে আলোচনাও হয়। কিন্তু গাইনোকলজিস্ট বা স্ত্রীরোগ বিশেষজ্ঞের চেম্বারে পৌঁছে সেই প্রশ্নটাই আর করা হয় না। যোনিস্রাব, মাসিকের ব্যথা, সহবাসে অস্বস্তি, মিলনের পর রক্তপাত বা যৌনইচ্ছার পরিবর্তন নিয়ে এমন অসংখ্য প্রশ্ন রয়েছে, যা মহিলারা মনে মনে করেন, কিন্তু মুখে আনতে সংকোচ বোধ করেন।
কখনও লজ্জা, কখনও ‘এটা হয়তো স্বাভাবিক’ ভেবে, আবার কখনও ‘বিচার’ হওয়ার ভয়েই বিষয়গুলি চেপে রাখেন। কিন্তু চিকিৎসকের কাছে এগুলি মোটেই অস্বস্তিকর বা অস্বাভাবিক প্রশ্ন নয়। বরং কখনও একটি ছোট প্রশ্নই কোনও সমস্যাকে দ্রুত চিহ্নিত করতে সাহায্য করতে পারে।
আরও পড়ুন:
বিশ্ব যৌনস্বাস্থ্য দিবসে তাই জেনে নিন, কোন প্রশ্নগুলি নিয়ে আর চুপ করে থাকার প্রয়োজন নেই।
আরও পড়ুন:


‘ভ্যাজাইনাল ডিসচার্জ বা যোনিস্রাব হচ্ছে, এটা কি সমস্যার?’
সব যোনিস্রাব রোগের লক্ষণ নয়। মাসিক চক্রের সঙ্গে এর পরিমাণ, রং ও ঘনত্ব স্বাভাবিকভাবেই বদলাতে পারে। ওভ্যুলেশন বা ডিম্বস্ফোটন, গর্ভাবস্থা বা হরমোনের পরিবর্তনেও স্রাবের ধরন পাল্টাতে পারে।
তবে ভ্যাজাইনাল ডিসচার্জ নিজের স্বাভাবিক ধরন থেকে হঠাৎ পরিবর্তন হলে সতর্ক হওয়া জরুরি। দুর্গন্ধ, অস্বাভাবিক রং, চুলকানি, জ্বালা, তলপেটে অস্বস্তি বা প্রস্রাবের সময় ব্যথা থাকলে চিকিৎসকের পরামর্শ নিন। অস্বাভাবিক স্রাবকে সব সময় ছত্রাক সংক্রমণ ধরে নিয়ে নিজের মতো ওষুধ খাওয়া উচিত নয়। ব্যাকটেরিয়াল ভ্যাজাইনোসিস, যৌনবাহিত সংক্রমণ বা অন্য কারণও থাকতে পারে।
‘পিরিয়ডে এত ব্যথা, সহ্য করব?’
পিরিয়ড বা মাসিকের সময় কিছুটা ব্যথা হতে পারে। কিন্তু সেই ব্যথায় যদি দৈনন্দিন কাজ, পড়াশোনা বা ঘুম ব্যাহত হয়, তাহলে তাকে ‘মেয়েদের স্বাভাবিক কষ্ট’ বলে এড়িয়ে যাওয়া ঠিক নয়। এন্ডোমেট্রিওসিস, অ্যাডেনোমায়োসিস, ফাইব্রয়েডসহ বিভিন্ন সমস্যার কারণেও তীব্র ব্যথা হতে পারে।
নিজের মাসিকের ধরন সম্পর্কে সচেতন থাকুন। অন্য কারও সঙ্গে তুলনা করার চেয়ে নিজের স্বাভাবিক অবস্থার পরিবর্তন বেশি গুরুত্বপূর্ণ।


‘এত রক্তপাত কি সত্যিই স্বাভাবিক?’
খুব ঘন ঘন প্যাড বদলাতে হলে, বড় রক্তের দলা বেরলে বা অতিরিক্ত রক্তপাতের সঙ্গে দুর্বলতা, মাথা ঘোরা বা অস্বাভাবিক ক্লান্তি থাকলে চিকিৎসকের পরামর্শ প্রয়োজন। দীর্ঘদিন অতিরিক্ত রক্তপাত হলে আয়রনের ঘাটতি ও রক্তাল্পতা দেখা দিতে পারে।
‘সহবাসে ব্যথা হয়, বলব কী করে?’
এই সংকোচটাই অনেক সময় সমস্যাকে দীর্ঘায়িত করে। পর্যাপ্ত পিচ্ছিলতা না থাকা, সংক্রমণ, পেলভিক ফ্লোরের পেশির সমস্যা, এন্ডোমেট্রিওসিস বা হরমোনের পরিবর্তনের কারণে সহবাসে ব্যথা হতে পারে।
সন্তান প্রসবের পর, বিশেষ করে স্তন্যপানের সময়ে, ইস্ট্রোজেনের মাত্রা কমে যোনিপথে শুষ্কতা ও অস্বস্তি তৈরি হতে পারে। মেনোপজের সময়ও একই সমস্যা দেখা দিতে পারে।


‘মিলনের পর রক্তপাত কেন?’
সহবাসের পর রক্তপাতের কারণ সামান্য আঘাত বা জ্বালা, সংক্রমণ, জরায়ুমুখে পলিপ বা জরায়ুমুখের অন্য কোনও পরিবর্তন হতে পারে। একবার সামান্য রক্তপাত হলেই আতঙ্কিত হওয়ার দরকার নেই। কিন্তু বারবার এমন হলে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া জরুরি।
‘কোনও লক্ষণ নেই, তবু যৌন সংক্রমণ হতে পারে?’
হ্যাঁ। কিছু যৌনবাহিত সংক্রমণ কোনও উপসর্গ ছাড়াই থাকতে পারে। তাই সম্ভাব্য সংক্রমণ বা ঝুঁকি নিয়ে চিকিৎসকের সঙ্গে খোলাখুলি কথা বলা গুরুত্বপূর্ণ। যৌন ইতিহাসও চিকিৎসারই অংশ, বিচার করার বিষয় নয়।


‘যৌনইচ্ছা হঠাৎ কমে গেল কেন?’
হরমোনের পরিবর্তন, গর্ভাবস্থা, সন্তান প্রসব, স্তন্যপান, মেনোপজ, মানসিক চাপ, ঘুমের অভাব, কিছু ওষুধ বা শারীরিক অস্বস্তি যৌনইচ্ছায় প্রভাব ফেলতে পারে। পরিবর্তন দীর্ঘস্থায়ী হলে বা তা নিয়ে অস্বস্তি তৈরি হলে চিকিৎসকের সঙ্গে কথা বলুন।
তীব্র তলপেটের ব্যথা, অত্যধিক রক্তপাত, মেনোপজের পর রক্তপাত, বারবার অস্বাভাবিক স্রাব বা জ্বরের সঙ্গে তলপেটে ব্যথা হলে দেরি না করে চিকিৎসকের পরামর্শ নিন।
সবশেষে মনে রাখুন, গাইনোকলজিস্টের কাছে কোনও প্রশ্নই ‘লজ্জার’ নয়। যে কথা বলতে সবচেয়ে বেশি সংকোচ হচ্ছে, সেটাই হয়তো শরীরের এমন একটি সংকেত, যা সময়মতো জানলে সমস্যার সমাধান অনেক সহজ হতে পারে।
আরও পড়ুন:
সর্বশেষ খবর
