বাম আমলের শিল্পখরার ধারাই যেন অব্যাহত ছিল তৃণমূলের ১৫ বছরের শাসনকালে। তবে ছাব্বিশের নির্বাচনে ক্ষমতার পালাবদলের পরই শিল্পের প্রসারে নজর বিজেপি সরকারের। আর সে কারণে পুজোর আগেই বাংলায় শিল্পনীতি তৈরি হবে বলেই জানান মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। বুধবার মিলন মেলায় জমি বিতরণের অনুষ্ঠানে দাঁড়িয়ে বুদ্ধদেব ভট্টাচার্যের প্রশংসাও করলেন তিনি।
মুখ্যমন্ত্রী বলেন, “বুদ্ধদেব ভট্টাচার্য কিছুটা চেষ্টা করেছিলেন, কিন্তু তাঁর দল খুব নেতিবাচক ছিল শিল্পায়নের বিষয়ে। আর মমতার নেতিবাচক রাজনীতির কারণেই সিঙ্গুর থেকে টাটারা চলে গিয়েছিলেন।” তৃণমূল সরকারের তীব্র নিন্দা করে তিনি আরও বলেন, “আগের সরকারে আমি কিছুদিন ছিলাম। সবকিছুই নেগেটিভ ছিল। শুধু ভাতা। সারাদেশ বলছিল আমরা আত্মনির্ভর ভারত হব, আর পশ্চিমবঙ্গ বলছিল আমরা ভাতা নির্ভর হব। শিল্পস্থাপনে আগের সরকার ইনসেন্টিভ শব্দই মুছে দিয়েছিল। এখন সরকার ৫ হাজার কোটি টাকার ছোট তহবিল করেছে।”
আরও পড়ুন:
বলে রাখা ভালো, ২০০৮ সালের ৩ অক্টোবর সিঙ্গুর ছাড়তে বাধ্য হয়েছিল টাটা। আক্ষেপ নিয়েই বাংলা ছেড়েছিলেন প্রয়াত শিল্পপতি রতন টাটা। আজও বাংলার মানুষ সেই ক্ষত ভুলতে পারেননি। কারণ শিল্প চলে গেলে শুধু একটি কোম্পানি যায় না, হারিয়ে যায় হাজার হাজার চাকরি, থমকে যায় উন্নয়ন, অন্ধকার নামে যুবসমাজের ভবিষ্যতের উপর। বিজেপি বিশ্বাস করে – বাংলার উন্নয়নের একমাত্র পথ শিল্পায়ন। তাই বাংলায় আবার টাটাকে ফেরানোর দায়িত্ব নিয়েছে বিজেপি।
এদিকে, বুধবার ৬০ হাজার কোটি টাকা বিনিয়োগে ৩৩টি শিল্পসংস্থাকে জমি বিতরণ করা হয়। এই জমিতে ফার্মা, স্টিল, ফুড প্রসেসিং, বস্ত্রশিল্প, ইঞ্জিনিয়ারিং-সহ নানা শিল্প তৈরি হবে। তাতে ৬২ হাজার কর্মসংস্থান হতে পারে বলেই দাবি মুখ্যমন্ত্রীর। এছাড়া রাজ্যে আরও শিল্প সম্ভাবনার কথাও এদিন জানান তিনি। আম্বানিরা স্বাস্থ্য-সহ মোট ৬টি সেক্টরে কাজ করতে চান বলেই জানান মুখ্যমন্ত্রী। বলে রাখা ভালো, ইতিমধ্যেই রাজ্যে এসেছেন গৌতম আদানি। বৃহস্পতিবার বঙ্গে একাধিক কর্মসূচি রয়েছে তাঁর। সকালে কালীঘাটে পুজো দেবেন। তারপর হাসপাতালের ভূমিপুজো হবে। এই হাসপাতাল তৈরির ফলে স্বাস্থ্যব্যবস্থার উন্নয়ন থেকে বেকার যুবক যুবতীদের কাজের সুযোগ বৃদ্ধি – সবই হবে বলেই আশা।
আরও পড়ুন:
সর্বশেষ খবর
