আর জি কর কাণ্ডের পর পেরিয়েছে দেড় বছরের বেশি সময়। দোষী সঞ্জয় রায়কে যাবজ্জীবন কারাদণ্ডের নির্দেশ দিয়েছে আদালত। কিন্তু এই রায়ে খুশি নন অভয়ার বাবা-মা। এখনও মামলা চলছে সুপ্রিম কোর্টে। ছাব্বিশের নির্বাচনের আগে কার্যত বোমা ফাটিয়েছেন অভয়ার মা। জানিয়েছেন, বিজেপির হয়ে বিধানসভা নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন তিনি। লড়বেন পানিহাটি আসন থেকে। তা নিয়ে সোশাল মিডিয়ায় বিতর্কের ঝড় উঠেছে। এসবের মাঝেই রাজনীতিতে যোগের কারণ থেকে মেয়ের সুবিচার, রাজ্য সরকারের ভূমিকা, সবটা নিয়ে সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল-এর মুখোমুখি অভয়ার বাবা ও মা।
এই বিষয়ে আরও খবর
প্রার্থী হওয়ার কথা ঘোষণা করে অভয়ার মা জানিয়েছিলেন, মেয়ের সুবিচার ছিনিয়ে আনতেই পদ্মশিবিরে যোগের সিদ্ধান্ত। কিন্তু এদিন সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল-এর মুখোমুখি হয়ে কার্যত অন্য কথা বললেন তিনি। অভয়ার মায়ের কথায়, আদালতের উপর তাঁদের ভরসা আছে। তাঁরা জানেন, আদালতে বিচার মিলবে, শুধু সুবিচার পাওয়া রাজনীতিতে যোগের উদ্দেশ্য নয়। অভয়ার মায়ের কথায়, বাংলায় নারী নিরাপত্তা সুনিশ্চিত করা, শিক্ষা ব্যবস্থা উন্নত করাই তাঁর লক্ষ্য। কারণ, শিক্ষিত না হলে কারও শাসকের চোখে চোখ রেখে প্রশ্ন করার সাহস হয় না।
আরও পড়ুন:


আর জি কর কাণ্ডের পর পেরিয়েছে দেড়বছর। স্বাভাবিকভাবেই মেয়েকে হারানোর ক্ষত এখনও টাটকা। এদিনও মেয়ের কথা বলতে গিয়ে চোখ ভিজল বৃদ্ধ দম্পতির। তবে চোয়াল শক্ত। লক্ষ্যে অবিচল অভয়ার বাবা-মা, দু’জনই। বললেন, “আমার মেয়ে ডাক্তার ছিল। স্বাস্থ্যমন্ত্রীর দায়িত্ব ছিল ওকে সুরক্ষা দেওয়া। সুরক্ষা দিতে পারেননি, বিচার দেননি। এই তৃণমূলকে উপরে ফেলতেই হবে।” যদিও এক্ষেত্রে প্রশ্ন উঠে যায় শাসককে ‘উপড়ে ফেলার’ অভিপ্রায়ে কোথাও কি সুবিচারের মূল উদ্দেশ্য চাপা পড়ে যাচ্ছে না?
অভয়ার মায়ের রাজনীতিতে যোগ কি ভালোভাবে নেমে আমজনতা? প্রশ্ন তুলতেই অভয়ার মায়ের চোখে মুখে দেখা গেল আত্মবিশ্বাস। তিনি বলেন, “বিশ্বের মানুষ আমার মেয়েকে নিজের সন্তান মনে করেন। বাংলা নিজের মেয়ের বিচার চায়। পানিহাটি তথা বাংলাবাসী পাশে থাকবে আমার। যে দলটা দুর্নীতি, চুরিতে যুক্ত তাঁদের মূল উৎপাটন করতেই হব। তাহলেই বাংলার পরিস্থিতি উন্নত হবে। আর তৃণমূলকে উৎখাত করার ক্ষমতা একমাত্র রয়েছে ভারতীয় জনতা পার্টির।”
অভয়ার জন্য পথে নেমেছিল গোটা বাংলা। বিশ্ববাসী বিচার চেয়েছিল। এই পরিস্থিতিতে অভয়ার মায়ের রাজনীতিতে যোগ কি ভালোভাবে নেবে আমজনতা? আদৌ মানুষ সমর্থন করবে? প্রশ্ন তুলতেই অভয়ার মায়ের চোখে মুখে দেখা গেল আত্মবিশ্বাস। তিনি বলেন, “বিশ্বের মানুষ আমার মেয়েকে নিজের সন্তান মনে করেন। বাংলা নিজের মেয়ের বিচার চায়। পানিহাটি তথা বাংলাবাসী পাশে থাকবে আমার। যে দলটা দুর্নীতি, চুরিতে যুক্ত তাঁদের মূল উৎপাটন করতেই হব। তাহলেই বাংলার পরিস্থিতি উন্নত হবে। আর তৃণমূলকে উৎখাত করার ক্ষমতা একমাত্র রয়েছে ভারতীয় জনতা পার্টির।” এখানেই প্রশ্ন, সুবিচার প্রসঙ্গে তৃণমূলকে নিয়ে যদি প্রশ্ন তুলতে হয়, একই অভিযোগে তো বিদ্ধ বিজেপিও। কারণ, আর জি কর কাণ্ডের তদন্তভার রয়েছে সিবিআইয়ের হাতে। তাহলে কীভাবে সেই বিজেপির হাত ধরার সিদ্ধান্ত? অভয়ার বাবার যুক্তি, “আমি মামলা সংক্রান্ত কাগজ পেয়েছি সিবিআইয়ের কাছ থেকে, তাতে দেখা গেছে যিনি আইও (তদন্তকারী আধিকারিক) হয়ে বাংলায় এসেছেন, তিনি এসেই বিক্রি হয়ে গিয়েছেন ধুরন্ধর রাজ্য সরকারের কাছে। সিবিআই কেন্দ্রের অধীনে থেকে কাজ করে, সরকারের নিয়ন্ত্রণে নয়।” অর্থাৎ কৌশলে বিজেপিকে ক্লিনচিট দিয়েছেন তাঁরা।


অভয়ার মা শুরুতেই জানিয়েছিলেন, মেয়ের সুবিচার মেলেনি। তাই বিচারের আশায় রাজনীতিতে আসার সিদ্ধান্ত। এই প্রসঙ্গেই প্রশ্ন তোলা হয়েছিল, যদি দল শেষ পর্যন্ত প্রার্থী করে তাঁকে, যদি জিততে পারেন, তাহলে বিধায়ক হিসেবে তাঁর মূল দায়িত্ব কি হবে মেয়ের বিচার আনা? কারণ, বিধায়কের আরও বহু দায়িত্ব। জবাবে কার্যত ‘ডিগবাজি’ খেলেন অভয়ার মা। এদিন তিনি বলেন, মেয়ের বিচারের জন্য রাজনীতিতে আসার প্রয়োজন ছিল না। বিচার আদালতেই মিলবে। তিনি বাংলার মেয়েদের সুরক্ষা দিতে চান। তাঁর বুকে মশাল জ্বলছে।
আর জি কর আন্দোলনের অন্যতম মুখগুলোর মধ্যে একজন কলতান দাশগুপ্ত। সেই সময় জেলেও যেতে হয়েছিল তাঁকে। পরবর্তীতেও নিয়মিত অভয়ার পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ রাখেন তিনি। এবার পানিহাটি আসনে বামেদের প্রার্থী তিনি। ওই আসনেই লড়াই করবেন বলছেন অভয়ার মা। কীভাবে সন্তানসম কলতানের বিরুদ্ধে কথা বলবেন? প্রশ্ন উঠতেই অভয়ার মা বললেন, ‘আমার মেয়ে যা কষ্ট পেয়েছে, তার কাছে এটা কিছুই না। আমি আজও ওর আর্তনাদ শুনতে পাই।’ অভয়ার মা বুঝিয়ে দিলেন, নিজের মেয়ের সঙ্গে অন্যায় হয়েছে, কিন্তু বাংলার প্রতিটি মেয়ের পাশে তিনি থাকবেন, অতন্দ্র প্রহরীর মতো।
আরও পড়ুন:
এই বিষয়ে আরও খবর
সর্বশেষ খবর
