ব্রাজিল ম্যাচ করতে ঢের খরচ, ফেডারেশনের হাতে মাত্র ১১ কোটি! কীভাবে হবে মেগা ম্যাচ? 

রাজ্য/STATE
Spread the love


৩ অক্টোবর পাঁচবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন ব্রাজিলের মুখোমুখি হওয়ার কথা ভারতের। কেবল ব্রাজিল নয়। পানামা এবং উরুগুয়ের বিরুদ্ধেও প্রীতি ম্যাচ খেলার পরিকল্পনা রয়েছে ‘ব্লু টাইগার্স’-এর। তাই একের পর এক বড় ম্যাচের হাতছানি। কিন্তু এই ম্যাচগুলি আয়োজনে বিস্তর খরচ। সেই খরচ কোত্থেকে উঠবে, এই প্রশ্ন ক্রমশ জোরালো হচ্ছে।

ভারতীয় ফুটবলের পরিকাঠামো নিয়ে একাধিক প্রশ্ন রয়েছে। জাতীয় দলের পারফরম্যান্সও আহামরি নয়। আইএসএল কবে শুরু হবে, এই নিয়ে এখনও কোনও নির্দিষ্ট তথ্য নেই। জল্পনা রয়েছে, ব্রাজিল ম্যাচ আয়োজনের জন্য নাকি আইএসএল পিছিয়ে দেওয়া হয়েছে। এমন পরিস্থিতিতে ব্রাজিলের মতো দলের বিরুদ্ধে ম্যাচ আয়োজন করতে বিপুল অর্থ খরচ করার প্রয়োজন কতটা, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠছে। তার সঙ্গে যোগ হয়েছে আরও বড় প্রশ্ন, এই বিপুল খরচের উৎস কোথায়?

আরও পড়ুন:

ভারতীয় ফুটবলের পরিকাঠামো নিয়ে একাধিক প্রশ্ন রয়েছে। জাতীয় দলের পারফরম্যান্সও আহামরি নয়। আইএসএল কবে শুরু হবে, এই নিয়ে এখনও কোনও নির্দিষ্ট তথ্য নেই।

সংবাদসংস্থা ‘খেল নাও’-এর সাম্প্রতিক প্রতিবেদনে প্রকাশ্যে এসেছে সর্বভারতীয় ফুটবল ফেডারেশনের ব্যাঙ্ক স্টেটমেন্ট সংক্রান্ত কিছু তথ্য। রিপোর্ট অনুযায়ী, ফেডারেশনের মোট ফান্ড তিনটি ভাগে রয়েছে। ২৮ মার্চ পর্যন্ত নিয়মিত কাজ চালানোর অপারেটিং অ্যাকাউন্টে রয়েছে ১১.২৫ কোটি টাকা। ফিফা এবং এএফসির বিশেষ প্রকল্পের জন্য বরাদ্দ ২২.৪৫ কোটি টাকা। আর ফিক্সড ডিপোজিট এবং বন্ডে রয়েছে ২১.৬৩ কোটি টাকা। সব মিলিয়ে অঙ্কটা ৫৫.৩৩ কোটি টাকা।

কিন্তু সমস্যা অন্য জায়গায়। দৈনন্দিন কাজ চালানোর জন্য ফেডারেশনের হাতে রয়েছে মাত্র ১১.২৫ কোটি টাকা। অথচ কলকাতায় ব্রাজিল ম্যাচ আয়োজন করতেই খরচ পড়তে পারে প্রায় ৬০-৭০ কোটি টাকা। অর্থাৎ, ফেডারেশনের মোট সঞ্চিত অর্থ ধরলেও সেই খরচ মেটানো সহজ নয়। এর মধ্যেই বদলে গিয়েছে ফেডারেশনের আয়ের অন্যতম বড় উৎস। গত বছরের ৮ ডিসেম্বর শেষ হয়েছে এফএসডিএলের সঙ্গে এআইএফএফের ১৫ বছরের, প্রায় ৭০০ কোটি টাকার মাস্টার রাইটস চুক্তি। নতুন করে সেই চুক্তি এখনও হয়নি। ফলে প্রতি বছর এফএসডিএলের কাছ থেকে পাওয়া প্রায় ৫০ কোটি টাকার আয়ও বন্ধ হয়েছে।

নতুন ফ্র্যাঞ্চাইজি মডেলে ১৩টি আইএসএল ক্লাবের কাছ থেকে ফেডারেশন বছরে প্রায় ১৪.৩ কোটি টাকা পার্টিসিপেশন ফি পাবে। অর্থাৎ, আগের ৫০ কোটি টাকার বার্ষিক আয়ের তুলনায় এই অঙ্ক অনেকটাই কম। শুধু তাই নয়, যে আসিয়ান কাপ থেকে ফেডারেশনের কিছু আর্থিক সুবিধা পাওয়ার সম্ভাবনা ছিল। সেই প্রতিযোগিতা থেকেও নাম তুলে নিয়েছে ভারত। ফলে পার্টিসিপেশন ফি-র পাশাপাশি দল ও সাপোর্ট স্টাফদের ভ্রমণ ও অন্যান্য খরচ বহনের যে সুবিধা বিশ্ব ফুটবলের নিয়ামক সংস্থার তরফে পাওয়ার কথা ছিল, তা-ও আর থাকছে না।

ব্রাজিল ম্যাচের এত বিপুল খরচ আসবে কোথা থেকে? ওই সংবাদ সংস্থার রিপোর্ট অনুযায়ী, এ বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে ফেডারেশনের এক শীর্ষ কর্তা চুক্তির গোপনীয়তার শর্তের কথা জানিয়েছেন।

তাহলে ব্রাজিল ম্যাচের এত বিপুল খরচ আসবে কোথা থেকে? ওই সংবাদ সংস্থার রিপোর্ট অনুযায়ী, এ বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে ফেডারেশনের এক শীর্ষ কর্তা চুক্তির গোপনীয়তার শর্তের কথা জানিয়েছেন। তাঁর বক্তব্য, ব্রাজিলের সঙ্গে চুক্তিতে ‘কনফিডেনশিয়ালিটি ক্লজ’ রয়েছে। তাই চুক্তির আর্থিক দিক প্রকাশ করা সম্ভব নয়। তবে ওই কর্তা একটি বিষয় স্পষ্ট করেছেন, ফেডারেশনের ২১.৬৩ কোটি টাকার ফিক্সড ডিপোজিট বা বন্ড ভাঙা হয়নি। সেখানেই প্রশ্ন, যদি ফিক্সড ডিপোজিট ভাঙা না হয়, তাহলে রাজ্য সরকারের ফান্ড, টিকিট বিক্রি কিংবা স্পনসরশিপ – কোন পথে এই বিপুল ব্যয়ের ভার সামলানো হবে? এই প্রশ্নের কোনও স্পষ্ট উত্তর এখনও সামনে আসেনি।

ব্রাজিলের মতো বিশ্বমানের দলের বিরুদ্ধে ম্যাচ নিঃসন্দেহে ভারতীয় ফুটবলের জন্য বড় খবর। যুবভারতীতে বিশ্বচ্যাম্পিয়নদের দেখতে এখন থেকেই উন্মাদনার পারদ চড়ছে। ইতিমধ্যেই সমস্ত টিকিট বিক্রি হয়ে গিয়েছে। কিন্তু এত সবের মধ্যেও আর্থিক উৎসের প্রসঙ্গ কিন্তু এড়িয়ে যাওয়া যাচ্ছে না। গত সপ্তাহে ভারতের কিংবদন্তি ফুটবলার বাইচুং ভুটিয়া ফেডারেশনকে চিঠি দিয়ে এই সংক্রান্ত প্রশ্ন তুলেছিলেন। ‘পাহাড়ি বিছে’ই বলেছিলেন, “ব্রাজিল ম্যাচ বয়কট করা উচিত। তাতে একটা বার্তা যাবে। পরে এই ধরনের ম্যাচ আয়োজন করতে ফেডারেশন দু’বার ভাববে।” প্রশ্ন হল, আর্থিক দিক থেকে ব্রাজিল ম্যাচের সুদূরপ্রসারী প্রভাব পড়বে না তো? এর ফল ভারতীয় ফুটবলের জন্য কতটা ভালো হবে, সেটাই এখন দেখার।

আরও পড়ুন:

সর্বশেষ খবর

নিয়মিত খবরে থাকতে ফলো করুন





Source link

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *